ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা রোববার ৩১ মে ২০২০ ১৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭
ই-পেপার রোববার ৩১ মে ২০২০

পাবনায় স্বাস্থ্য বিভাগের দরপত্র গ্রহণ, ঠিকাদারদের মধ্যে ক্ষোভ
পাবনা প্রতিনিধি
প্রকাশ: সোমবার, ৩০ মার্চ, ২০২০, ১১:১৮ পিএম আপডেট: ৩০.০৩.২০২০ ১:১৬ এএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 21

করোনাভাইরাস নিয়ে রাষ্ট্রের মানুষের যখন আতঙ্কের মধ্যে দিনযাপন করছে; ঠিক তখন পাবনার ভাঙ্গুড়ায় উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ ২০১৯-২০২০ অর্থবছরের এমএসআর (মেডিকেল ও সার্জিক্যাল রিইকুইজিট) সামগ্রী ক্রয়ের জন্য দরপত্র গ্রহণ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। রোববার সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, ভাঙ্গুড়া থানা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে পৃথক পৃথক দৃশ্যমান বাক্সে তারা দরপত্র গ্রহণ করেন। এ নিয়ে ঠিকাদার ও স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। যদিও করোনাভাইরাসের মধ্যে দরপত্র গ্রহণকে স্বাস্থ্য বিভাগ বলছে বিধি মোতাবেক হয়েছে। কিন্তু এমন এমএসআর দরপত্র বাতিল করেছে দেশের অনেক উপজেলায় বলে দাবি করেছেন ঠিকাদাররা।
উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের ১২ মার্চ ২০১৯-২০২০ অর্থবছরের এমএসআর (মেডিকেল ও সার্জিক্যাল রিইকুইজিট) সামগ্রী ক্রয় করতে ওষুধপত্র, লিলেন, সার্জিক্যাল যন্ত্রপাতি, গজ-ব্যান্ডেজ কটন, কেমিক্যাল রি-এজেন্ট এবং আসবাবপত্র সরবরাহের জন্য ছয়টি গ্রুপে ঠিকাদারদের কাছ থেকে দরপত্র আহ্বান করা হয়। দরপত্র বিক্রি চলে ২৬ মার্চ দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত। আর দরপত্র দাখিলের তারিখ ছিল ২৯ মার্চ ২০২০। কিন্তু সারা দেশে করোনাভাইরাস সংক্রমণ রোধ করতে ২৬ তারিখ থেকে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত সরকারি-বেসরকারি সব অফিস বন্ধ এবং কোনো প্রকার গণজামায়েত নিষেধ ও সব দূরপাল্লার যান চলাচল নিষেধ করে বিশেষ ছুটি ঘোষণা করে। এমন অবস্থায় সারা দেশের মতো ভাঙ্গুড়াতে অঘোষিত লকডাউন চলছে। অথচ উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ সেদিকে না দেখে পূর্বনির্ধারিত সিদ্ধান্ত মোতাবেক ২৯ মার্চই দরপত্র গ্রহণ করেন। এমন সিদ্ধান্তে ঠিকাদার ও স্থানীয় জনগণের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পাবনা ও আশপাশের কয়েকজন ঠিকাদার বলেন, ‘উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা এবং ইউএনও’র পছন্দমতো লোককে কাজ দিতে এই আয়োজন।’ লকডাউন চলায় অধিকাংশ ঠিকাদার এই টেন্ডারে অংশ নিতে পারেননি। তারা এই দরপত্র বাতিল করে উপযুক্ত সময়ে পুনঃদরপত্র আহ্বানের অনুরোধ করেন।
রোববার উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয় ও ভাঙ্গুড়া থানা ঘুরে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, উভয় স্থানে স্বাস্থ্য দফতরের দরপত্রের বাক্স আছে, কিন্তু লোকজন নেই। রয়েছে চারদিকে সুনশান নীরবতা। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা অফিসার ডা. মোসা. হালিমা খানম জানান, ছয়টি গ্রুপের মধ্যে ক গ্রুপে দুটি, খ গ্রুপে তিনটি, গ গ্রুপে চারটি, ঘ গ্রুপে তিনটি, ঙ গ্রুপে তিনটি এবং চ গ্রুপে দুটি দরপত্র পড়েছে। তিনি আরও জানান, সিভিল সার্জনসহ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়েই করোনাভাইনরাস সংক্রমণ পরিস্থিতির মধ্যে দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে।
এ বিষয়ে ইউএনও সৈয়দ আশরাফুজ্জামান বলেন, কারোনাভাইরাস সংক্রমণ পরিস্থিতির মধ্যে উপজেলা পরিবার ও পরিকল্পনা অফিসার ও এমএসআর দরপত্র কমিটির আহ্বায়ককে তার ঊর্র্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের পরামর্শ নিয়ে কাজ করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এ ব্যাপারে পাবনার সিভিল সার্জন ডা. মির্জা মেহেদী ইকবাল বলেন, এ ব্যাপারে তার কাছে কোনো পরামর্শ নেওয়া হয়নি। উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ এসব কাজ স্বাধীনভাবে করে থাকে। তবে করোনাভাইরাসের সময় এ ধরনের দরপত্র মানুষের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া ফেলতে পারে। দেশের পরিস্থিতি ভালো হলে উপযুক্ত সময়ে কাজটি করলে ভালো হতো।









এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]