ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা রোববার ৩১ মে ২০২০ ১৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭
ই-পেপার রোববার ৩১ মে ২০২০

করোনা নিয়ে একশ্রেণির চক্র গুজব ছড়াচ্ছে
সবার সতর্কতা অবলম্বন প্রয়োজন
সাব্বির আহমেদ
প্রকাশ: শনিবার, ২৮ মার্চ, ২০২০, ১১:১৫ পিএম আপডেট: ২৮.০৩.২০২০ ১:২২ এএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 225

কোভিড-১৯ ভাইরাস জ্বরে আক্রান্ত গোটা বিশ^। এ থেকে রেহাই নেই বাংলাদেশেরও। এ প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসে দেশে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৭-এ। এ যখন অবস্থা, তখন করোনাকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুতই ছড়াচ্ছে গুজব। ক্ষণিকের মধ্যেই যার ডালপালা বিস্তার হচ্ছে শহর থেকে প্রত্যন্ত গ্রামে। বিশ^ব্যাপী যেখানে সব উন্নত দেশ ব্যর্থ করোনাভাইরাসের টিকা উদ্ভাবন করতে, সেখানে বাংলাদেশে প্রতিনিয়ত আবিষ্কৃত হচ্ছে করোনার প্রতিষেধক। এমনই উদ্ভট ও বিভ্রান্তিকর তথ্য দিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ছড়াচ্ছে একদল লোক। গুজবে সহজে প্রতারিত ও বিভ্রান্তিতে পড়ছে গ্রামের মানুষ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেক পরিচিত হুজুরকেও করোনা নিয়ে গুজব ছড়াতে দেখা গেছে। তবে এদের রাশ টানা গেছে অনেকটা।
করোনায় আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যার সঙ্গে বাড়ছে গুজবের সংখ্যাও। থানকুনি থেকে আমপাতা ও চায়ের পাতা, আদা-রসুনÑ এ ভাইরাসের প্রতিষেধক, এমন প্রচারণা চালানো হচ্ছে। আর এতে দ্রুত ছড়িয়ে যাচ্ছে গুজব। তবে এর বিস্তার ঠেকাতে আজান দেওয়ার গুজবও ছড়ানো হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার রাতে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে যুগপৎভাবে আজান প্রচারিত হয় এমন খবর ছড়িয়ে পড়ে ফেসবুকে। পরে কিছু জায়গায় এ খবরের সত্যতাও পাওয়া যায়। কারণ হিসেবে জানা যায়, আজানের মাধ্যমে দূর হতে পারে সব বালা-মসিবত। কিছু জায়গায় আজানের পর মিছিল করে গণজিকিরও বের করা হয়। রাতে নামাজের ওয়াক্ত ছাড়া হঠাৎই আজানের এমন সিদ্ধান্ত আসল কীভাবে? জানতে ইসলামিক ফাউন্ডেশন জানায়, এমন কোনো নির্দেশনা তারা দেননি। একযোগে আজান দেওয়ার খবর তারাও শুনেছেন। গুজবরোধে সচেতনতা বাড়াতে তারাও কাজ করছেন।
রাতেই নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলায় করোনা থেকে মুক্তির জন্য কয়েকশ মানুষ মিছিল করে জিকির করছেন। পরে মিছিলটি রাত ১টার একটু আগে সোনাদিয়া চৌরাস্তা থেকে চরচেঙ্গা বাজারের দিকে যাত্রা করে। এমন গণজিকিরের আওয়াজে ঘুম ভাঙলে, তিনি নিজেই ভিডিও ধারণ করেন বলে নোয়াখালী থেকে জানান এক গণমাধ্যমকর্মী।
তিনি বলেন, এলাকায় গুজব রটেছিল মিছিল করে নাকি গণজিকির করলে করোনাভাইরাস থেকে পরিত্রাণ যাওয়া যাবে!
বৃহস্পতিবার বিকাল থেকে গাইবান্ধা জেলায় গুজব ছড়িয়ে পড়ে গোলমরিচ, আদা ও কালিজিরা খেলে করোনাভাইরাস থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। এমন গুজব ছড়িয়ে পড়ে ধীরে ধীরে গ্রাম থেকে পাড়া-মহল্লায়। লোকজন গণহারে গোলমরিচ, আদা ও কালিজিরা খাওয়া শুরু করেন। এমনকি গ্রামের দোকানগুলোতে গোলমরিচ, আদা ও কালিজিরা কেনার হিড়িক পড়ে যায়।
ঘটনার কারণ হিসেবে জানা গেছে, কোনো এক গ্রামে একটি শিশু জন্মগ্রহণ করলে করোনাভাইরাসের ওষুধ হিসেবে তাকে গোলমরিচ, আদা ও কালিজিরা খাওয়ানো হলে তৎক্ষণাৎ শিশুটি মারা যায়। অনেকেই এটি বিশ^াস করে গোলমরিচ, কালিজিরা ও আদা খাওয়া শুরু করেন।
গেল মঙ্গলবার নাটোরসহ দেশের কয়েকটি জেলায় গুজব ছড়ায় ফ্রিজ ভাঙাকে কেন্দ্র করে। সেখানে বলা হচ্ছে করোনার কারণে ফ্রিজে কাঁচা মাছ, মাংস রাখলে বাড়ি গিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ফ্রিজ ভেঙে দিচ্ছে। বাস্তবে এর কোনো ভিত্তি ছিল না।
খোদ ঢাকায় গুজব রটে কুকুর-বিড়াল থেকে করোনাভাইরাস ছড়ায়Ñ এমন গুজবে প্রাণীপ্রেমিকরা রীতিমতো আঁতকে ওঠেন। ভড়কে গিয়ে অনেকেই পোষা কুকুর-বিড়াল দূরে অন্যত্র রেখে আসেন। শুধু তাই নয়, এ গুজবের জেরে প্রাণীপ্রমিকদের বাসা ছাড়তে বাধ্য করেন অনেক বাড়িওয়ালা। কারণ তাদের ঘরে বিড়াল আছে।
তবে বিশ^ স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, প্রাণী থেকে করোনাভাইরাস ছড়ায় না।  সরকার ইতোমধ্যেই করোনার গুজব ঠেকাতে মনিটরিং সেল গঠন করেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে করোনাভাইরাস নিয়ে গুজব ও ভুল তথ্য প্রচার হচ্ছে কি না, তা পর্যবেক্ষণ করতে কাজ করছে সরকারের একাধিক টিম।
গুজব নিয়ে ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের ক্রিমিনোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক জিয়া রহমান বলেছেন, শুধু বাংলাদেশ নয়, সারা দুনিয়াতেই মানুষ গুজবে একটু বেশিই আস্থা রাখে। রীতিমতো এসব নিয়ে চর্চাও হয়। কন্সপিরেসি থিওরি বা ষড়যন্ত্র তত্ত্ব নামে এ চিন্তা ও তৎপরতার চর্চা সারা দুনিয়াতে চলে। গত শতাব্দীতে মানুষের সব থেকে বড় অর্জনগুলোর একটি চন্দ্রবিজয় নিয়েও এ রকম হয়েছিল।
তার পরামর্শ, করোনাভাইরাসের সঙ্গে সঙ্গে গুজবের ব্যাপারেও সবাই যথেষ্ট সচেতন হতে হবে। সচেতনতা তৈরি করতে হবে। রোগ হলেই করোনা হয়েছে, এমন ধারণা থেকে নিজেকে দূরে রাখতে হবে। হুটহাট ফেসবুকে করোনাভাইরাস সংক্রান্ত তথ্য শেয়ার দেওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে।
আর গুজবে বিভ্রান্ত না হয়ে সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান-আইইডিসিআর ও বিশ^ স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য যাচাইয়ের আহ্বান জানিয়েছে।














সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]