ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা  বুধবার ৩ জুন ২০২০ ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭
ই-পেপার  বুধবার ৩ জুন ২০২০

থমকে যাওয়া জীবনে করোনার হাতছানি
ধামইরহাট প্রতিনিধি
প্রকাশ: শনিবার, ২৮ মার্চ, ২০২০, ২:৪৯ পিএম আপডেট: ২৮.০৩.২০২০ ২:৫৪ পিএম | অনলাইন সংস্করণ  Count : 255

সকালটা ছিল, না শীত না গরম। দুপুর হতে না হতেই সূর্যের তীব্রতা বেড়ে যায়। এখন হরতাল নেই, নেই কোনও অবরোধ। যানবাহনের বিরক্তিকর ভোঁ ভোঁ শব্দ না থাকায় ধোঁয়াও নেই। পুরো রাস্তাটাই ছিল একদম ফাঁকা যেদিকে তাকাই শুধু চেয়ে দেখি শুনশান নিরবতা।

সারাবিশ্বে মহামারি আকার ধারণ করা কেভিড ১৯ করোনা ভাইরাসের প্রকোপে জনজীবন এভাবেই থমকে যাবে, যা আগে কখনো কল্পনাও করেনি ধামইরহাট উপজেলার সাধারণ মানুষ।

অন্যদিকে সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী ১৪ দিন হোম কোয়ারেন্টাইন মানতে গিয়ে চরম বিপাকে পড়েছে দিনমজুরসহ অসংখ্য খেটে খাওয়া মানুষ। তাদের জীবনে নেমে এসেছে অনিশ্চয়তার দীর্ঘশ্বাস। ব্যবসায়ীরা তাদের প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে ফিরে গেছে নিজ নিজ বাড়িতে।

ক্রেতা নেই রাস্তার পাশে নিত্য প্রয়োজনে শুধু ঔষধ, মুদি আর কাঁচাবাজারের দোকানিরা মাথা উঁচু করে জেগে আছে। তবে রাস্তায় অলিগলিতে কলেজ পড়ুয়া কিছু ছাত্রদের একসঙ্গে দলবেধে ঘোরাফেরা করতে দেখা গেছে।

সারাবিশ্বে মৃত্যুর মিছিলে পরিণত হয়েছে করোনা ভাইরাস। বাংলাদেশে এর প্রভাব অতটা না পড়লেও বিদেশ ফেরত ও ঢাকাসহ বিভিন্ন শহরের ঘরমুখী মানুষ গ্রামে ছুটে আসায় একরকম শঙ্কায় নির্ঘুম রাত কাটাতে হচ্ছে ধামইরহাট উপজেলার ৯ টি ইউনিয়নের বাসিন্দাদের।

অন্যদিকে উপজেলা প্রশাসন সেনাবাহিনী ও পুলিশের যৌথ করোনা ভাইরাস সচেতনতামূলক প্রচারাভিযানে কিছুটা হলেও জনমনে স¦স্থি ফিরে এসেছে। তবে গ্রামের প্রত্যন্ত অঞ্চলের খেটে খাওয়া নিরক্ষর মানুষ করোনা ভাইরাসে সচেতনতায় করণীয় সর্ম্পকে কিছুই জানে না।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. স্বপন কুমার বিশ্বাস বলেন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নারী পুরুষসহ ৫ শয্যা বিশিষ্ট আইসোলেশন ইউনিট প্রস্তুত রয়েছে। বিশেষ প্রয়োজনে ধামইরহাট সরকারি এম এম কলেজ ও চকময়রাম সরকারি মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ে আইসোলেশন ইউনিট প্রস্তুত রাখা হয়েছে। ধামইরহাটে এখন পর্যন্ত কেউ করোনায় আক্রান্ত হয়নি। তবে এ পর্যন্ত বিদেশ ফেরত ৫০ জন ব্যক্তিকে হোম কোয়ারান্টিনে রাখা হয়েছে বলে ধামইরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানানো হয়েছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক স্বাস্থ্য কর্মকর্তা (আর এম ও) ডা. আবু ইসা মো. আরাফাত ইমাম বলেন, করোনা মোকাবেলায় জনগণকে সচেতন করার লক্ষে আমাদের স্বাস্থ্যকর্মীরা কাজ করে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, আমারা ব্যক্তিগত সুরক্ষা উপকরণ (পিপিই) সংকটে ভুগছি। প্রতিদিন চিকিৎসার জন্য যেখানে নুন্যতম ১২-১৫টি পিপিই প্রয়োজন, সেখানে আমরা পেয়েছি মাত্র ৫টি। তা ছাড়া ব্যক্তিগত উদ্যোগে আমাদের সুরক্ষা উপকরণ (পিপিই) সংগ্রহ করতে গিয়ে রীতিমত হিমশিম খেতে হচ্ছে।




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]