ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা রোববার ৩১ মে ২০২০ ১৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭
ই-পেপার রোববার ৩১ মে ২০২০

সরকারি নির্দেশনা অমান্যের অভিযোগ
‘সামাজিক দূরত্বের নামে এ কী কাণ্ড’
আলমগীর হোসেন
প্রকাশ: শনিবার, ২৮ মার্চ, ২০২০, ১১:১৫ পিএম আপডেট: ২৮.০৩.২০২০ ১:১৮ এএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 312

বিদ্যমান ভয়ঙ্কর করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে নানাভাবে সামাজিক, মানবিক ও আইনি দায়িত্ব পালন করছে পুলিশ। হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকা মানুষদের বাসাবাড়িতে ফলসহ নানা পণ্যসামগ্রী পৌঁছে দিচ্ছে। কিন্তু এর মাঝেই একশ্রেণির পুলিশ সদস্য করোনায় সামাজিক দূরত্বের নামে বাড়াবাড়ি করছে বলেও ব্যাপক অভিযোগ উঠেছে। অনেক এলাকায় জরুরি প্রয়োজনে রাস্তাঘাটে বের হলে কোনো কথা না শুনেই নাগরিকদের নির্বিচারে লাঠিপেটা করছে পুলিশ।
অভিযোগ রয়েছেÑ খাবারের হোটেল ও নিত্যপ্রয়োজনীয় দোকানপাট বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে। কৃষিপণ্য বা পচনশীল পণ্যের কেনাবেচা ও এসব পণ্যবাহী গাড়ি চলাচলেও বাধা সৃষ্টির খবর শোনা যাচ্ছে। এমনকি বিভিন্ন অঞ্চলের গ্রাম পর্যায়ের বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় দোকানপাট ও খাবারের দোকানগুলোও খুলতে দেওয়া হচ্ছে না।
এ বিষয়ে ইতোমধ্যেই শুক্রবার তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদও পুলিশকে বাড়াবাড়ি না করে সরকারি নির্দেশনা মেনে চলার কথা বলেছেন।
ভুক্তভোগীরা বলছেন, সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে একশ্রেণির পুলিশ নিজের মতো করে নির্দেশনা দিচ্ছে। সরকারি নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও খাবার দোকান খোলা রাখতে দিচ্ছে না পুলিশ। নানা অজুহাত ও গ্রেফতারের ভয় দেখিয়ে বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে খুলে রাখার নির্দেশনাপ্রাপ্ত দোকানপাটগুলো।
গত বুধবার থেকেই রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে করোনা নিয়ে সামাজিক দূরত্বের নামে পুলিশের লাঠিপেটাসহ নানা বাড়াবাড়ির খবর পাওয়া যায়। অবশ্য এর মাঝে নির্ধারিত দায়িত্বের বাইরেও অনেক মানবিক কাজ করতেও দেখা গেছে পুলিশকে। তবে কিছু  পুলিশ সদস্যের মারমুখী আচরণে জনমনে সৃষ্টি হয়েছে চরম ক্ষোভ।
এ প্রসঙ্গে পুলিশ সদর দফতরের এআইজি (মিডিয়া) মো. সোহেল রানা সময়ের আলোকে বলেন, বিচ্ছিন্নভাবে কিছু অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। তবে পুলিশ সেটা একেবারেই প্রশ্রয় দিচ্ছে না। সারা দেশে মাঠপর্যায়ে যেসব পুলিশ সদস্য কাজ করছেন তাদের কঠোর নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে, যাতে করে নাগরিকদের সঙ্গে বিনয়ের সঙ্গে, পেশাদার আচরণ করা হয়। তাদের বোঝানো হয় করোনাভাইরাসের পরিস্থিতি এবং সচেতনতা সম্পর্কে। তারপরও পুলিশের কোনো কোনো সদস্য এসব ঘটনা ঘটাচ্ছে তা শনাক্ত করে ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট এলাকার ইউনিটপ্রধানদের বলা হয়েছে।
এআইজি সোহেল রানা বলেন, কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটলেও সারা দেশে পুলিশ সদস্যরা নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে করোনা সংক্রমণ রোধে জনসাধারণের জন্য নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। ফলে জনসাধারণকেও সরকারের নির্দেশনা মেনে সচেতন থেকে করোনামুক্ত থাকার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। জনসমাগম ও অপ্রয়োজনে বাইরে ঘোরাফেরা না করার জন্য আহ্বান জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা।
রাজধানীর মগবাজার এলাকার বাসিন্দা এনামুল হক বলেন, গত বৃহস্পতিবার সকালে তিনি খাবার কেনার জন্য মগবাজার মোড়ে যান। এ সময় তিনি দেখেন সব হোটেল-রেস্তোরাঁ বন্ধ। এমন সময় টহল পুলিশও আসে সেখানে। এসেই কয়েকজনকে কোনো প্রশ্ন ছাড়াই লাঠিপেটা করে তাড়িয়ে দেয়। তিনিও পরিস্থিতি দেখে খাবার না কিনেই দৌড়ে পালিয়ে যান।
কেবল মগবাজার এলাকায় নয়, রাজধানীর আরও অনেক এলাকায় অলিগলিতে গিয়েও যাকে যেভাবে পেয়েছে পুলিশ সদস্যরা তাদের লাঠিচার্জ বা ধাওয়া দিয়েছে। অনেকে জীবন রক্ষাকারী ওষুধ কিনতেও যেতে পারেননি। এমনকি ওষুধের দোকানি বা নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীর দোকানি তার দোকানে যেতে গিয়েও লাঞ্ছিত হয়েছেন অনেক স্থানে। এ ছাড়া গ্রামাঞ্চলেও প্রায় অভিন্ন অভিযোগ শোনা গেছে। অধিকাংশ পুলিশ সদস্য যেখানে করোনা পরিস্থিতিতে সামাজিক ও মানবিক কাজে ব্যস্ত সেখানে একশ্রেণির পুলিশ সদস্যের এমন কাণ্ডে বিব্রত অনেকেই। তবে লাঠিপেটা বা টহলে আসা পুলিশ সদস্যের অনেকেরই ভাষ্য, জনসমাগমের মাধ্যমে করোনা সংক্রমণ ব্যাপক বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কায় অপ্রয়োজনীয় দোকানপাট ও সংঘবদ্ধ চলাচল বন্ধ করা হচ্ছে।
গত বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই বিভিন্ন স্থানে চলে পুলিশের এই তৎপরতা। রাজধানীর মহাখালী, ফার্মগেট, নিউমার্কেট, পুরান ঢাকা, ধানমন্ডি, গুলশান, মিরপুর ও মোহাম্মদপুরসহ বিভিন্ন এলাকার খাবারের দোকানগুলো বন্ধ করে দেয় পুলিশ। এসব দোকান বন্ধ না করলে গ্রেফতার করার হুমকিও দেওয়া হয়।
গত ২৫ মার্চ বুধবার নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যবাহী যানবাহন ও বিক্রয় প্রতিনিধিকে অবাধে চলতে দেওয়ার নির্দেশনা দিয়ে পুলিশের আইজিপি ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সচিবকে চিঠি দিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।
ওই চিঠিতে বলা হয়, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যবাহী যানবাহন চলাচলের পাশাপাশি বিক্রয় প্রতিনিধির চলাচলে সহায়তা প্রদানে নির্দেশনাক্রমে অনুরোধ করা হলো। তবে এরপরও তাদের অবাধে চলাচলে বাধা দেওয়ার কথা শোনা যাচ্ছে।
অন্যদিকে ২৫ মার্চ কৃষি মন্ত্রণালয়ের সার ব্যবস্থাপনা ও মনিটরিং অধিশাখার উপপ্রধান শেখ বদিউল আলম বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক, ইউএনও, উপজেলা কৃষি অফিসার বরাবর চিঠি পাঠান। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, পণ্য হিসেবে রাসায়নিক সার ও অন্যান্য কৃষিজাত পণ্য-উপকরণ, ব্যবসায়ের সঙ্গে জড়িতদের পণ্য পরিবহন ক্রয়-বিক্রয় যাতে কোনোরূপ অসুবিধা না হয় সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো। তবে দেশের বিভিন্ন স্থানে পণ্য পরিবহন ও বিক্রিতে পুলিশের বাধা দেওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
মন্ত্রিপরিষদ সচিবের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী ১০ দিনের ছুটিসহ দেশবাসীকে ১০টি নির্দেশনা দেন। ওই নির্দেশনায় ২৬ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত ছুটি ঘোষণা করা হয়। এতে আরও উল্লেখ ছিল, ‘কাঁচাবাজার, খাবার, ওষুধের দোকান, হাসপাতালসহ জরুরি যেসব সেবা রয়েছে সেসব এর আওতাভুক্ত হবে না।’










সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]