ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা বৃহস্পতিবার ২৮ মে ২০২০ ১৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭
ই-পেপার বৃহস্পতিবার ২৮ মে ২০২০

টঙ্গীতে রাজনৈতিক বিবেচনায় ডাক্তার-কর্মচারীদের মধ্যে পিপিই ভাগাভাগি, বঞ্চিত নার্সরা
টঙ্গী প্রতিনিধি
প্রকাশ: শনিবার, ২৮ মার্চ, ২০২০, ১১:০০ এএম আপডেট: ২৮.০৩.২০২০ ১১:০৩ এএম | অনলাইন সংস্করণ  Count : 131

টঙ্গীর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতালের ডাক্তার ও রাজনৈতিক বিবেচনায় নিয়োগ পাওয়া কতিপয় আউট সোর্সিং কর্মচারী ভাগ ভাটোয়ারা করে নিয়ে গেলেন করোনাভাইরাস প্রতিরোধক পারসোনাল প্রটেকশন ইকুইভমেন্টস (পিপিই)।

এ ঘটনায় সরাসরি চিকিৎসা কাজে নিয়োজিত হাসপাতালের নার্স ও ব্রাদারদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ বিরাজ করছে। পিপিইবিহীন এসব স্থাস্থ্যকর্মী অনেকটা আতঙ্কের মধ্যেই দায়িত্ব পালন করছেন।

জানা গেছে, করোনাভাইরাস সংক্রমণ আতঙ্কের উর্দ্ধে থেকে নার্স ও কর্মচারীদের নির্ভয়ে সকল প্রকার রোগীর চিকিৎসা সেবা প্রদানের জন্য সরকারি ও বেসরকারিভাবে ইতিমধ্যে প্রায় ২’শ সেট পিপিই (হ্যান্ড গ্লাভস ড্রেস, জুতা, চশমাসহ আনুসাঙ্গিক ইকুইভমেন্ট) সরবরাহ করা হয় শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতালে।

হাসপাতালের একাধিক নার্স ও ব্রাদার নাম প্রকাশ না করার শর্তে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, প্রথম অবস্থায় সরকারিভাবে হাসপাতালে কর্মরত প্রায় ২৫ জন ডাক্তার, ৬৩ জন নার্স-ব্রাদার্স, ১০-১২ জন কর্মচারী এবং প্রায় ৬৫ জন আউট সোর্সিং কর্মচারীর জন্য করোনাভাইরাস প্রতিরোধক ১০০ সেট হ্যান্ড গ্লাভস, ড্রেস, জুতা, চশমাসহ আনুসাঙ্গিক ইকুইভমেন্ট (পিপিই) সরবরাহ করা হয়।

কিন্তু হাসপাতালে কর্মরত ২৫ জন ডাক্তার ও রাজনৈতিক বিবেচনায় নিয়োগ পাওয়া কতিপয় আউট সোর্সিং কর্মচারী সেগুলো ভাগাভাগি করে নেয়। তারা জরুরি বিভাগের জন্য মাত্র ৩ সেট ও সম্ভাব্য করোনা আক্রান্ত রোগীদের নির্ধারিত ওয়ার্ডে নার্সদের জন্য মাত্র ৬ সেট পিপিই রেখে যায়। অবশিষ্ট পিপিই’র কোনো হদিস নেই।

অপর দিকে স্থানীয় একটি পোশাক কারখানা কর্তৃপক্ষ আরো ১০০ সেট হ্যান্ড গ্লাভস ড্রেস, জুতা, চশমাসহ আনুসাঙ্গিক ইকুইভমেন্ট (পিপিই) হাসপাতালে সরবরাহ করে। এসব পিপিই সরাসরি চিকিৎসা সেবায় নিয়োজিত নার্স-ব্রাদার্স কিংবা কোনো কর্মচারীদের না দিয়ে দায়িত্বশীলরা ভাগাভাগি করে নেন।

পিপিই-বিহীন চিকিৎসা কাজে নিয়োজিত নার্স-ব্রাদারসহ অন্যান্য কর্মচারীরা জানান, হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ও আবাসিক মেডিকেল অফিসার তাদেরকে জানিয়েছেন, এসব পিপিই নাকি নার্স বা ব্রাদারদের জন্য আসেনি।

তারা উদ্বেগ প্রকাশ করে জানান, আমরা রাতদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে হাসপাতালে আসা বিভিন্ন রোগীদের সেবা দিয়ে আসছি। কার মধ্যে ভাইরাস আছে আমাদের জানা নেই। সারাক্ষণ আমরা আতঙ্কে থাকি। পিপিই পেলে আমরা অন্তত আতঙ্কমুক্তভাবে চিকিৎসা সেবায় নিয়োজিত থাকতাম। কিন্তু আমাদেরকে পিপিই না দিয়ে ডাক্তার এবং আউট সোর্সিং কর্মচারীরা সেগুলো ভাগাভাগি করে নিয়ে যাচ্ছেন।

আমাদের এই হাসপাতালে ডাক্তার, নার্স, ব্রাদার্স, কর্মচারী ও আউট সোর্সিং কর্মচারীসহ প্রায় ১৬৫ জন কর্মরত রয়েছেন। অথচ সরকারি ও বেসরকারিভাবে ২০০ সেট পিপিই এসেছে। জন প্রতি ১ সেট করে বিতরণ করা হলেও আরো ৩৫ সেট উদ্বৃত্ত থেকে যায়। অথচ এসবের কোন হদিস নেই।

এ বিষয়ে হাসপাতালের নার্সিং সুপারেটেণ্ট খাদিজা বেগমের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, নার্স ও ব্রাদারদের সুরক্ষার কথা ভেবে আমি তত্ত্বাবধায়ক স্যারের সাথে কথা বলেছি, তত্ত্বাবধায়ক স্যার বলেছেন, এগুলো শুধু মাত্র ডাক্তারদের জন্য এসেছে। তারপরও যারা ডিউটিতে আছেন এমন অনেককে দেয়া হয়েছে। বাকিগুলো পরবর্তী পরিস্থিতির উপর নির্ভর করে দেয়া হবে।

এ ব্যাপারে হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. পারভেজ হোসেনের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি শুনেছি হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ড. মো. নিজাম উদ্দিন স্যারের নামে সরকারিভাবে কিছু পিপিই বরাদ্ধ হয়েছে এবং বেসরকারিভাবেও কিছু স্যারের নামেই হাসপাতালে এসেছে; তবে কতগুলো এসেছে আমার জানা নেই। আমি নিজেও এখনো পাইনি, তবে নার্স বা ডাক্তার যারা ডিউটিতে এসেছেন তারা পেয়েছেন। নার্স ও ব্রাদারদের অভিযোগের বিষয়টি আমি স্যারকে জানিয়েছি। তিনি খুব শিগগির ব্যবস্থা নেবেন বলে আমাকে জানিয়েছেন।

এ ব্যাপারে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ড. মো নিজাম উদ্দিনের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, সরকারিভাবে কিছু পিপিই এসেছে তবে কতগুলো এসেছে তা এ মূহুর্তে সঠিক বলতে পারবো না।

এবিষয়ে অফিস আওয়ারে আসলে সঠিক তথ্য দিতে পারবো। এগুলো শুধুমাত্র করোনা বিভাগ ও ইমারজেন্সি বিভাগে কর্মরত ডাক্তার ও নার্সদের জন্য পাঠানো হয়েছে। তারপরও পরিস্থিতি মোতাবেক হাসপাতালের ডাক্তার ও নার্সদের সময় সাপেক্ষে দেয়া হবে। বেসরকারিভাবে কতগুলো পিপিই এসেছে জানতে চাইলে তিনি পাল্টা প্রশ্ন রেখে বলেন, আপনি কোথা থেকে শুনেছেন? বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে করোনা ওয়ার্ডে কিছু এবং যারা ইমারজেন্সিতে কর্তব্যরত তাদের মাঝে ইতিমধ্যে কিছু বিতরণ করা হয়েছে।




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]