ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা সোমবার ২৫ মে ২০২০ ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭
ই-পেপার সোমবার ২৫ মে ২০২০

করোনাভাইরাস চ্যালেঞ্জ  অগ্রযাত্রার রূপকল্প ২০৪১
সৈয়দ নাজমুল হুদা
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল, ২০২০, ১২:০০ এএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 193

করোনাভাইরাসের প্রভাবে কেবল বাংলাদেশ নয়, গোটা বিশ^ই অর্থনৈতিক ক্ষতির সম্মুখে পড়েছে। বিশ^ব্যাপী করোনাভাইরাস সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ায় এর ভয়াল রূপ ধারণ করেছে আক্রান্ত দেশসমূহের মধ্যে। মানুষ বাঁচে আশায়। প্রাণ পাখিটি উড়ে গেলে সে আশা কি আর রবে? করোনাভাইরাসকে শুধু প্রাকৃতিক দুর্যোগ হিসেবে না দেখে সরকার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে এটাকে একটা ভাইরাস মোকাবেলার যুদ্ধ হিসেবে গ্রহণ করেছে। এটা ঠিক, কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলায় তিনটি বিষয় গুরুত্ব আরোপ করা হয়। প্রাক-দুর্যোগ প্রস্তুতি, দুর্যোগকালীন ব্যবস্থা ও দুর্যোগ পরবর্তী প্রভাব ও এর মোকাবেলা।
জানুয়ারির প্রথম দিকে চীনে ভাইরাসটি ছড়িয়ে পড়লেও ভাইরাসটি বাংলাদেশে এসেছে মার্চের মাঝামাঝি সময়ে। সরকার প্রাক-দুর্যোগ মোকাবেলায় প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সহযোগিতার পাশাপাশি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সহযোগিতা নিয়েছে। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সরকারি ছুটি ঘোষণা করেছে। জনসচেতনতামূলক লিফলেট, প্রচারপত্র, বিভিন্ন সামাজিক রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ করেছে। স্কুল, কলেজ, বিশ^বিদ্যালয়সমূহ বন্ধ ঘোষণা করেছে। পাশাপাশি ছাত্রছাত্রীদের পড়ালেখা নষ্ট না হয় সে জন্য অনলাইনে ই-লার্নিং চালু করেছে। বিভিন্ন দোকানপাট, শপিংমল, শিল্প কলকারখানা বন্ধ ঘোষণা করেছে। নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য
ঘরে ঘরে খাবার পৌঁছানোর ব্যবস্থা করেছে। সরকারপ্রধান হিসেবে প্রধানমন্ত্রী নির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা ও তদারকি করছে।
সার্বক্ষণিক বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানি সরবরাহ করছে। দুর্যোগকালীন মানুষের জানমাল হিফাজতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ বিভিন্ন সংস্থা কাজ করছে। এরপরেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেশের বিভিন্ন জায়গায় কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটলে সরকারের বিরুদ্ধে সমালোচনার ঝড় বইছে। সবেমাত্র আমরা স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশের কাতারে এসেছি। আমাদের সীমাবদ্ধতা আছে। তেমনি বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলা করার মতো সাহসও আছে। যেখানে উন্নত বিশ^সহ বিশে^র বিভিন্ন দেশসমূহ হিমশিম খাচ্ছে সেখানে করোনা মোকাবেলায় আমাদের ঘরে থাকতে বলা হয়েছে সেটাওবা আমরা সবাই ঠিকমতো কতটুকু করছি?
জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রশাসন যেভাবে কাজ করছে এটা অবশ্যই মানবতার চরম দৃষ্টান্ত হতে পারে। পাশাপাশি গণমাধ্যমগুলোও যথেষ্ট দায়িত্বশীল ভূমিকা রেখে চলছে। আমি একটু পেছনে যাচ্ছি ১৯৭২ সাল। সদ্য স্বাধীন দেশ। বৈরী বিশ^ কূটনীতি। ধ্বংস অবকাঠামো। চালের গুদাম চালশূন্য। বাড়িঘর ভস্মীভূত। ব্যাংকে একটি ডলারও রিজার্ভ নেই। যোগাযোগব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন। শুধু আছে মানুষ।
এটাই ছিল জাতির জনকের সম্পদ। আর এ মানবসম্পদকে সঙ্গে নিয়েই সুবিন্যস্ত এবং সমন্বিত নীতি ও কর্মসূচির মাধ্যমে সোনার বাংলা গড়ার কাজে হাতে দেন বঙ্গবন্ধু। ১৯৭২ সালে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে গড়ে উঠা দেশের মাথাপিছু আয় ছিল ৯৩ মার্কিন ডলার যা ১৯৭৫ সালে দাঁড়ায় ২৭২ মার্কিন ডলারে। আজ তা হয়েছে প্রায় ২০০০ মার্কিন ডলারের মতো। রিজার্ভ বেড়েছে। এটা ঠিক রেমিট্যান্সের ওপর সরাসরি একটা প্রভাব এবার পড়বে। ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিট্যান্স পাঠালে ২ শতাংশ হারে নগদ প্রণোদনা দেওয়ায় ২০১৯-২০২০ অর্থবছরে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত উল্লেখযোগ্য রেমিট্যান্স এসেছে। পোশাক শিল্পে প্রায় আড়াইশ কোটি মার্কিন ডলারের বেশি অর্ডার বাতিল হয়েছে।
শেয়ারবাজারের সূচক কমেছে। ফেস ভ্যালুর নিচে শেয়ারের দাম এসেছে অধিকাংশ কোম্পানির। ২০১৮-২০১৯ অর্থবছরে জিডিপির প্রবৃদ্ধি ৮.১৫ শতাংশ হয়েছিল। যা এবার হয়তো বা হবে না। রাজস্ব আদায় কাক্সিক্ষত হবে না। শতাধিক গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন কাজ চলছে। এর মধ্যেও পদ্মা সেতুর ২৭তম স্প্যান লেগেছে। উৎপাদনমুখী ও রফতানি শিল্পের নাজুক অবস্থা। তবে বিশ^বাজারে এরই মধ্যে জ্বালানি তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ২০ ডলারের নিচে চলে এসেছে। আমরা চতুর্থ শিল্প বিপ্লব ফেস করব। এরই মধ্যে করোনা সংক্রমণ এর প্রভাব কর্মসংস্থানে পড়বে। ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণ বাড়বে।
শত সমস্যা আছে আমাদের। যুগে যুগে জাতীয় জীবনে আমাদের নানা সঙ্কট এসেছে। আবার সেসব দুর্যোগ মোকাবেলাও সম্মিলিতভাবে চেষ্টা করে সমাধানও হয়েছে। ‘তলাবিহীন ঝুড়ি’ বলে ডাকা দেশ আজ উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে পৃথিবীতে রোল মডেল। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন ‘সবাই যার যার ঘরে থাকুন, ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন, নিরাপদ থাকুন। স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলুন।’ সরকারের যথাযথ প্রচেষ্টা ও আন্তরিকতা আছে। আমরা কি এখন সবাই মিলে সরকারের বিধিবিধান মেনে নিজেকে সুস্থ রাখতে পারি না? শুধু দোষ না ধরে, গল্প বা সমালোচনা খুব বেশি না করে, সৃষ্টিকর্তাকে কি ডাকতে পারি না? সামাজিক অবক্ষয় কিংবা অর্থনৈতিক ঝুঁকি আমরা কাটিয়ে উঠব ইনশাল্লাহ। এখন প্রয়োজন সুস্থভাবে বেঁচে থাকা। মানবিক ও মানবতাবোধ জাগ্রত করা। দেশ আজ বঙ্গবন্ধুর যোগ্য উত্তরসূরির হাতে। যিনি স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ার দিনরাত নিরলস কাজ করে চলেছেন। বাঙালি বীরের জাতি। প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আস্থা রেখে সীমিত সম্পদের মধ্যে যথোপযুক্ত ব্যবহার নিশ্চিত করতে আমরা সবাই যার যার অবস্থান থেকে সরকারকে সহায়তা করি। আমাদের জনসংখ্যা প্রায় ১৮ কোটি। মোট জাতীয় আয় ৩৩ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হয়েছে। এ দেশের সব অবদানের পেছনে রয়েছে সরকারের দৃঢ়তা, সঠিক নেতৃত্ব এবং গণমানুষের সহযোগী মনোভাব। বরাবরের মতো আজও সবাই মিলে করোনার মোকাবেলা করতে হবে। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায়ই এগিয়ে যাবে বাংলাদেশ।

ষ শিক্ষক, বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা
    বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ^বিদ্যালয়




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]