ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা রোববার ৩১ মে ২০২০ ১৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭
ই-পেপার রোববার ৩১ মে ২০২০

স্পেনে দীর্ঘ হচ্ছে লাশের সারি
যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি চারজনে তিনজন লকডাউনে
সময়ের আলো ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ১ এপ্রিল, ২০২০, ১১:৫২ পিএম আপডেট: ০১.০৪.২০২০ ১:৩৯ এএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 44

করোনাভাইরাসে (কোভিড-১৯) আক্রান্তের সংখ্যা ক্রমেই বেড়ে চলেছে। একই সঙ্গে বাড়ছে মৃতের সংখ্যাও। এ পর্যন্ত গোটা বিশে^ করোনায় আক্রান্ত হয়েছে ৮ লাখ ৩ হাজার ৭০৭ জন। মারা গেছে ৩৯ হাজার ৭০ জন। আর সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ১ লাখ ৭২ হাজার ৪৩৪ জন।
বর্তমানে বিশে^র দুইশর অধিক দেশ ও অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে এ ভাইরাস। আক্রান্তের দিক দিয়ে এক নম্বর অবস্থানে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটিতে এ পর্যন্ত মোট ১ লাখ ৬৪ হাজার ৭৯৮ জন আক্রান্ত হয়েছে। মারা গেছে ৩ হাজার ১৭৮ জন। সুস্থ হয়েছে মাত্র ৫ হাজার ৫০৭ জন।
করোনায় এ পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি মারা গেছে ইতালিতে। দেশটিতে এ পর্যন্ত ১১ হাজার ৫৯১ জনের প্রাণ নিয়েছে করোনা। আক্রান্ত হয়েছে ১ লাখ ১ হাজার ৭৩৯ জন। সুস্থ হয়েছে ১৪ হাজার ৬২০ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় ইতালিতে নতুন করে আক্রান্ত হয়েছে ৪ হাজার ৫০ জন। একদিনেই মারা গেছে ৮১২ জন। আক্রান্তের দিক দিয়ে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে ইউরোপের দেশ স্পেন। সেখানে এ পর্যন্ত মোট ৯৪ হাজার ৪১৭ জন আক্রান্ত হয়েছে করোনাভাইরাসে। প্রাণ গেছে ৮ হাজার ১৮৯ জনের। আর গত ২৪ ঘণ্টায় মারা গেছে ৯১৩ জন।
উহানে প্রাদুর্ভাব শুরু হলেও ইতালি আর স্পেন যেমন করোনায় মৃত্যুর দিক দিয়ে সবাইকে ছাড়িয়ে গেছে, তেমনি যুক্তরাষ্ট্রে প্রতিদিন আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা। দেশটিতে গত একদিনে নতুন করে ৫৭৩ জনের  মৃত্যু হয়েছে। গত একদিনে নতুন করে আক্রান্ত হয়েছে ১৬ হাজারের বেশি মানুষ। সবচেয়ে বেশি মৃত্যু ও আক্রান্ত নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যে। এ ছাড়া আক্রান্তদের মধ্যে ৩ হাজার ৫১২ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিটি অঙ্গরাজ্যেই করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হচ্ছে প্রতিনিয়ত। তবে হওয়াই এবং উইওমিংয়ে এখনও করোনায় কেউ মারা যায়নি।
করোনাভাইরাসের মহামারী নিয়ন্ত্রণে যুক্তরাষ্ট্রের আরও কয়েকটি অঙ্গরাজ্য কঠোর ব্যবস্থা নিতে যাচ্ছে। এতে করে দেশটির প্রতি চারজন মানুষের মধ্যে প্রায় তিনজনই একরকম লকডাউনের আওতায় পড়তে যাচ্ছে। সর্বশেষ মেরিল্যান্ড, ভার্জিনিয়া, অ্যারিজোনা ও টেনেসি অঙ্গরাজ্য নাগরিকদের ঘরে থাকার নির্দেশ দিয়েছে। ফলে দেশটির ৫০টি অঙ্গরাজ্যের মধ্যে ৩২টিই এ পদক্ষেপ নিল। যুক্তরাষ্ট্রে ইতোমধ্যেই প্রায় ২৪ কোটি ৫০ লাখ মানুষকে ঘরে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দেশটির প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ অঙ্গরাজ্য নাগরিকদের ঘরে থাকার নির্দেশনা জারি করেছে। আর বাকি অঙ্গরাজ্যগুলোয় স্থানীয় পর্যায়ে এ ধরনের বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। ট্রাম্প প্রশাসন কর্তৃক গঠিত করোনাভাইরাস মোকাবেলা টাস্কফোর্সের প্রধান বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রে অন্তত ১ লাখ মানুষ করোনায় প্রাণ হারাবে।
এদিকে লাশের সারি দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হচ্ছে ইউরোপের দেশ স্পেনে। স্পেনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বলছে, দেশে নতুন করে আরও ৯ হাজারের বেশি মানুষ করোনায় সংক্রমিত হয়েছে, যা আগের দিনের সংক্রমণের চেয়ে ৩ হাজার বেশি। করোনা মহামারীতে বিপর্যস্ত স্পেনের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা প্রায় ভেঙে পড়েছে। রোগীর সংখ্যা লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ায় চিকিৎসকরা সেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন। করোনাভাইরাসের বিস্তার ঠেকানোর লক্ষ্যে দেশটিতে তিন সপ্তাহের লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে। লকডাউনের মধ্যেও দেশটির বিভিন্ন প্রান্তে করোনার প্রকোপ ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি করেছে।
গত বছরের ডিসেম্বরে চীনের হুবেই প্রদেশের উহানে প্রথম করোনাভাইরাস শনাক্ত করা হয়। দেশটিতে আক্রান্ত এ পর্যন্ত ৮১ হাজার ৫১৮, মারা গেছে ৩ হাজার ৩০২ আর সুস্থ হয়েছে ৭৬ হাজার ৫২ জন।
জার্মানিতে আক্রান্তের সংখ্যা ৬৬ হাজার ৮৮৫, মারা গেছে মাত্র ৬৪৫ আর সুস্থ হয়েছে সাড়ে ১৩ হাজার। ফ্রান্সে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৪৪ হাজার ৫৫০, মারা গেছে ৩ হাজার ২৪ আর সুস্থ হয়েছে ৭ হাজার ৯২৭ জন। ইরানে আক্রান্ত ৪১ হাজার ৪৯৫, মারা গেছে ২ হাজার ৭৫৭ আর সুস্থ হয়েছে ১৩ হাজার ৯১১ জন। যুক্তরাজ্যে এ পর্যন্ত মারা গেছে ১ হাজার ৪০৮, আক্রান্ত হয়েছে ২২ হাজার ১৪০ আর সুস্থ হয়েছে মাত্র ১৩৫ জন।









সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]