ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা রোববার ৩১ মে ২০২০ ১৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭
ই-পেপার রোববার ৩১ মে ২০২০

মাটির নিচে ভিন্ন ‘পৃথিবী’
প্রকাশ: শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল, ২০২০, ১২:০০ এএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 30

মাটির নিচে আরও একটা ‘পৃথিবী’! সেখানে গাছ রয়েছে, আছে বন্যপ্রাণী। আবার দিন-রাতও হচ্ছে পালা করে! অবিশ^াস্য মনে হতে পারে, তাই না? কিন্তু আছে। আর সেটা যুক্তরাষ্ট্রের বিনোদননগরী লাসভেগাসে।
লাসভেগাসের এই অন্য পৃথিবী দেখতে কেমন? মাটির ২৬ ফুট নিচে অবস্থিত এই অন্য ‘পৃথিবী’ ১৫ হাজার বর্গফুট এলাকা জুড়ে রয়েছে। ভাবছেন এ কেমন ‘পৃথিবী’? আসলে পুরোটাই কৃত্রিম। তবে দেখে বোঝার উপায় নেই। আর যদি মাটির নিচে এই পৃথিবীতে গিয়ে হাজির হন, তা হলেও তা সহজে বোঝার উপায় নেই। শিল্পীর কাজ এমনই যে, চোখের সামনে প্রকৃতির শোভায় ভরা এক বিস্ময়কর জগৎ দেখবেন।
লাসভেগাসে মাটির ২৬ ফুট নিচে অবস্থিত এই অন্য ‘পৃথিবী’ আসলে একটা বাড়ি। কে বানিয়েছিলেন এই বাড়ি? জেরি হেন্ডারসন নামে এক ব্যবসায়ী। তিনি অ্যাভন প্রোডাক্টের অধিকর্তাও ছিলেন। ১৯৭৯ সালে এই বাড়িটি বানান তিনি। হেন্ডারসনের চিরকালই ভূগর্ভস্থ বাড়ির প্রতি ঝোঁক ছিল। ১৯৮৩ সালে মৃত্যু হয় তার। তার মৃত্যুর পর স্ত্রী ভূগর্ভস্থ বাড়িতে থাকতেন না। বরং এই বাড়ির ঠিক ওপরেই নিজের জন্য একটা বাড়ি বানিয়ে নেন। ১৯৮৯ সালে তার মৃত্যু হয়। ততদিন তিনি এই বাড়িতেই থাকতেন। তারপর বেশ কয়েকবার হাতবদল হওয়ার পর লাসভেগাস সোসাইটি প্রেসিডেন্ট মার্ক ভোয়েলকাল ওই বাড়িটি কিনে নেন। সেখানে
থাকতে শুরু করেন তিনি। আর মাটির নিচের বাড়িটি পর্যটকদের জন্য খুলে দেওয়া হয়। আপাতত এই সম্পত্তি হস্তান্তরের অপেক্ষায় রয়েছে লাসভেগাস, যার মূল্য দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১৫০ কোটি টাকা।
মাটির এত গভীরে এই বাড়ি বানানোর জন্য ১৫ হাজার বর্গফুটের কংক্রিট এবং স্টিলের আয়তাকার বাঙ্কার তৈরি করতে হয়েছে প্রথমে। তার মধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে বাড়ি। বাইরের জগতে যা রয়েছে, শিল্পীর সৌজন্যে সবটাই এই ভূগর্ভস্থ জগতে রয়েছে। যেমন পাহাড়, পাহাড়ের মাঝ দিয়ে নিচে নেমে এসেছে জলধারা। আবার কোথাও বনে ছুটে বেড়াচ্ছে হরিণের দল। আর আকাশছোঁয়া বিশালাকার গাছ।
দুটো বেডরুম, তিনটি বাথরুম, গোলাপি রঙের একটি আধুনিক রান্নাঘর এবং বাড়ির সামনে রয়েছে খোলা জায়গা। সেখানে পায়ের নিচে সবুজ ঘাসে ঘেরা। বাড়ির সামনে সেই খোলামেলা জায়গায় রয়েছে একটি সুন্দর সুইমিংপুল, তার পাশে আবার রয়েছে ডান্স ফ্লোর। এ ছাড়াও রয়েছে স্পা, বার, বারবিকিউ। ঘরে বসেই প্রকৃতির শোভা উপভোগ করতে পারবেন। বাড়ির চারপাশে রয়েছে বিশাল পাহাড় আর জঙ্গল।
অর্থাৎ মাটির ওপরে বাইরের জগতে ঠিক যেমনটি প্রকৃতির মাঝে নিজের স্বপ্নের বাড়ি কল্পনা করেন, তেমনই সবকিছু রয়েছে মাটির নিচে। আর সবচেয়ে বিস্ময়ের হলো, এই বাড়ির লাইটিং ব্যবস্থা এতটাই উন্নত প্রযুক্তিতে করা হয়েছে, বাইরের দিন-রাতের সঙ্গে পালা করে এখানেও দিন-রাত হয়। তেমন ভেন্টিলেশনের ব্যবস্থাও খুব উন্নত।
তবে একটি বিষয় পরিষ্কার করে দেওয়া প্রয়োজন, মাটির ২৬ ফুট নিচে বাঙ্কারের মধ্যে গড়ে তোলা এই বাড়ি পারমাণবিক হামলা থেকে সুরক্ষা দেবে না। তবে বাইরের কোলাহল, দৃষণ থেকে অবশ্যই অনেকটা দূরে নিয়ে চলে যাবে।
সূত্র : ওয়েবসাইট




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]