ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা শুক্রবার ৫ জুন ২০২০ ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭
ই-পেপার শুক্রবার ৫ জুন ২০২০

ফাঁকা ঢাকায় নতুন কৌশলে ছিনতাই
মোস্তফা ইমরুল কায়েস
প্রকাশ: শনিবার, ২৮ মার্চ, ২০২০, ১১:১৫ পিএম আপডেট: ২৮.০৩.২০২০ ১:২৩ এএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 475

বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১০টা। অফিস শেষ করে কারওয়ান বাজার থেকে ফার্মগেটের দিকে যাচ্ছিলেন মোটরসাইকেল আরোহী সাহাদাত পারভেজ। কিছু দূর যাওয়ার পর লক্ষ করলেন স্টার হোটেলের সামনে একটু ভিড় জমেছে। একটি মাইক্রোবাস রাস্তায় আড়াআড়ি হয়ে পড়ে আছে। সেটির পাশে কয়েকজন লোক এক ট্রাকওয়ালার সঙ্গে তর্ক করছে। এরই মাঝে একটু ফাঁক দেখে পারভেজ সেটি দিয়ে ফার্মগেটের দিকে চলে যাওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু দুজন যুবক পেছন থেকে এসে তাকে বাধা দেয় এবং মোটরসাইকেল থেকে নামতে বলে। পারভেজের মনে কেন জানি খটকা লাগে। এত রাতে কেন তাকে নামতে বলা হচ্ছে? আশপাশ তো কোনো ট্রাফিক পুলিশ সদস্যও নেই। তিনি ছিনতাইয়ের শিকার হতে যাচ্ছেন বিষয়টি দ্রুত আঁচ করতে পেরে মোটরসাইকেল সজোরে টান দেন। এভাবে নিজেকে ছিনতাইয়ের হাত থেকে রক্ষা করেন তিনি। পারভেজ একটি দৈনিকের ফটো চিফ হিসেবে কর্মরত আছেন। শুধু পারভেজই নয়, জনশূন্য ঢাকার সুযোগ নিয়ে ছিনতাইকারী এখন বেশ সক্রিয় হয়ে উঠেছে। তারা ছিনতাইয়ের ধরন বদলে ভিন্ন কায়দায় ছিনতাই করছে। খোলামেলা ফাঁকা রাস্তা, মেট্টোরেলের কাজ করার কারণে আঁকাবাঁকা হয়ে যাওয়া মোড় ও ফ্লাইওভারের সড়কে সুতো বেঁধেও ছিনতাইয়ের চেষ্টা করছে বলে অনুসন্ধানে জানা গেছে। শুধু ফার্মগেট এলাকার স্টার হোটেলের সামনেই নয়, এমন ঘটনা অনেক রাস্তায় ঘটছে। কিন্তু অনেক ঘটনাই থেকে যাচ্ছে অজানা।
ছিনতাই থেকে বেঁচে যাওয়া সাহাদাত পারভেজ সময়ের আলোকে বলেন, তারা যখন বাধা দিচ্ছিল তখনই সন্দেহ হয় এবং মনে হচ্ছিল আমি আজ ছিনতাইয়ের শিকার হতে যাচ্ছি। এটি মনে হওয়ার পরই দ্রুত মোটরসাইকেল টান দেই। তবে তাদের বেশভুষা  দেখে মনে হয়েছে তারা অভিজাত ঘরের। ঢাকার রাস্তায় লোকজন কম থাকায় এভাবেই সুযোগ নিচ্ছে অপরাধীরা।
তেজগাঁও থানার ওসি (তদন্ত) কামাল হোসেন সময়ের আলোকে জানান, গত কয়েক মাসে ওই থানা এলাকায় শতাধিক ছিনতাইকারী ধরা হয়েছে। আমাদের টহল টিমগুলো রাতে নজর রাখে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়া হচ্ছে।
পারভেজ জনশূন্য ঢাকায় এমন অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হলেও ব্যবসায়ী ইসহাক আলীর অভিজ্ঞতা একটু ভিন্ন। বুধবার রাত ১০টা। যাত্রাবাড়ী ফ্লাইওভার ব্যবহার করে ধোলাইপাড়ের দিকে যাচ্ছিলেন ইসহাক আলী। নিজেই মোটরসাইকেলে চালাচ্ছিলেন। আর মাত্র ৪০০ গজ সামনের পথ। তাহলে মিলবে ধোলাইপাড় ফ্লাইওয়ার টোলপ্লাজা। কিন্তু হঠাৎ আঁচ করতে পারলেন, তার গলায় রশির মতো একটি জিনিস আটকে গেল এবং তিনি মোটরসাইকেল থেকে ছিটকে পড়ে গেলেন ফ্লাইওভারের ওপরে। মোটরসাইকেলটি পাঁচ গজ সামনে গিয়ে পড়ল। এ দৃশ্য দেখে টোলপ্লাজার কর্মীরা দ্রুত ছুটে এলেন এবং তাকে উদ্ধার করে মোটরসাইকেলটিও রাস্তা থেকে তুললেন তারা। পরে লক্ষ্য করলেন, যে জিনিসটিতে বাধা পেয়ে তিনি ছিটকে পড়েছেন সেটি আসলেই একটি প্লাস্টিকের রশি এবং
ফ্লাইওভারের নিচ দিয়ে চারজন যুবক দৌড়ে পালাচ্ছে। তখন ইসহাক আলী বুঝতে পারলেন তিনি ছিনতাইয়ের কবল থেকে রক্ষা পেলেন। এভাবে অভিনব পদ্ধতি ব্যবহার করে এখন ফ্লাইওভারগুলোর ঢালে সক্রিয় থাকছে ছিনতাইকারীরা। তারা প্লাস্টিকের রশি ফ্লাইওভারের রাস্তা বরাবর টেনে দিচ্ছে। তারপর লুকিয়ে থাকছে। সেই রাস্তা ব্যবহার করে কোনো মোটরসাইকেল আরোহী যাওয়ার চেষ্টা করলেই ছিটকে পড়ছে এবং তারা এই সুযোগে মোটরসাইকেলটি নিয়ে সটকে পড়ছে।
বর্তমানে ঢাকার শান্তিনগর, রাজারবাগ, বাংলামোটর, মহাখালী, কুড়িল, যাত্রাবাড়ী, ধোলাইপাড়, রামপুরা, মিরপুর ফ্লাইওভার সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা করোনা নিয়ন্ত্রণে ব্যস্ত থাকায় ছিনতাইকারীরা মোড়, সড়ক, অলিগলি ও ফাঁকা রাস্তায় এমন ঘটনা ঘটাচ্ছে বলে জানা গেছে। দুয়েকটি ঘটনা গণমাধ্যম ও পুলিশের নজরে এলেও বাকিগুলো প্রকাশ পাচ্ছে না। এ ছাড়াও ছিনতাইয়ের শিকার ব্যক্তিদের অনেকে পুলিশি ঝামেলা এড়াতে মুখ খুলছেন না। তবে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া শাখার উপকমিশনার মাসুদুর রহমান দাবি করেন, রাজধানীতে গত কয়েকদিনে অপরাধ হ্রাস পেয়েছে। কোনো প্রকার ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটছে না। এমন ঘটনা ঘটবে বর্তমানে সেই পরিস্থিতিও নেই। পুলিশ ২৪ ঘণ্টা কাজ করছে। তবে ঢাকা মহানগর পুলিশ জানিয়েছে, সব এলাকায় সার্বক্ষণিক পুলিশ টহল রয়েছে। এর মধ্যে কোনো অপরাধ সংঘটিত হওয়ার সুযোগ নেই। সন্দেহভাজন কাউকে মাস্ক পরা দেখলে তাদের জেরার মুখে পড়তে হবে।









এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]