ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা রোববার ৩১ মে ২০২০ ১৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭
ই-পেপার রোববার ৩১ মে ২০২০

ঝুঁকির মধ্যে চিকিৎসা দিচ্ছে কমিউনিটি ক্লিনিকের সিএইচসিপিরা
নওগাঁ প্রতিনিধি
প্রকাশ: বুধবার, ১ এপ্রিল, ২০২০, ১১:১১ এএম | অনলাইন সংস্করণ  Count : 421

রামঞ্চলে জনগণের দোড়গোরায় স্বাস্থ্যসেবা পৌছে দিতে সরকার চালু করেছেন কমিউনিটি ক্লিনিক (সিসি)। প্রতিটি সিসিতে রয়েছে একজন করে কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডা (সিএইচসিপি)। চিকিৎসা সেবা প্রদানে সিএইচসিপিদের সরকার থেকে বিশেষ ভাবে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে। করোনা পরিস্থিতিতে সকল সরকারি অফিস, শিক্ষা প্রতিষ্ঠা, ব্যবসা প্রতিষ্ঠা ও কলকারখানা বন্ধ রয়েছে। জন্মভূমির টানে অনেকে বাড়ি ফিরেছেন। অনেকে জ্বর, সর্দি ও কাশিতে অসুস্থ হয়ে পড়েছে।

নওগাঁয় সিএইচসিপিরা অনেকটা ঝুঁকির মুখে চিকিৎসা সেবা চালিয়ে যাচ্ছেন। করোনা পরিস্থিতিতে চিকিৎসা সেবার জন্য যে বিশেষ ব্যক্তিগত সুরক্ষা সরঞ্জাম (পিপিই)সহ অন্যান্য সরঞ্জাম এখনো সরবরাহ করা হয়নি।

নওগাঁ সিভিল সার্জন (সিএস) ডা: আখতারুজ্জামান আলাল জানান, জেলায় ১১টি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও ৯৯টি ইউনিয়নে ৩০১টি কমিউনিটি ক্লিনিক আছে। ১১টি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১৭৩ জন ডাক্তার ও ২৩২ জন নার্স আছে। স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে ব্যক্তিগত সুরক্ষা
সরঞ্জাম (পিপিই), মাস্ক ও গেøাবস ১ হাজার ১৪০ পিস করে ও হেকসাসোল ১৬৫ পিস দেয়া হয়েছে। এসব উপকরণের মধ্যে সিএস অফিসে ১৪০ পিস পিপিই ও ৫০ পিস মাস্ক রেখে বাঁকীগুলো সব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বিতরণ করা হয়েছে। কিন্তু কমিউনিটি ক্লিনিকের জন্য কোন উপকরণ বরাদ্দ রাখা হয়নি। এখন পর্যন্ত কোন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি।

সদর উপজেলার নামানুরপুর গ্রামের যুবক শফিক বলেন, তিনি ঢাকায় থাকতেন। গত ১০দিন আগে বাড়িতে আসার পর জ্বর ও সর্দিতে অসুস্থ হয়ে পড়েন। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দুর হওয়ায় বাড়ির পাশে কমিউনিটি ক্লিনিকে গিয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন।
নামানুরপুর কমিউনিটি ক্লিনিকের সিএইচসিপি কামরুল হাসান বলেন, করোনা আতঙ্কের পর সকাল ৮ টা থেকে দুপুর ১২ টা পর্যন্ত ডিউটি দেয়া হয়েছে। আমাদের সাধারন প্রত্যান্ত এলাকার জ্বর, সর্দি ও কাশিসহ অন্যান্য রোগী দেখতে হয়। আগে প্রতিদিন যেখানে ৩০/৩৫ জন এসব রোগী হতো। এখন সেখানে ৫০/৬০ জন রোগী দেখতে হচ্ছে। এ মুহুর্তে ওষধও সংকট পড়েছে। ঢাকা ফেরতরাও হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকতে বলা হয়েছে। এখন কে ঢাকা থেকে গ্রামে আসছে সেটা আমরা বুঝতেও পারবো না। চিকিৎসা দিতে গিয়ে বর্তমানে নিরাপত্তাহীনতায় ভূগছি। এখন পর্যন্ত আমাদের সুরক্ষা ব্যবস্থার কোন সরঞ্জাম দেয়া হয়নি।

নওগাঁ সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: আবুল কালাম আজাদ বলেন, উপজেলায় ৩১টি কমিউনিটি ক্লিনিক আছে। সিসিতে কর্মরত সিএইচসিপিরা যথাসাধ্য চেষ্টা করে যাচ্ছেন চিকিৎসা সেবা দেয়ার জন্য। উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে তাদের নিরাপত্তা সামগ্রি দেয়ার জন্য ইতোমধ্যে বেশকয়েকবার তাগাদা দেয়া হয়েছে। কিন্তু কোন সদুত্তর পাওয়া যায়নি।

নওগাঁ ডেপুটি সিভিল সার্জন ডাঃ মোঃ মনজুর-এ- মুর্শেদ বলেন, প্রকারভেদে বিভিন্ন অসুস্থ রোগী দেখার জন্য সরকার থেকে একটা নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। ডাক্তার হলেই যে পিপিই ব্যবহার করতে হবে এমন কথা না। আর সে নির্দেশনা মোতাবেক আমরা কাজ করছি। সর্দি-কাশি রোগীদের জন্য আলাদা কর্ণার করা হয়েছে। তবে এসব রোগী দেখার জন্য আপাতত নিরুসাহিত করা হচ্ছে। তাদের জন্য অনলাইন বা ফোনে প্রাথমিক চিকিৎসা দয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, যেহেতু সিএইচসিপিরা চিকিৎসা দিতে গিয়ে কিছুটা ভয় করছে। কিন্তু ভয় পেলেও আমাদের কিছু করার নাই। যেহেতু সরকার থেকে নির্দেশনা দেয়া আছে কোন রোগী পিপিই/মাস্ক/গেøাবস পরে দেখতে হবে। আমরা এর বাহিরে যেতে পারবো না।




এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]