ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা শুক্রবার ৫ জুন ২০২০ ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭
ই-পেপার শুক্রবার ৫ জুন ২০২০

রাতারাতি সাফল্য আশা করা যায় না : তামিম
ক্রীড়া ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ২৮ মার্চ, ২০২০, ১২:০০ এএম আপডেট: ২৮.০৩.২০২০ ৩:২৭ এএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 18


এক ক্রান্তিকাল পার করছে বিশ^। করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে ক্রীড়াঙ্গনও হয়ে পড়েছে স্থবির। মাঠে খেলা নেই, প্রাণঘাতী ভাইরাসের ভয়ে বেশিরভাগ মানুষই এখন ঘরবন্দি। ঘরবন্দি থেকেই জনপ্রিয় ক্রিকেট ওয়েবসাইট ক্রিকইনফোকে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন চলতি মাসের শুরুতে ওয়ানডেতে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের নেতৃত্বভার পাওয়া তামিম ইকবাল। তার মতে, বাংলাদেশের অধিনায়কত্ব করাটা খুব কঠিন কাজগুলোর একটি। তবে চ্যালেঞ্জটা নিচ্ছেন তিনি। সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, দল নিয়ে নিজের ভাবনা আর লক্ষ্যের কথা, সেগুলোই সময়ের আলোর পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলোÑ
হ আপনি কীভাবে (করোনা) মহামারীর সঙ্গে লড়াই করছেন এবং এমন দিনে বাড়িতে কী করছেন?
তামিম : আমি পুরোপুরিই লকডাউন আছি। আমি কারও সঙ্গে দেখা করছি না। এটি (আমাদের দেশে করোনার সংক্রমণ) এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে। সৌভাগ্যবশত আমার বাসায় ট্রেডমিল আছে। আমি সকালে দৌড়াই এবং দিনের বাকি সময়টা আমি আমার বাচ্চাদের সঙ্গে কাটাই। সারা বিশ^ এখন ভুগছে, তবে আমরা যদি জাতি হিসেবে লড়াই করতে পারি, আমি নিশ্চিত আমরা এই সমস্যা কাটিয়ে উঠতে পারব।
হ ওয়ানডের অধিনায়কত্ব গ্রহণের সিদ্ধান্ত নিতে কতটা সময় পেয়েছিলেন?
তামিম : দেখুন, আমাদের দলে দুই ধরনের তরুণ খেলোয়াড় আছে। প্রথমত কিছু আছে একেবারেই নতুন এবং কিছু আছে লিটন দাসের মতো, যারা চার-পাঁচ বছর ধরে খেলছে এবং পারফর্ম করতে শুরু করেছে। নতুন অধিনায়ককে এমন একজনের কাছ থেকে দায়িত্ব নিতে হবে, যে অনেক ভালো করেছে। তাই আমার ধারণা ছিল, সিনিয়র ক্রিকেটারদের কোনো একজনকেই অধিনায়কের দায়িত্ব নিতে বলা হবে এবং দলের কথা মাথায় রেখে তাকে সেটা নিতেও হবে।
হ অধিনায়ক হিসেবে কোন বিষয়টাকে শুরুতে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন?
তামিম : আমার প্রাথমিক পরিকল্পনাগুলোর বেশিরভাগই মাঠের বাইরে। মাঠে সবকিছু আপনি নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন না। তবে মাঠের বাইরের কিছু বিষয় যদি আপনি ঠিকঠাক করতে পারেন, মাঠের পারফরম্যান্সেও এর প্রভাব দেখা যাবে। আমি ধীরে ধীরে এগোতে চাই এবং আমি ওই ধরনের লোক নই, যে কেবল পরিকল্পনাতেই আটকে থাকবে। ধৈর্য সবার জন্যই গুরুত্বপূর্ণ, কারণ রাতারাতিই সাফল্য আশা করা যায় না।
হ বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দেওয়া, বিশেষ করে ওয়ানডেতে, যেটা দেশের সব থেকে কঠিন কাজগুলোর মধ্যেই পড়ে। আপনি কি একমত?
তামিম : আমি নিশ্চিত যে, বাংলাদেশের অন্যসব পেশায়ও এর থেকে কঠিন কাজ রয়েছে। তবে ক্রিকেটে এটি সম্ভবত সব থেকে চ্যালেঞ্জিং বিষয়। অধিনায়কত্বের সঙ্গে অনেক বিষয় থাকে। শুরুতে এটা আমার জন্য কঠিন হবে। কারণ, আমাকে প্রতিনিয়ত মাশরাফি (বিন মর্তুজা) ভাইয়ের সঙ্গে তুলনা করা হবে। তবে একজন অধিনায়ক এবং খেলোয়াড় হিসেবে নিজেকে এবং দলকে এগিয়ে নেওয়ার দিকেই দৃষ্টি থাকবে আমার, লোকে কী বলছে সেদিকে নয়। যদি আমাদের চিন্তাভবনা সঠিক পথে থাকে এবং নিজেদের কাজটা ঠিকভাবে করতে পারি, আমি বিশ^াস করি এই দলটাকে সামনে এগিয়ে নিতে পারব।
হ আপনি কি আপনার অতীতের সাফল্য বা ক্যারিয়ারের কঠিন সময়গুলো দারুণভাবে কাটিয়ে ওঠা থেকে অনুপ্রেরণা নিচ্ছেন?
তামিম : আসলে ২০১২ সালে কিংবা ২০১৫ বিশ^কাপের পর আমি যেভাবে ফিরে এসেছিলাম, সত্যিই কখনও ভাবিনি এভাবে ফিরে আসতে পারব। আমি আমার কাজের ওপর ফোকাস থেকেছি। সেখানে অনেক বিষয় ছিলÑ যেমন নেটে ভালো ব্যাটিং করা এবং নিজে ভালো বোধ করা, যেটা আমাকে বলে দিত পরিস্থিতি বদলাবে। আমার মনে হয়, নিজের প্রতি বিশ^াস থাকাতেই অনেক কিছু অর্জন করতে পেরেছি। কিছু ভালো বছর কাটিয়েছি, তবে আগামী বছরগুলোতে আমি আরও ভালো করতে চাই। আমি পেছনে তাকাতে পছন্দ করি না, এটা আমাকে সাহায্য করবে না। নিজেকে চ্যালেঞ্জের মধ্যেই রাখতে হবে আমাকে।
হ তারপরও অধিনায়ক হিসেবে আপনি নিশ্চয় ২০১৫ সালের দিকে ফিরে তাকাতে চাইবেন, তখন বাংলাদেশ এমন পরিস্থিতিতেই ছিলÑ
তামিম : বিশেষ করে ওয়ানডেতে ২০১৫ সালটা বাংলাদেশের ক্রিকেটের জন্য বাকবদলের বছর ছিল। আমাদের গ্রাফটা এখন কিছুটা নিম্নমুখী দেখাচ্ছে, আমি এটিকে ওপরের দিকে টেনে নিতে চাই। উত্থান-পতন সবসময়ই থাকে, তবে দল হিসেবে আমাদের স্থিতিশীল অবস্থায় ফিরতে হবে। ২০২৩ সাল এখনও অনেক দূরে, তবে দেখবেন হুট করেই কাছে চলে এসেছে। ওয়ানডেতে আমাদের সঠিই পথে থাকতে হবে; কিন্তু আমরা খুব বেশি (ওয়ানডে) খেলতে পারছি না, কারণ এই সময়ে অনেক বেশি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ হচ্ছে। আমাদের জানতে হবে দল হিসেবে আমরা কী অর্জন করতে চাই। ২০১৫ সালের চেয়ে আমাদের এই দলটা ভিন্ন। দলে অনেক তরুণ খেলোয়াড় আছে। আমি নিশ্চিত যে, যদি আমরা সবকিছু ঠিকঠাক করতে পারি, তাহলে ২০১৫ সালের পুনরাবৃত্তি না হওয়ার কোনো কারণ নেই।
হ কেউ একজন কঠোর পরিশ্রম, প্রক্রিয়া এবং শৃঙ্খলার মূল্য দেয়, নিশ্চয় আপনি আপনার দলের তরুণ খেলোয়াড়দের মধ্যে এমন কিছু দেখতে চাইবেনÑ
তামিম : অবশ্যই আমাদের দলের পারফরম্যান্সের মূল্যায়ন করা উচিত। মানে, যদি আমি ভালো করি, এটা আমাকে আরও ভালো করার আত্মবিশ^াস দেবে। যদি আমি ভালো না করি, এটা অবশ্যই কষ্ট দেবে। বিষয়গুলো বদলাচ্ছে। যেমন লিটন দাস এখন ৭০ কিংবা ৮০ রান করে আউট হয়ে গেলে হতাশ হয়। সম্প্রতি ১৭০ রানের রেকর্ড গড়া ইনিংস খেলার পরও সে আরও ভালো করতে চায়। তার মধ্যে আমি অনেক রানক্ষুধা দেখতে পাচ্ছি। আমি আশা করি সবাই একই পথ অনুসরণ করবে।
মুশফিকুর রহিম আরেকটি দুর্দান্ত উদাহরণ। কোনো ফরম্যাটেই তিনি নিজের পারফরম্যান্সে সন্তুষ্ট হন না। যখন খারাপ সময় যায় তিনি তখন অনেক বেশি পরিশ্রম করেন। আর যখন তিনি ভালো করেন, ধারাবাহিকভাবে আরও ভালো করে যেতে চান। যদি সবার ভাবনা এমন হয়Ñ কোচ, সিনিয়র ক্রিকেটার আর অধিনায়কের কাজটা সহজ হয়ে যায়।
হ বাংলাদেশ দলের ভালো করার ক্ষেত্রে সিনিয়র খেলোয়াড়রা গুরুত্বপূর্ণ। আপনি কি তাদের সাহায্য নেবেন?
তামিম : অধিনায়ক হিসেবে আমার থেকে মুশফিক এবং (মাহমুদউল্লাহ) রিয়াদ ভাই অনেক বেশি অভিজ্ঞ। যদি অধিনায়কত্বের শুরুতে আমি নার্ভাস থাকি, সেখান থেকে বেরিয়ে আসতে তাদের সাহায্য আমার প্রয়োজন হবে। আমি নিশ্চিত, তারা সবটা দিয়েই চেষ্টা করবেন। আমার মনে হয়, তিন ফরম্যাটের অধিনায়কেরই একাট্টা থাকা উচিত। আমি মাঠে তাদের দুজনের কাছেই যাব এবং যখন সাকিব ফিরে আসবে তখন তাকেও পাশে চাইব। সামনে এগিয়ে যেতে দলের তাদের পূর্ণ সমর্থন দরকার। আমার জন্য নয়, আমি এখন গুরুত্বপূর্ণ নই, দলটাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
হ আপনি বলেছেন, আপনার তারুণ্যনির্ভর দলের আত্মবিশ^াস ফেরাতে একটি বড় জয় দরকারÑ
তামিম : আমাদের চার-পাঁচজন তরুণ খেলোয়াড় আছে। যেমন নাঈম, আফিফ এবং বিপ্লব। এমনকি ছয় বছর জাতীয় দলের সঙ্গে থাকার পর তাইজুলও ওয়ানডে ক্রিকেটে তরুণ। একটা বড় জয় এই গ্রুপটাকে অনেক সাহস দেবে। যখন আপনি জিততে শুরু করবেন, আত্মবিশ^াসী হবেন। ২০১৫ সালে যখন আমরা পাকিস্তানকে ৩-০ ব্যবধানে হারিয়েছিলাম, তখন নিজেদের সামর্থ্যে বিশ^াস বেড়ে গিয়েছিলÑ আমরা ২৫০ রান করে ডিফেন্ড করতে পারি, জিততে পারি ৩০০ রান তাড়া করেও। পাকিস্তানকে হারানোর পর আমরা বিশ^াস করতে শুরু করি ভারত আর দক্ষিণ আফ্রিকাকেও হারাতে পারব। আমারা যদি একইভাবে বড় দলগুলোর বিপক্ষে জিততে পারি, এই ছেলেরা আত্মবিশ^াস ফিরে পাবে।




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]