ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা বৃহস্পতিবার ২৮ মে ২০২০ ১৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭
ই-পেপার বৃহস্পতিবার ২৮ মে ২০২০

পশুপাখিও কাঁদে করোনায়
অহিদুল ইসলাম
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ, ২০২০, ৮:৩৫ পিএম আপডেট: ৩১.০৩.২০২০ ৮:৩৭ পিএম | অনলাইন সংস্করণ  Count : 235

বিশ্বব্যাপী চলা করোনা দুর্যোগে সবাই তো মানুষের সংকট নিয়ে উদ্বিগ্ন। অনেকেই এই বিপদে পাশে দাঁড়াচ্ছেন। তবে কেউ আমাদের শহরের সড়কে পড়ে থাকা পশুপাখিদের নিয়ে কথা বলছেন না। এই অবলা কুকুর ও বিড়াল তো প্রাণে বাঁচতে চায়।

পুরো বিশ্বের সঙ্গে বাংলাদেশও আছে করোনা মোকাবিলায় লকডাউন পরিস্থিতিতে। সবাই যার যার অন্নের সংস্থান করেছে। কেউ ১মাস, কেউ ২ মাসের। পশুগুলো হয়তো ভাবছে, আমরা তোমাদের মতো মজুতদার নই। তাদের মনের কথাগুলো যদি পড়া যেত! না পড়া গেলেও  যারা ঘর থেকে বের হচ্ছেন, তারা এদের কষ্টগুলো নিশ্চয়ই বুঝতে পারবেন।

শহরের গলিতে দাপিয়ে বেড়ানো কুকুরটিও আজ খাদ্যের অভাবে চেচিয়ে চেচিয়ে ফাঁকা রাস্তায় কাঁদে। নাদুস নুদুস চেহারার বিড়ালটিও আজ অনাহারে। করোনার কারণে আজ তারা খাদ্যহীন।

করোনার প্রভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলো শূন্য। হলের ডাইনিংয়ের উচ্ছিষ্টাংশ খেয়ে দিন গুজরান করতো কুকুরের দল। আজ তারা না খেতে পেয়ে হলের গণ্ডি পেরিয়ে হয়তো অন্য জনপদে। কিন্তু সব জায়গায়ই যে একই অবস্থা তা ওরা জানে না। ওরা এসব করোনা নিয়েও মাথা ঘামায় না। ওরা বুঝে ওদের পেট খালি, কিছু খেতে হবে।

মেয়েদের হলের সবচেয়ে আদরের বিড়ালটি যার সাথে ছিল সবার সখ্যতা, সে আজ একা। সবাই হয়তো ফিরবে হলগুলোতে। ততদিনে খাবার না পেয়ে যদি মারা যায় এ অবলাগুলো।

রাজ্জাক অভিনীত 'ছুটির ঘণ্টা' ছায়াছবির ছেলেটির কথা মনে আছে? বন্ধের দিনে সে আটকে পড়েছিল কমনরুমে। পরে ছুটির পর তাকে মৃত পাওয়া যায়। বর্তমানে অবলা প্রাণীগুলোরও এমন করুণ অবস্থা। আমাদের সবাইকে ছুটি দিয়ে তারা চলে যাবে না তো না ফেরার দেশে। এরকমই শংকা।

আমি, আপনি চাইলেই পারি তাদের এ অন্নের দুঃখ লাঘব করতে। আমরা চাইলেই শুকনো খাবার দিয়ে তাদের পাশে দাঁড়াতে পারি। তাদের ভাষা না বুঝলেও তাদের কষ্টটা তো আমাদের বুঝতে হবে।

পাখিগুলো আজ রাতেও ডাকে। কাকগুলো আজ আবর্জনা পায় না। শহরকে ছুটি দিয়ে সবাই গেছে গ্রামে। যে কাকগুলো ময়লা আবর্জনা পরিষ্কার করে খাদ্য খুঁজে বেড়াতো, আজ তারা অলস।

ধানমন্ডি লেকের পাখি ও সংসদ ভবন এলাকার  কুকুরগুলো কি আজ খেয়েছে? তারা আমার -আপনার ওপর নির্ভরশীল। উপোস করে আমরাই তো পারি না, তারা কী করে পারবে? আসুন অন্তত কিছু অবলা প্রাণীর জন্য কিছু করি।

-শিক্ষার্থী, সরকারি তিতুমীর কলেজ




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]