ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা রোববার ৩১ মে ২০২০ ১৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭
ই-পেপার রোববার ৩১ মে ২০২০

করোনা দুর্যোগেও অনেক ট্রাফিক পুলিশ সদস্যের পোয়াবারো
আলমগীর হোসেন
প্রকাশ: বুধবার, ১ এপ্রিল, ২০২০, ১১:৫২ পিএম আপডেট: ০১.০৪.২০২০ ১:৩৯ এএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 25

‘জানোস না? করোনার কারণে যানবাহন চলাচল থেকে শুরু করে সব বন্ধ। তারপরও গাড়ি লইয়া বের হয়ছিস ক্যান? এখন দেড় হাজার টাকা আমাদের জরিমানা দিয়া যা।’ ট্রাফিক পুলিশের কয়েকজন সদস্যের বিরুদ্ধে এভাবেই অভিযোগ করেন একটি স্বনামধন্য গ্রুপ প্রতিষ্ঠানের গাড়িচালক সোহাগ হাওলাদার।
তিনি অভিযোগ করেন, ২৭ মার্চ রাজধানীর মিরপুর কালশী মোড় এলাকায় এভাবেই ট্রাফিক পুলিশের চার সদস্য তাকে হয়রানির পাশাপাশি দেড় হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, শুধু কালশী নয়, ফাঁকা রাজধানীর মিরপুর বেড়িবাঁধ, পুরনো ঢাকা ও উত্তরাসহ অনেক এলাকায় ট্রাফিক পুলিশের কিছু সদস্য বেপরোয়া আচরণ করে যাচ্ছে। বিশেষ করে মাইক্রোবাস, ব্যক্তিগত কার বা অটোরিকশা আটকে মামলা বা রেকারের ভয় দেখিয়ে কোনো রসিদ প্রদান ছাড়াই তারা টাকা আদায় করছে। করোনাভাইরাসের সংক্রমণের ভয়ে অধিকাংশ মানুষ অবস্থান করছে বাসা-বাড়িতে। কার্যত জনবহুল রাজধানী ঢাকায় অধিকাংশ সড়ক প্রায় ফাঁকা। সড়কে  যানবাহন খুব সীমিত। তবুও চলছে গাড়ি ধরা-ছাড়ার খেলা। ভুক্তভোগীদের তথ্যমতে, ট্রাফিক পুলিশের এক শ্রেণির সদস্য ফাঁকা ঢাকায় রাস্তার মোড়ে বা সুবিধাজনক স্থানে যানবাহন আটকে কাগজপত্র পরীক্ষার নামে চালক বা আরোহীদের হয়রানি করছে। সব কিছু বন্ধ জানার পরও কেন রাস্তায় বেরিয়েছÑ এমন ধরনের নানা ধমকি দিয়ে তারা টাকা আদায় করছে বলে জানা গেছে।
তবে এসব অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই বলে মন্তব্য করেছেন ডিএমপির গণমাধ্যম শাখার উপকমিশনার মো. মাসুদুর রহমান। তিনি বলেন, রাস্তায় এ রকম হয়রানি বা টাকা আদায়ের মতো কোনো অভিযোগ শোনা যাচ্ছে না। তবে কেউ সুনির্দিষ্ট অভিযোগ করলে খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, এখন পুলিশসহ সবাই মহাদুর্যোগ করোনাভাইরাস সংক্রমণের হাত থেকে রক্ষা পাওয়া নিয়ে উদ্বিগ্ন। বরং পুলিশ করোনা ইস্যুতে জনগণের জন্য সামাজিক ও মানবিক নানা কাজ করছে।
ভুক্তভোগী গাড়িচালক সোহাগ হাওলাদার বলেন, ঘটনার দিন তিনি আশুলিয়ার ফার্ম থেকে দুধ নিয়ে তার প্রতিষ্ঠানের মালিকের বাসায় ফিরছিলেন। এ সময় কালশী মোড়ে ট্রাফিক পুলিশের একজন সার্জেন্ট ও তিনজন কনস্টেবল তার গতিরোধ করেন। চালক সোহাগের গাড়ির কাগজপত্র পরীক্ষার পর সব ঠিক থাকলে তাকে ধমকি দিয়ে বলা হয় ‘এ অবস্থায় রাস্তায় বের হয়ছিস ক্যান?’ এরপর মামলার কথা বলতে থাকে তারা। সোহাগ মামলা নিতে না চাইলে নগদ জরিমানা দিতে বলা হয়। এক পর্যায়ে সোহাগের মানিব্যাগ তারাই বের করে সেখানে থাকা দেড় হাজার টাকা নিয়ে নেয়। এটি জরিমানা নেওয়া হলো বলে ওই চালককে ধমক দিয়ে দ্রুত চলে যেতে বলে দায়িত্বরত ট্রাফিক পুলিশের সদস্যরা। তবে জরিমানা বাবদ তাকে কোনো রসিদ দেওয়া হয়নি।
এ প্রসঙ্গে ডিএমপির ট্রাফিক পশ্চিম বিভাগের (মিরপর) অতিরিক্ত উপকমিশনার সময়ের আলোকে মোবাইল ফোনে বলেন, এ ধরনের ঘটনা ঘটার কথা নয়। তারপরও সুনির্দিষ্ট কেউ অভিযোগ করলে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। তিনি বলেন, কালশীর ওই এলাকায় ট্রাফিক পুলিশের সীমানা জটিলতা আছে। এ ছাড়া কয়েকটি পেট্রোল টিমও কাজ করে। ফলে কোন বিভাগের কে বা কারা ডিউটিতে ছিল তা পাওয়াও কঠিন বিষয়।
রাজধানী ঢাকা ছাড়াও করোনার ভয়াবহ পরিস্থিতির মাঝে দেশের বিভিন্ন এলাকার সড়কে নিত্যপণ্যের ট্রাক, পিকআপ ও মিনিট্রাকসহ বিভিন্ন যানবাহন আটকে টাকা আদায় বা হয়রানি কিংবা বাধা দেওয়ার অভিযোগ হরহামেশাই শোনা যাচ্ছে। এ কারণে ২৭ মার্চ বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও কৃষি বিভাগ থেকে পুলিশের আইজিপি ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে চিঠি দেওয়া হয়। ওই চিঠিতে সড়কে নিত্যপণ্যের গাড়ি ও জরুরি প্রয়োজনে বের হওয়া যানবাহন চলাচলে বাধা দেওয়াসহ হয়রানির কথাও উল্লেখ করে নির্বিঘ্নে চলাচলে সহায়তা চাওয়া হয়।







সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]