ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা সোমবার ২৫ মে ২০২০ ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭
ই-পেপার সোমবার ২৫ মে ২০২০

সবজিতে দিন পরিবর্তন সাইফুলের
আব্দুর রাজ্জাক দিনাজপুর
প্রকাশ: বুধবার, ১ এপ্রিল, ২০২০, ১২:০০ এএম আপডেট: ০১.০৪.২০২০ ১:৫৪ এএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 74

সবজি চাষি সাইফুল ইসলাম। একজন সফল সবজি চাষি হিসেবে দিনাজপুরে ব্যাপক খ্যাতি রয়েছে তার। দিনাজপুরসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পাইকারি ক্রেতারা নিয়ে যায় তার আবাদ করা সবজি। ১৯৯৮ সাল থেকে সবজি আবাদ করে নিজের ভাগ্য পরিবর্তন করে স্বাবলম্বী হয়েছেন তিনি। এখন দিনাজপুরের খ্যাতিসম্পন্ন সবজি চাষিদের মধ্যে সাইফুল একজন।
দিনাজপুর সদর উপজেলার ৬নং আউলিয়াপুর ইউনিয়নের মহব্বতপুর গ্রামের আব্দুল কাফির ছেলে মো. সাইফুল ইসলাম। তিনি ২২ বছর ধরে সবজি চাষ করছেন। এবার প্রথম দফায় আবাদ করে বাজারজাত করে বিক্রি করেছেন প্রায় ৫০ হাজার টাকার ফুলকপি। বর্তমানে বেগুন ও শিম গাছে নতুন করে ফুল ও ফলন দেখা দিয়েছে। আগামী কয়েকদিনের মধ্যে এই দুটি সবজি পরিপূর্ণ হয়ে উঠবে। এরপর বাজারজাত করা হবে।
বর্তমানে সবজির বাজার ভালো যাওয়ায় লাভবান হওয়ার আশা করছেন তিনি। এক সময় স্ত্রী আর সন্তানদের নিয়ে তিনবেলা খেয়ে বেঁচে থাকাটাই কষ্টকর হয়ে দাঁড়ায় তার জন্য। বাবার একবিঘা জমিতে শুরু করেন সবজি চাষ। ফুলকপি আবাদ দিয়ে শুরু করা সাইফুল এখন প্রতিবছর পাঁচবিঘা জমিতে আলু, ঢেঁড়স, লাউ, শিম, বেগুন, ফুলকপি ও বাঁধাকপি চাষ করছেন। তিনি সময়ের আলোকে জানান, সবজি চাষ করে আমার ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটেছে। দেশি-বিদেশি পাঁচটি গরু নিয়ে বাড়িতে একটি ছোট খামার করেছি। চার মেয়ে সন্তানের বাবা হওয়ায় নিরাশ হননি। তাদের স্কুলে লেখাপড়া চালিয়ে যাওয়ার অভিমত ব্যক্ত করেন। তিনি জানান, বাবার রেখে যাওয়া একবিঘা জমির ওপর সবজি চাষ শুরু করি। সবজি চাষে লাভবান হয়ে আগের দেনা পরিশোধ করেছি। একবিঘা দিয়ে শুরু করলেও এখন নিজের ক্রয় করা চারবিঘা জমি নিয়ে বর্তমানে মোট পাঁচবিঘা জমিতে সবজি চাষাবাদ করছি। ফুলকপি-বাঁধাকপি ওঠার সঙ্গে সঙ্গে একই জমিতে ব্রি-৩৪ জাতের ধান (চিকন ধান) চারা রোপণ করব।
সাইফুল আরও জানান, তিনবিঘা জমিতে আলু আবাদ করেছি। কিন্তু বৈরী আবহাওয়ার কারণে মড়ক রোগে আতঙ্কিত থাকলেও স্থানীয় উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শে ছত্রাকনাশক প্রয়োগ করে রোগমুক্ত রয়েছে আমার আলু বাগান। এছাড়াও ১২ শতক জমিতে আবাদ করা ঘিয়া শিমে ফুল ও ফলন দেখা দিয়েছে। এতে জাব পোকার আক্রমণ বেড়ে গেলে কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শে কীটনাশক প্রয়োগ করে চিন্তামুক্ত রয়েছি। এবার শিমের বাজারদর ঠিক থাকলে অন্যবছরের মতো এই মৌসুমেও সব খরচ বাদ দিয়ে ভালোই লাভ হবে। তবে এবার অন্যবছরের তুলনায় সবজি ক্ষেতে তেমন খরচ হয়নি। আগামীতে রোগ-বালাই দেখা না দিলে কম খরচেই বাজারে সরবরাহ করা যাবে বলে তিনি জানান।
আবাদ করা সবজি বাজারজাতকরণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, পাইকারি ব্যবসায়ীরা ফুলকপি প্রতি পিস ১০ টাকা হারে ক্রয় করে তা খুচরা বাজারে বিক্রি করছে ৩০-৪০ টাকা কেজি দরে। এতে লাভবান হচ্ছে পাইকার-ক্রেতারাই। আমরা (কৃষকরা) যদি বাজারে সরাসরি খুচরা ক্রেতাদের হাতে আবাদ করা সবজি তুলে দিতে পারতাম, তা হলে আমরাও লাভবান হতাম। সেসঙ্গে অল্প দামে ক্রয় করতে পারত সাধারণ ক্রেতারা।
সদর উপজেলা কৃষি অফিসের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা আবু হেনা মোস্তফা কামাল ও কামরুল হাসান সময়ের আলোকে জানান, সাইফুল একজন আদর্শ সবজি চাষি। সবজি চাষে তাকে কৃষি বিভাগ সার্বক্ষণিক সহযোগিতা করছে। সঠিক পরিচর্যায় এবার সাইফুলের সবজিক্ষেতে ব্যাপক ফলনের আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন কৃষি কর্মকর্তাদ্বয়।
দিনাজপুর সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আকলিমুজ্জামান সময়ের আলোকে জানান, দিনাজপুর সদর উপজেলায় এবার সবজি উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১৫শ’ হেক্টর জমিতে। তবে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে সবজি চাষিরা এবার ২০৮৫ হেক্টর জমিতে আবাদ করেছেন বলে জানান তিনি।







সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]