ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা রোববার ৩১ মে ২০২০ ১৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭
ই-পেপার রোববার ৩১ মে ২০২০

ডাকসু সদস্য সৈকতের উদ্যোগ
‘ক্ষুধার্ত মানুষের দিকে তাকালে বুক ফেটে যায়’
মুনিফ আম্মার
প্রকাশ: শুক্রবার, ২৭ মার্চ, ২০২০, ৮:১১ পিএম আপডেট: ২৭.০৩.২০২০ ৮:২১ পিএম | অনলাইন সংস্করণ  Count : 453

‘একদিক থেকে খাবার বিতরণ শুরু করি। একটা সময় ফুরিয়ে যায়। তারপর যে মানুষটির হাত একমুঠো খাবার পাওয়ার জন্য আমার সামনে, তার চোখের দিকে আর তাকাতে পারি না। ক্ষুধার্ত অসহায় মানুষগুলোর দিকে তাকালেই কষ্টে বুক ফেটে যায়’- কথাগুলো বলতে গিয়েই কণ্ঠ ভারী হয়ে আসে ছেলেটার। একটু দম নেন। বড় দীর্ঘশ্বাস নিয়ে আবার বলতে থাকেন।

শুক্রবার বিকেলে যখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের সদস্য তানভীর হাসান সৈকতের সঙ্গে কথা হচ্ছিলো, তখনও টিএসসির সামনে বড় চুলায় রান্না হচ্ছে। রাতে এইসব খাবার প্যাকেট করে বিতরণ করা হবে ছিন্নমূল ও নিম্ন আয়ের মানুষদের মাঝে।

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে ২৬ মার্চ থেকে সরকার সারাদেশে জনসাধারণের চলাচল সীমিত করেছে। তারপর থেকে ঢাকার চিত্র পাল্টে গেছে। ফাঁকা হয়ে গেছে চারপাশ। দোকানপাটও খোলা নেই বললেই চলে। চলছে না যানবাহনও। এমন পরিস্থিতিতে ঢাকায় থাকা নিম্ন আয়ের মানুষরা খাদ্য সংকটে পড়েছে সবচেয়ে বেশি। তাদের কথা মাথায় রেখেই সৈকত নিজ উদ্যোগে শুরু করেছে খাদ্য বিতরণ কর্মসূচি।

লক্ষ্মীপুরের সন্তান সৈকত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের থিয়েটার অ্যান্ড পারফর্মিং আর্টসের মাস্টার্সে পড়ছেন। জসীম উদ্দীন হলের আবাসিক ছাত্র হল বন্ধ হয়ে যাওয়ার থাকার জায়গাও হারিয়েছেন। প্রথমরাত কাটিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মসজিদে। ফাঁকা ঢাকায় বের হয়ে ক্ষুধার্ত মানুষের চিত্র দেখতে পেয়ে নিজেকে আর থামাতে পারেননি। একপ্রকার ঝুঁকি নিয়েই শুরু করে দিলেন খাবার বিতরণের এই কাজ।

সৈকত জানান, প্রথমদিন ঢাকায় পরিবার নিয়ে অবস্থানরত নিম্ন আয়ের মানুষদের মাঝে চাল, ডাল, আলুসহ শুকনা খাবারের প্যাকেট বিতরণ করেন। ২শ মানুষকে খাবার দিতে গিয়ে দেখেন, আরও অসংখ্য মানুষ খাবারের জন্য ব্যাকুল হয়ে আছে। তারপর থেকে কলেবর বাড়ালেন। যাদের রান্না করার কোনো উপায় নেই, তাদের জন্য রান্নার ব্যবস্থা করেছেন। টিএসসির সামনে প্রতিদিন সৈকতের উদ্যোগে রান্না হয়। রাতে সৈকত কয়েকজনকে সাথে নিয়ে সৈকত সেসব খাবার বিতরণ করেন।

অর্থের যোগান প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ছাত্রলীগের এ নেতা বলেন, প্রথমদিনতো নিজের পকেটে যা ছিলো তা দিয়েই শুরু করেছি। কয়েকজন বড় ভাই, টিএসসির স্টাফরাও সহযোগিতা করেছেন। তারপর কাছের কয়েকজন মানুষ পাশে দাঁড়িয়েছে। বন্ধুরাও কয়েকজন সঙ্গী হয়েছেন এ উদ্যোগে। ঢাবির কয়েকজন শিক্ষক এ খবর জানতে পেরে সৈকতকে খাবার বিতরণে সহযোগিতা করেছেন।

প্রতিদিন প্রায় ১০ হাজার টাকার রান্না ও খাবার বিতরণ করেন সৈকত। হাতিরপুল, আজিমপুর, শাহবাগ ও গুলিস্তানে এ যাবত খাবার দিয়েছেন। ঘুরে ঘুরে ঢাকার বিভিন্নস্থানে তিনি খাবার পৌঁছে দিতে চান।

সৈকতের এ কাজে সহযোগিতা করছেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চটপটির দোকান ও চায়ের দোকানের শ্রমিকরা। সামান্য বেতনে তারা স্বাচ্ছন্দ্যে কাজ করছেন বলে জানান এ ছাত্রনেতা। তিনি মনে করেন, দেশের ক্রান্তিকালে ডাকসু সবসময় পথ দেখিয়েছে, মানুষের পাশে অকাতরে দাঁড়িয়েছে। করোনার মতো এই কঠিন সময়ে ডাকসু না মানুষের পাশে না দাঁড়ালে নিজের বোধের কাছে দায়বদ্ধ থেকে যাবেন তিনি। কেউ আসুক বা না আসুক তিনি তার উদ্যোগ চালিয়ে যেতে চান।

সময়ের আলোকে তিনি বলেন, আমার মনে হয়, মাত্র ১ লাখ টাকা হলেই এ শহরে খেটে খাওয়া, অসহায় মানুষদের একবেলা অন্তত খাওয়ানো সম্ভব। ওদের চাহিদা খুব বেশি না। একবেলা খেয়েও তারা দিন পার করে দিতে পারে। আমার একার পক্ষে সারাদেশের সব দরিদ্র মানুষকে খাওয়ানো সম্ভব না। এটা একটা সামাজিক আন্দোলন। দেশের সব জেলায় বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজের শিক্ষার্থীদের এই মুহূর্তে এগিয়ে আসা উচিত। তাহলে অন্তত কিছু মানুষ খাবারের কষ্ট থেকে মুক্তি পাবে।

প্রসঙ্গত, এর আগে শিক্ষার্থীদের আবাসন সমস্যা দূর করতে নিজের রুম ছেড়ে গণরুমে থাকতে শুরু করেন সৈকত। তার এমন অভিনব প্রতিবাদে সেসময় প্রশংসা কুড়ান তিনি।

অর্থ অনুদানের চাইতেও চাল, ডাল, তেল কিংবা খাদ্য পণ্য অনুদানের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। তবে কেউ অর্থ দিতে চাইলে সে সুযোগও আছে। সেজন্য ০১৬৮৪-০২৩৪১১ (রকেট) ও ০১৬৭৫-২২৮৬৬৫ (বিকাশ) নাম্বারে সহযোগিতা করা যাবে।




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]