ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা রোববার ৩১ মে ২০২০ ১৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭
ই-পেপার রোববার ৩১ মে ২০২০

চট্টগ্রাম বন্দরে পণ্যজট, অফডকে কাজ বিঘ্নিত করোনায় থমকে গেছে আমদানি-রফতানি
জসীম চৌধুরী সবুজ চট্টগ্রাম
প্রকাশ: বুধবার, ১ এপ্রিল, ২০২০, ১১:৫২ পিএম আপডেট: ০১.০৪.২০২০ ১:৪০ এএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 27

করোনাভাইরাস সংক্রমণ থেকে রক্ষা পেতে দেশে চলছে দশ দিনের ছুটি। ঝুঁঁকি না কমায় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে এই লকডাউনের সময় বাড়ানো হয়েছে ১১ এপ্রিল পর্যন্ত। গত সাতদিন ধরে সব অফিস-আদালত বন্ধ থাকার পাশাপাশি যানবাহন চলাচলও বন্ধ রয়েছে সারা দেশে। ট্রাক- লরি, কাভার্ডভ্যান ইত্যাদি বন্ধ থাকায় চট্টগ্রাম বন্দর থেকে পণ্য পরিবহনও বন্ধ হয়ে গেছে। ব্যাংকের কিছু শাখায় সীমিত কার্যক্রম চললেও চেক ক্লিয়ারিং বন্ধ থাকায় বাণিজ্যিক কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে। বন্দর থেকে প্রতিদিন ৬টি মালবাহী ট্রেনে শুধু নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী ঢাকা ও অন্যান্য স্থানে পাঠানো হলেও পরিবহন বন্ধ থাকায় অন্য সব পণ্যের ডেলিভারি বন্ধ রয়েছে। এতে করে বন্দরের অভ্যন্তরে আমদানি পণ্য বোঝাই কন্টেইনারের জট বাড়ছে প্রতিদিন। আমদানিকারক পণ্য খালাস করে নিতে না পারায় তাদের ঘাড়ে বাড়ছে পোর্ট ডেমারেজ ও পেনাল্টির খড়গ। আবার ১৯টি অফডকে (প্রাইভেট আসিডি) লোকবল সঙ্কটে হ্যান্ডলিং কার্যক্রম বিঘ্নিত হওয়ায় রফতানি পণ্যবাহী কন্টেইনারের জটও বাড়ছে। বাংলাদেশ শিপিং এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশন, বিজিএমইএ সূত্র জানান, ৩৯টি আমদানি পণ্য এবং তৈরি পোশাকসহ ৯২ শতাংশ রফতানি পণ্য অফডকে হ্যান্ডলিং করা হয়। এসব অফডকে ৩০ হাজারেরও বেশি শ্রমিক কাজ করে। আউট সোর্সিং ভিত্তিতে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান এসব  চলে যাওয়ায় এখন অফডকসমূহে হ্যান্ডলিং কাজ চালিয়ে নেওয়ার মতো লোকবল পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে রফতানি পণ্য জাহাজিকরণ বিঘ্নিত হচ্ছে।
চট্টগ্রাম বন্দর ২৪ ঘণ্টা খোলা রাখা হলেও আমদানি কন্টেইনার খালাসে জটিলতার পাশাপাশি পরিবহন শ্রমিক, উইন্সম্যান শ্রমিকদের কর্মবিরতিতেও বন্দরের কাজ এই সপ্তাহে দুইদিন বন্ধ হয়েছে। জরুরি পণ্য ছাড়া বন্দর থেকে আর কোনো পণ্য ডেলিভারিও হচ্ছে না। কারণ পরিবহনে নেই লরিÑ কাভার্ডভ্যান কিছুই। পরিবহন শ্রমিক এখান থেকে মালামাল নিয়ে গেলে পথে খাবে কোথায়, থাকবে কোথায়, ফিরবে কি নিয়ে এসব প্রশ্নে মালবাহী যান চালু করা যাচ্ছে না। চট্টগ্রাম কাস্টম হাউস খোলা রাখলেও পণ্যের এসেসমেন্ট করে শুল্ক কর পরিশোধের জন্য ব্যাংকিং সুবিধা যথেষ্ট না হওয়ায় সেখানে সঙ্কট রয়েছে।
চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি মাহবুবুল আলম সময়ের আলোকে বলেন, চট্টগ্রাম বন্দর থেকে সাপ্লাই চেইন যাদি ঠিক রাখা না যায় তাহলে আগামীতে সঙ্কট প্রকট হতে পারে। সামনে পবিত্র রমজান মাস। এর আগেই একটি সমন্বিত উদ্যোগ নিতে হবে কিভাবে আমদানি-রফতানি বাণিজ্য সীমিত পরিসরে হলেও চালু রাখা যায়। বন্দর খোলা রাখা হলেও কৃষি বিভাগের কোয়ারেন্টাইন শাখা এবং পরমাণু শক্তি কমিশনের লোকবল না থাকালে খাদ্য ও ভোগ্যপণ্য খালাস হবে না। এই দুই বিভাগের দায়িত্ব বন্দরে আসা শস্যাদির পরীক্ষা করে রিপোর্ট দেওয়া এবং তেজস্ক্রিয়তা মুক্তের সনদ দেওয়া। দুই বিভাগের লোকজন রাখা, ব্যাংকিং কার্যকর্ম চালু রেখে যেন শুল্ককরাদি পরিশোধ করা যায় সে ব্যবস্থার পাশাপাশি পণ্য পরিবহন করার জন্য মালিক, শ্রমিকদের নিয়ে টিম গঠনের সুপারিশ করেন তিনি। চেম্বার সভাপতি বলেন, নিরাপত্তা সুবিধা নিশ্চিত করে পরিবহন শ্রমিকদের বড় একটি টিম যদি মালামাল পরিবহন কাজে যুক্ত করা না যায় তাহলে সমস্যা আরও বাড়তে পারে। এ ব্যাপারে বন্দর, সেনাবাহিনী ও প্রশাসনকে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
দেশের বৃহত্তম পাইকারি বাজার খাতুনগঞ্জ এখন খাঁ খাঁ করছে। রমজান মাস সন্নিকটে। ব্যাংক বন্ধ থাকায় পণ্য আমদানির জন্য ঋণপত্র (এলসি) খোলার কাজ ব্যাহত হচ্ছে। যেসব পণ্য বন্দরে এসে পৌঁছেছে তার এসেসমেন্ট করে খালাসের ব্যবস্থা করা যাচ্ছে না। পরিবহন সমস্যার পাশাপাশি শ্রমিক সমস্যাও রয়েছে। করোনাভাইরাস আতঙ্কে সরকারি নির্দেশে ঘর থেকে লোকজন বের হচ্ছে না স্বাস্থ্যবিধির কারণে। এই সমস্যা কিভাবে মোকাবেলা করে পণ্যপ্রবাহ স্বাভাবিক রাখা যায় সে ব্যাপারে সিদ্বান্ত নেওয়ার আহ্বান জানান ভোগ্যপণ্য আমদানিকারকরা।










সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]