ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা রোববার ৩১ মে ২০২০ ১৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭
ই-পেপার রোববার ৩১ মে ২০২০

সম্মিলিত আজান সম্পর্কে ইসলাম কী বলে
মুফতি গোলাম রাজ্জাক কাসেমি
প্রকাশ: রোববার, ২৯ মার্চ, ২০২০, ১২:০০ এএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 180

আজান হলো ইসলামের অন্যতম শিআর ও বৈশিষ্ট্য। যার জায়গা ও ক্ষেত্রগুলো শরিয়ত নির্ধারণ করে দিয়েছে। সেই নির্ধারিত জায়গাতেই এই আমল সীমাবদ্ধ রাখতে হবে। মহামারী থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য ইসলামে সম্মিলিত আজানের কোনো বৈধতা নেই। যেকোনো কাজ ইবাদত হিসেবে গ্রহণযোগ্য হওয়ার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হলো, কোরআন ও হাদিসের দলিল মোতাবেক হওয়া। মহামারীর প্রাদুর্ভাবের প্রাক্কালে আজান দেওয়া ইসলামী সুন্নাত কিংবা মুসতাহাব হিসেবেও প্রমাণিত নয়। নবী, সাহাবি ও তাবেঈদের থেকে এমন কোনো আমল প্রমাণিত নেই। অথচ তাদের যুগেও দুর্যোগ-মহামারী দেখা দিয়েছিল। তাদের কেউ দুর্যোগ মহামারীতে এভাবে একযোগে আজান দেননি। ভারতবর্ষের বিখ্যাত মুফতি আল্লামা রশিদ আহমদ গাঙ্গুহি (রহ.) লিখেছেনÑ ‘মহামারী, প্লেগ ইত্যাদি রোগের প্রাদুর্ভাবের সময় কোনো বিশেষ নামাজ হাদিস দ্বারা প্রমাণিত নয়। এ সময় আজান বলার কথাও কোনো হাদিসে বর্ণিত নেই। তাই এ ধরনের পরিস্থিতিতে আজান বা জামাতকে সাওয়াবের কাজ বা সুন্নত বা মুসতাহাব বিশ^াস করা বাস্তবতার পরিপন্থি।’ (ফতোয়ায়ে রশিদিয়া : ১৫২)
রাসুল (সা.)-এর যুগে মসজিদ থেকে কেবল জামাতে নামাজের জন্য আজান দেওয়া হতো। চন্দগ্রহণ বা সূর্যগ্রহণের নামাজের জন্যও আজান দেওয়া হতো না। তখন শুধু ‘আস সালাতু জামিআতুন’ বলে আহŸান করা হতো। আবদুল্লাহ বিন আমর বিন আস (রা.) বর্ণনা করেন, রাসুল (সা.)-এর যুগে যখন চন্দ্রগ্রহণ হলো তখন ‘ইন্নাস সালাতা জামিআ’ বলে আহŸান করা হলো। (বুখারি : ৯৬৩)। নামাজের জামাত ছাড়া হাদিসে আরও দুটি জায়গায় আজানের কথা বর্ণিত হয়েছে। জ্বিনের উপদ্রব থেকে বাঁচার জন্য এবং সদ্যভ‚মিষ্ঠ বাচ্চার কানে দেওয়ার জন্য। বর্ণিত হাদিসগুলোর ওপর ভিত্তি করে কেউ কেউ চলমান মহামারী করোনাভাইরাস থেকে মুক্তি লাভের আমল হিসেবে সম্মিলিত আজানকে শরিয়তসিদ্ধ হওয়ার কথা বলে গুজব ছড়াচ্ছে। কিন্তু তাদের এ কিয়াস শরিয়তের মূলনীতির সঙ্গে মিলে না। কারণ একটি শরিয়তসিদ্ধ ইবাদাতের ওপর কিয়াস করে আরেকটি ইবাদাত আবিষ্কার করা সুস্পষ্ট বেদআত। তা ছাড়া পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ এবং শরিয়ত নির্ধারিত আজান ছাড়া আজান দেওয়া শরয়িত আজানের গুরুত্ব কমিয়ে দেয়। আর যদি একটি সময় নির্ধারণ করে এ সম্মিলিত আজানের ব্যবস্থা করা হয়, সে ক্ষেত্রে এটি হবে স্পষ্ট সুন্নাতের পরিপন্থি ও বেদআত। নবীজি, সাহাবি, তাবেঈ ও তাবে তাবেঈনদের আমল থেকে এর নির্ভরযোগ্য কোনো প্রমাণ পাওয়া যায় না। নবীজি (সা.) বলেছেন, ‘কেউ আমার এ শরিয়তে নাই এমন কিছুর অনুপ্রবেশ ঘটালে তা প্রত্যাখ্যাত।’ (বুখারি : ২৬৯৭)
রাসুলুল্লাহ (সা.) খুতবার সময় বলতেন, ‘সবচেয়ে
নিকৃষ্টতম বিষয় হলো নবসৃষ্ট বিষয়। আর প্রত্যেক নবসৃষ্ট বিষয়ই বেদআত, আর প্রত্যেক বেদআত গোমরাহী, আর প্রত্যেক গোমরাহীর ঠিকানা হবে জাহান্নাম।’ (নাসায়ি : ১৫৭৮)
আজান দেওয়া সাওয়াবের কাজ, তবে তা সব ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। করোনাসহ সব প্রকার মহামারী-দুর্যোগ ও বালা-মুসিবত থেকে মুক্তি পেতে বিশেষ দোয়া, দরুদ, তাওবা ও ইস্তেগফারের প্রতি হাদিসে উৎসাহিত করা হয়েছে। আসুন আমরা গুজবে বিভ্রান্ত না হয়ে হাদীসে বর্ণিত আমলগুলো গুরুত্বের সঙ্গে আদায় করি এবং অভিজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলি।





সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]