ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা রোববার ৩১ মে ২০২০ ১৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭
ই-পেপার রোববার ৩১ মে ২০২০

মানবিক সঙ্কটে ভারতের পরিযায়ী শ্রমিকরা
সময়ের আলো অনলাইন
প্রকাশ: বুধবার, ১ এপ্রিল, ২০২০, ৫:৪৮ পিএম আপডেট: ০১.০৪.২০২০ ৬:০৮ পিএম | অনলাইন সংস্করণ  Count : 53

ভারতে করোনাভাইরাস সংক্রমণ ঠেকাতে যখন লকডাউন চলছে, তখন সেদেশ এক মানবিক সঙ্কটের দিকে এগোচ্ছে বলে মনে করছেন অনেকে।

তিন মাস হল পূর্ব বর্ধমান থেকে সুরাটে এম্ব্রয়ডারির কাজ করতে এসেছেন মুহম্মদ সেকেন্দার। জানালেন তার সঙ্কটের কথা।

তিনি বলেন, "রোববার কারফিউ লাগার আগের দিন মালিক কিছু টাকা দিয়েছিল। তা দিয়ে তিন চার দিন খেয়েছি। তারপর থেকে আমরা কয়েকশো বাঙালী শ্রমিক শুধু নলের পানি খেয়ে থাকছি।"

সেকেন্দার আরও বলেন, "একটাও পয়সা নেই হাতে। কোনও মতে পেটে গামছা বেঁধে রয়েছি। সবাইকে মিনতি করছি, একটু আমাদের কথাটা ভাবুন"।

গত সপ্তাহে দিল্লির একটি আন্তরাজ্য বাস টার্মিনালের ছবি অনেকেই দেখেছেন -- কয়েক লক্ষ মানুষের ভিড় সেখানে, লকডাউনের পরে তারা নিজেদের গ্রামে ফেরার চেষ্টা করছেন।

এমনকি, অনেকে পায়ে হেঁটেই পাঁচ, ছয় বা সাতশো কিলোমিটার দূরে নিজের গ্রামে যাওয়ার জন্য রওনা হয়েছেন স্ত্রী সন্তানদের হাত ধরে।

এ বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেকে আবার আশঙ্কা প্রকাশ করছেন যে, এই কয়েক লক্ষ মানুষ নিজেদের গ্রামে ফিরে যেতে গিয়ে সারা দেশে করোনাভাইরাস ছড়িয়ে দেবেন।

কিন্তু তারা একপ্রকার বাধ্য হয়েই পায়ে হেঁটে শয়ে শয়ে কিলোমিটার পাড়ি দিচ্ছেন। তাদের কাজ বন্ধ, তাই খাবারের সংস্থান অনিশ্চিত।

তারা বলেন, গ্রামে ফিরলে অন্তত ঘরভাড়া গুনতে হবে না, আর কোনও মতে খাবার ঠিকই জুটে যাবে।

ব্যাঙ্গালোরের গবেষক মিজ রোজি। যিনি পরিযায়ী শ্রমিকদের নিয়ে গবেষণা করেন। সেই সূত্রেই পরিযায়ী শ্রমিকেদের সঙ্গে তার যোগাযোগ রয়েছে।

এই গবেষক জানান, প্রতিদিন তাদের কাছে ৮০ থেকে ১০০-রও বেশি ফোন আসছে। সবাই বলছে তাদের হাতে পয়সা নেই, খাবার নেই, এমনকি পানি কেনারও পয়সা নেই। অনেক জায়গাতেই পানি কিনে খেতে হয়।

তিনি আরও বলেন, যারা গৃহকর্মে যুক্ত আছেন, সেই সব নারী যেখানে কাজ করেন, সেখানে গিয়ে বেতন আনতে পারছেন না। আবার যারা নির্মান কাজে যুক্ত, তাদের নির্মানস্থলেই অস্থায়ী ছাউনি বানিয়ে রাখা হয়। লকডাউনের ফলে এরা সকলেই আটকে পড়েছেন।

এদিকে, ভারতের সংবাদমাধ্যমগুলি বলছে পায়ে হেঁটে কয়েকশো কিলোমিটার পাড়ি দিতে গিয়ে ইতিমধ্যেই দু'জন মারা গেছেন।

সামাজিক কর্মকর্তা  মি. ব্যানার্জীর মতো অন্যরাও বলছেন, দ্রুত যদি এই শ্রেণীর মানুষের কাছে খাবার, পানীয় জল, চিকিৎসার ব্যবস্থা আর কিছু অর্থ সাহায্য না পৌঁছে দেওয়া যায়, তাহলে এরা রাস্তায় বেরোতে বাধ্য হবেন খাবারের খোঁজে, আর তখন লকডাউনের মূল উদ্দেশ্যটাই ব্যর্থ হয়ে যাবে।




এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]