ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা রোববার ৩১ মে ২০২০ ১৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭
ই-পেপার রোববার ৩১ মে ২০২০

করোনার প্রভাবে বিশ^ জুড়ে বাতিল হচ্ছে একের পর ঐতিহ্যবাহী উৎসব
বাংলাদেশেও হচ্ছে না পহেলা বৈশাখের কোনো আয়োজন
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল, ২০২০, ১১:৪২ পিএম আপডেট: ০২.০৪.২০২০ ২:২৪ এএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 20

বিশ^ জুড়ে করোনা আতঙ্কে ত্রাহি অবস্থা। চীনে উৎপত্তির পর ভাইরাসটি তার দৌরাত্ম্য ছড়িয়েছে ২শ’টির বেশি দেশে। বিশ^ জুড়ে বাতিল হচ্ছে একের পর এক উদযাপন। ফ্যাশন শো থেকে অপেরা হাউস, মেলা বা অন্যান্য সাংস্কৃতিক আয়োজনÑ এমনকি পিছিয়েছে টোকিও অলিম্পিকও। এই ধারাবাহিকতায় দেশের অন্যতম বড় উৎসব পহেলা বৈশাখেরও সব আয়োজন বাতিল করা হচ্ছে বলে জানা গেছে। করোনা সতর্কতায় এ বছর আয়োজিত হবে না মঙ্গল শোভাযাত্রা বা ছায়ানটের অনুষ্ঠান।
খোদ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আহ্বান জানিয়েছেন, লোকসমাগম না করে প্রয়োজনে ডিজিটালি পহেলা বৈশাখ উদযাপন করার। এতে করে বাংলার এত বছরের ঐতিহ্য আয়োজন এ বছরই প্রথম অনাড়ম্বরভাবে উদযাপিত হতে যাচ্ছে বলে মনে করছেন সবাই।
মঙ্গলবার গণভবনে এক ভিডিও কনফারেন্সে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বাংলা নববর্ষ সবসময় আমরা খুব উৎসাহভরে উদযাপন করে থাকি। এবার যেহেতু আমরা সব অনুষ্ঠানই বাদ দিয়েছি, তাই নববর্ষের অনুষ্ঠানও করা যাবে।
তিনি বলেন, বিশাল জনসমাগম করে সারা দেশে উৎসব সম্পূর্ণ বন্ধ রাখতে হবে। এটা আমার বিশেষ অনুরোধ। কষ্ট বেশি লাগছে জানি। কারণ অনেক সংগ্রাম ও বাধা অতিক্রম করে আমরাই নববর্ষের উৎসব শুরু করেছিলাম। কিন্তু সেটা আমাকে বন্ধ রাখতে হচ্ছে মানুষের কল্যাণের দিকে তাকিয়ে। তবে এখন তো ডিজিটাল যুগ। ডিজিটাল পদ্ধতিতে গান-বাজনা, উৎসব করতে পারেন। ডিজিটাল পদ্ধতিতে আমাদের স্কুলের ক্লাসগুলো শুরু করে দিয়েছি। এই আজ (গতকাল) যেমন ভিডিও কনফারেন্স করছি। এরকমভাবে উদযাপন করতেই পারেন।
এই আহ্বানে সাড়া দিয়ে পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে রমনা বটমূলে ছায়ানটের প্রভাতি আয়োজন কিংবা চারুকলা অনুষদের মঙ্গল শোভাযাত্রা পহেলা বৈশাখ উদযাপনের প্রধান দুই আয়োজন বাতিল করা হচ্ছে। যদিও এর আগে বিকল্প ব্যবস্থায় আয়োজন দুটি করার কথা জানানো হয়েছিল আয়োজকদের পক্ষ থেকে। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে তাও হচ্ছে না।
ছায়ানটের সহসভাপতি খায়রুল আনাম শাকিল এবং ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের (ঢাবি) চারুকলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক নিসার হোসেন সাংবাদিকদের এ তথ্য নিশ্চিত করেন। ছায়ানটের সহসভাপতি জানান, আমরা আয়োজন যতই সীমিত করি না কেন, সেখানে মানুষের সমাগম ঘটবে। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে মানুষকে আসতে বলা বা মহড়া করতে আসতে বলাটাও সম্ভব হচ্ছে না। পরিস্থিতিটা এমন হয়ে গেছে, এটা আসলে সম্ভব হচ্ছে না এ বছর।
পুরো আয়োজনটি রেকর্ড করে পহেলা বৈশাখের সকালে টেলিভিশনের মাধ্যমে প্রচার করার বিকল্প কোনো সিদ্ধান্ত আছে কি না জানতে চাইলে তিনি জানান, সেটিও এখন সম্ভব নয়। কেননা সেটির জন্যও জনসমাগম তৈরি হয়। আগে আমাদের নিজেদের নিয়ে ভাবতে হবে। ছায়ানট শুধু গান শেখার প্রতিষ্ঠান তো নয়, বরং যেকোনো ক্রান্তিকালে এটি মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে এবং এখনও গরিব ও দুস্থদের সাহায্যের মাধ্যমে ছায়ানট সবার পাশে থাকতে চায়।
করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে পহেলা বৈশাখের অনুষ্ঠানের আয়োজন করছে না সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটও। সংগঠনটি প্রতিবছর ধানমন্ডির রবীন্দ্র সরোবরে পহেলা বৈশাখে অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। এ বিষয়ে জোটের সভাপতি গোলাম কুদ্দুছ জানান, কোনো অনুষ্ঠানই মানুষের জীবনের চেয়ে বড় নয়। মানুষকে বাঁচাতে আমরা যেকোনো উদ্যোগ নিতে প্রস্তুত। তাই আমরা সঙ্গনিরোধসহ করোনা প্রতিরোধের লক্ষ্যে পহেলা বৈশাখের কোনো আয়োজন এ বছর পালন করব না।
এ চিত্র শুধু বাংলাদেশে নয়, করোনা আতঙ্কে বিশে^র অন্যান্য দেশের ঐতিহ্যবাহী অনুষ্ঠানও পিছিয়ে নেওয়া হচ্ছে বা বাতিল করা হচ্ছে। মে মাসে শুরু হওয়ার কথা থাকলেও মর্যাদাপূর্ণ ভেনিস আর্কিটেকচার বিয়েনালের আয়োজনটি তিন মাস পিছিয়ে আগস্টে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। ২৯ আগস্ট থেকে ২৯ নভেম্বর পর্যন্ত চলবে এটি। মার্চের ১০-১২ তারিখ লন্ডনে বইমেলা হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু কর্মীদের নিরাপত্তার খাতিরে বেশ কয়েকটি বড় প্রকাশক মেলায় অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলে মেলা বাতিল ঘোষণা করা হয়। করোনাভাইরাসের কারণে সঙ্গীত বিষয়ে ইউরোপের সবচেয়ে বড় মেলা ‘ম্যাজিকমেসে ফ্রাঙ্কফুর্ট’ও স্থগিত করা হয়েছে। আগামী ২-৪ এপ্রিল এই মেলা হওয়ার কথা ছিল। এবার মেলার ৪০তম বার্ষিকী উদযাপনের পরিকল্পনা ছিল। করোনার কারণে বাতিল করা হয়েছে লাইপসিশ বইমেলাও। জার্মানির দ্বিতীয় বৃহৎ বইমেলাটি ১২-১৫ মার্চ হওয়ার কথা ছিল। এছাড়া ভ্রমণ বিষয়ে বিশে^র সবচেয়ে বড় মেলা আইটিবি ট্রাভেল ট্রেড শো (বার্লিন) আয়োজনও শেষ মুহূর্তে বাতিল করেছেন আয়োজকরা।
বিশ^ জুড়ে পর্যটকদের প্যারিস ভ্রমণের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ ল্যুভর মিউজিয়াম। ফ্রান্সে করোনাভাইরাস শনাক্ত হওয়ার পর সেটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। প্রতিবছর এপ্রিলে সারা বিশে^র পেশাদার ডিজাইনার, শিল্পী ও কোম্পানি নতুন নতুন আসবাবপত্রের নকশা এবং ইন্টেরিয়র ডিজাইন দেখতে যান মিলান ডিজাইন সপ্তাহে। করোনাভাইরাসের কারণে আয়োজকরা মেলা পিছিয়ে জুনে নিয়ে গেছেন। ইতালির অভিজাত অপেরা হাউসগুলোর একটি মিলানের লা স্কালা। ৮ মার্চ পর্যন্ত যেটি বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়ায় করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার পর কে-পপ বয় ব্যান্ড ‘বিটিএস’ সৌল অলিম্পিক স্টেডিয়ামে তাদের চারটি কনসার্ট বাতিল করেছে। করোনার প্রভাব প্যারিস ফ্যাশন উইকেও পড়েছে। অনেক বড় বড় ডিজাইনার অংশ নেননি। এমনকি সম্ভাষণ জানানোর ঐতিহ্যবাহী রীতিতেও পরিবর্তন দেখা গেছে।








এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]