ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা বৃহস্পতিবার ২৮ মে ২০২০ ১৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭
ই-পেপার বৃহস্পতিবার ২৮ মে ২০২০

করোনা আতঙ্কে রোগীশূন্য গাইবান্ধা সদর হাসপাতাল
গাইবান্ধা প্রতিনিধি
প্রকাশ: সোমবার, ৩০ মার্চ, ২০২০, ১১:৫৫ পিএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 16

করোনা আতঙ্কে রোগীশূন্য হয়ে পড়েছে ২০০ শয্যার গাইবান্ধা জেলা সদর হাসপাতাল। স্বাভাবিকভাবে প্রতিদিন হাসপাতালে ৪০০-৫০০ রোগী চিকিৎসা নিলেও এখন তা প্রায় শূন্যের কোঠায়। করোনা আতঙ্কে হাসপাতালের বেডগুলো এখন রোগীশূন্য। এক সময় বহির্বিভাগ, জরুরি বিভাগ এবং হাসপাতালের প্রতিটি বেডে রোগীতে ঠাসা থাকত। কিন্তু পরিস্থিতি এখন ঠিক উল্টো। শুক্রবার গাইবান্ধায় করোনা সংক্রমণে তিন রোগীকে আইসোলেশনে রাখার খবরে হাসপাতালে এ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে।
রোববার দুপুরে হাসপাতালে ঘুরে দেখা গেছে, প্রতিদিনের মতো হাসপাতাল চত্বরে লোকজনের সমাগম নেই। গোটা চত্বর ফাঁকা। ভেতরের অবস্থাও একই। শয্যাগুলো ফাঁকা পড়ে আছে। হাসপাতালের দ্বিতীয় তলায় কয়েকজন রোগী আছে। তারা তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে মারামারিতে আহত হয়ে এখানে ভর্তি হয়েছেন। এ ছাড়া অন্য কোনো রোগী নেই। করোনাভাইরাস আতঙ্কে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে বলে জানায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
হাসপাতাল সূত্র জানায়, অন্য সময় হাসপাতালের আউটডোরে প্রতিদিন চিকিৎসাসেবা নিতে আসত ৪০০-৫০০ রোগী। বর্তমানে আউটডোরে আসছে মাত্র
২৫-৩০ জন। স্বাভাবিক সময়ে জরুরি বিভাগে রোগী থাকত ৬০০-৭০০। এখন সেটা নেমে এসেছে ১০-১৫ জনে আর চলতি মার্চ মাসের প্রথম সপ্তাহেও হাসপাতালে ভর্তি রোগী ছিল ২০০-২১০ জন। অথচ রোববার দুপুর পর্যন্ত রোগী ছিল মাত্র ৩০ জন। এর মধ্যে পালিয়ে গেছে বেশ কয়েকজন। বর্তমানে দৈনিক গড়ে ১৫-২০ জন চিকিৎসাসেবা নিতে আসছে।
হাসপাতালের ২৭ নম্বর শয্যায় চিকিৎসাধীন গাইবান্ধা পৌরসভার বানিয়ারজান এলাকার রোখসানা খাতুন বলেন, জমি নিয়ে মারামারির কারণে আহত হয়ে এখানে ভর্তি হয়েছি। ওষুধ ও খাবার পাচ্ছি। কিন্তু চিকিৎসকরা নিয়মিত দেখছেন না। রোখসানার আত্মীয় জলিল মিয়া বলেন, এখন রোগী কম, চিকিৎসা মোটামুটি ভালো হচ্ছে। কিন্তু শুক্রবার এখানকার আইসোলেশনে তিনজন করোনা আক্রান্ত ভর্তি হয়েছে। আর এখানে থাকা যাবে না। আজই বাড়ি যাব।
হাসপাতালের ২৫ নম্বর শয্যায় চিকিৎসাধীন গাইবান্ধা সদর উপজেলার দারিয়াপুর গ্রামের ময়না খাতুন জানান, তুচ্ছ ঘটনায় ভাগিশরিকের সঙ্গে মারামারি হয়েছে। তিন দিন ধরে হাসপাতালে আছি। এখন রোগী কম। ওষুধ হিসেবে শুধু ট্যাবলেট পাচ্ছি। খাবারও ঠিকমতো পাচ্ছি। কিন্তু করোনার ভয় লাগছে।
১-২১ মার্চ পর্যন্ত এই হাসপাতালে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত কোনো রোগী ভর্তি হয়নি। এক সপ্তাহ আগে এখানে নিউমোনিয়ায় তিনজন রোগী ভর্তি হয়। তারা সুস্থ হয়ে ফিরে গেছেন। তবে রোববার বিকাল পর্যন্ত হাসপাতালে নিউমোনিয়ার রোগী ছিল না।
এ প্রসঙ্গে গাইবান্ধা সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার হারুন-অর-রশিদ বলেন, করোনাভাইরাস আতঙ্কের কারণে হাসপাতালে কোনো রোগী ভর্তি হচ্ছেন না। যারা আগে ভর্তি ছিলেন তারা ভয়ে পালিয়ে যাচ্ছেন। তিনি বলেন, শনিবার হাসপাতালে তিনজন রোগীকে ছুটি দেই। কিন্তু ১৭ জন রোগী আমাদের না বলে পালিয়ে যায়। হাসপাতাল প্রায় রোগীশূন্য।








সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]