ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা রোববার ৩১ মে ২০২০ ১৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭
ই-পেপার রোববার ৩১ মে ২০২০

জয়পুরহাটের আলু যাচ্ছে জাপান মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশে
রাশেদুজ্জামান জয়পুরহাট
প্রকাশ: সোমবার, ৩০ মার্চ, ২০২০, ১১:১৮ পিএম আপডেট: ৩০.০৩.২০২০ ১:১৭ এএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 83

কৃষি নির্ভরশীল উত্তরের জেলা জয়পুরহাট। এখানে মোট কৃষি জমির ৮০ শতাংশ জমিতে আলু চাষ করেন কৃষকরা। আলু উৎপাদনে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম জেলা জয়পুরহাটে এবারও বাম্পার ফলন হয়েছে। আলু উৎপাদনের জন্য যে লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে তার চেয়ে অধিক পরিমাণ জমিতে আলু চাষ হয়েছে এবার।
বীজ, সার ও কীটনাশক ওষুধের পর্যাপ্ত সরবরাহ এবং রোগ-বালাই কম হওয়াসহ আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবার আলুর বাম্পার ফলন হয়েছে। যার ফলে স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে এখানকার আলু জেলা ও উপজেলাসহ বিদেশেও রফতানি করা হচ্ছে। সেই সঙ্গে বাজারে আলুর ভালো দাম পাওয়ায় লাভের মুখ দেখছেন স্থানীয় আলু চাষিরা।
জয়পুরহাটে উৎপাদিত জাতের আলুর মধ্যে রয়েছেÑ মিউজিকা, ডায়মন্ড, এস্টোরিক্স, কার্ডিনাল, রোজেটা, ক্যারেজ। আর স্থানীয় পাকড়ী জাতের আলু চাষের মধ্যে রয়েছেÑ তেল-পাকড়ী, পাহাড়ী-পাকড়ী, বট-পাকড়ী ও ফাটা-পাকড়ী। এবার লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি জমিতে মিউজিকা, ডায়মন্ড, এস্টোরিক্স, কার্ডিনাল ও রোজেটা জাতের আলু চাষ হয়েছে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ জানায়, জেলায় এবার আলু চাষ হয়েছে ৩৮ হাজার ৩২৫ হেক্টর জমিতে। জেলায় এবার আলুর উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ৯ লাখ ৫০ হাজার ৬৮৩ টন ধরা হলেও এটি অতিক্রম করবে বলে আশা করছেন কৃষি বিভাগ।
জেলায় পাঁচ উপজেলার মধ্যে সবচেয়ে বেশি আলু উৎপাদন হয় কালাই উপজেলায়। কালাই পৌরসভাসহ উপজেলার মাত্রাই, উদয়পুর, পুনট, জিন্দারপুর ও আহম্মেদাবাদ ওই পাঁচটি ইউনিয়নে চলতি মৌসুমে ১০ হাজার ৮শ হেক্টর জমিতে আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও ২শ হেক্টর জমিতে অতিরিক্ত আলু চাষ হয়েছে। এর মধ্যে উফশী জাতের আলু চাষ হয়েছে ১০ হাজার ৬৫০ হেক্টর এবং স্থানীয় পাকড়ী জাতের আলু চাষে হয়েছে ৩৫০ হেক্টর জমিতে। আলু উৎপাদনের জন্য এবার কৃষকদের জমি লিজসহ, বীজ, জমি চাষ, সার-ওষুধ, সেচ, নিড়ানি ও বাঁধাই, আলু উত্তোলনসহ প্রতি বিঘা (৩৩ শতক) জমিতে চাষিদের উৎপাদন খরচ হয়েছে গড়ে ১২-১৪ হাজার টাকা।
জয়পুরহাটের বিভিন্ন বাজারে আগাম জাতের আলু জাতভেদে প্রতি মণ আলু সর্বোচ্চ ৬০০-৭০০ টাকায় বিক্রি হয়েছিল, বাজারে আমদানি বেশি হওয়ায় তা কিছুটা নেমে ৫০০-৬০০ টাকায় হয়েছে এবং বর্তমানে খুচরা বাজারে আলু জাতভেদে ৬০০-৮০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এভাবে বাজার থাকলে কৃষক ১৮-২৫ হাজার টাকা বিঘাপ্রতি আলুতে লাভ করতে পারবেন।
জয়পুরহাটে আলুর বাম্পার ফলন হওয়ায় এখানকার আলু ঢাকা, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, খুলনা, বাগেরহাট, পিরোজপুর, বরিশাল, ভোলা, নোয়াখালী, গোপালগঞ্জ, ফেনী ও চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন জেলা-উপজেলায় সরবরাহ করা হচ্ছে। এ ছাড়াও কালাইয়ের আলু মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড, জাপান, ইন্দোনেশিয়া, সৌদি আরব, কুয়েত ও রাশিয়াসহ বিভিন্ন দেশে রফতানি করা হচ্ছে। এ উপজেলাতে ১০-১৫টি স্থানে প্রতিদিন প্রায় ৪-৫ হাজার মণ বিভিন্ন জাতের আলু দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলাসহ বিদেশে পাঠানোর জন্য আলু ব্যবসায়ীরা কৃষকের কাছ থেকে আলু কিনছে। কালাই উপজেলার বিভিন্ন মাঠ থেকে রফতানিকারকদের প্রতিনিধিরা পরিপক্ক আলু সংগ্রহ করে তা বাছাই করে নেটের হলুদ প্যাকেটে চাহিদা অনুপাতে প্যাকেটজাত করে বিদেশে পাঠিয়ে থাকে। দাম পাওয়ায় স্থানীয় আলু চাষিদের মুখে হাসি ফুটেছে।
কালাই উপজেলার আপলাপাড়া গ্রামের আলু চাষি আব্দুল কাদের বলেন, আট বিঘা জমিতে এস্টোরিক্স ও কার্ডিনাল জাতের আলু চাষ করেছি। বিঘাপ্রতি আলুর উৎপাদনের খরচ হয়েছে প্রায় ১৪ হাজার টাকা। প্রতি বিঘা আলু পেয়েছি প্রায় ১শ মণ। বিদেশি এক কোম্পানির এজেন্টের কাছে আলু বিক্রি করেছি। সব খরচ বাদ দিয়ে বর্তমান আলুর বাজার দরে বিঘাপ্রতি লাভ হয়েছে প্রায় ৪৫ হাজার টাকা।
কালাই উপজেলার দুর্গাপুর গ্রামের আলু চাষি রাজ্জাক বলেন, মালেশিয়ার মাসাওয়া কোম্পানির এজেন্টের কাছে মণ প্রতি ৫৫০ টাকার দরে দুই বিঘা জমির মিউজিকা জাতের আলু বিক্রি করেছি। এবারে বাজারে আলুর দাম ভালো পাওয়ায় অনেক খুশি হয়েছি।
কালাই উপজেলার নান্দাইলদীঘি গ্রামের মালেশিয়ার মাসাওয়া কোম্পানির আলু কেনার এজেন্ট মো. বাশেদ ও রফিকুল বলেন, মালয়েশিয়ার মাসাওয়া কোম্পানির চাহিদা অনুযায়ী প্রতিদিন ১৬ টাকা কেজি দরে প্রায় ৪শ মণ বিভিন্ন জাতের আলু কিনতে হচ্ছে। আর এভাবে চলতি বছরের মার্চ মাস পর্যন্ত আলু কিনতে হবে।
জয়পুরহাট সদরের বম্বু গ্রামের কৃষক মোফাজ্জল হোসেন, ক্ষেতলাল উপজেলার আলমপুর ইউনিয়নের কৃষক আমজাদ হোসেন, আক্কেলপুর উপজেলার তিলকপুর গ্রামের কৃষক লোকমান মিয়া, পাঁচবিবি ফিসকাঘাটের একাধিক কৃষক জানান, প্রতি বিঘা জমিতে জাতভেদে ৭০-১০০ মণ পর্যন্ত আলু উৎপাদন হয়েছে।
জয়পুরহাট পৌর এলাকার নতুনহাট বাজারের পাইকারি বিক্রেতা আহম্মদ হোসেন, মাছুয়াবাজারে খুচরা আলু বিক্রেতা বদিউজ্জামানসহ জেলার অনেক আলু বিক্রেতা জানান, আলুর সরবরাহ বাড়ায় আলুর দাম কমতে শুরু করেছে। মার্চের মধ্যেই আলুর মূল ফলন উঠলে দাম আরও কমে যেতে পারে বলে তারা আরও জানিয়েছেন।
কালাই উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার মো. আসাদুজ্জামান বলেন, বীজ, সার ও কীটনাশক ওষুধ সরবরাহসহ আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এই উপজেলাতে এবার আলুর বাম্পার ফলন হয়েছে। জয়পুরহাট জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের অতিরিক্ত পরিচালক (শস্য) মো. আখতারুজ্জামান জানান, আলু স্বল্পমেয়াদি ফসল। গত মৌসুমে আলু চাষ করে কৃষকরা প্রচুর লাভবান হয়েছিল। এবারও আলুর বাম্পার ফলন হয়েছে এবং কৃষক আলুতে বেশ ভালো দামও পাচ্ছে।






এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]