ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা বৃহস্পতিবার ২৮ মে ২০২০ ১৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭
ই-পেপার বৃহস্পতিবার ২৮ মে ২০২০

৬ বছর ধরে ডিলারদের নবায়নহীন লাইসেন্স, নবাবগঞ্জে টিসিবির পণ্যবিক্রি অনিশ্চিত
বিরামপুর (দিনাজপুর) প্রতিনিধি:
প্রকাশ: শুক্রবার, ১ মে, ২০২০, ১২:৪৫ পিএম | অনলাইন সংস্করণ  Count : 201

রমজান মাসে বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামে আগুন লাগায় নিম্নআয়ের ক্রেতারা যখন বেসামাল ঠিক তখনও দিনাজপুরের নবাবগঞ্জে টিসিবির পণ্য বিক্রির কোনো সুখবর দিতে পারেনি টিসিবি (ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ) কর্তৃপক্ষ।

তাই নয়, উপজেলার দুজন ডিলার তাদের টিসিবি পণ্যের ডিলারের লাইসেন্স নবায়ন করেননি প্রায় ছয় বছর হলো। আর এজন্যই ডিলাররা উপজেলার নিম্নআয়ের মানুষদের জন্য খোলাবাজারে বিক্রির টিসিবির পণ্য তুলতে পারছেন না।

ফলে পুরো রমজান মাস খোলাবাজারে ন্যায্য মূল্যে পণ্য সরবরাহের সম্ভাবনা অনেকটাই অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। এতে টিসিবি থেকে সাশ্রয়ীমূল্যে পেঁয়াজ, ছোলা, সয়াবিন তেল, চিনি, মসুর ডাল ও খেজুর কিনতে না পারায় হতাশ উপজেলার অধিকাংশ কর্মহীন ও নিম্ন আয়ের মানুষ।

টিসিবির রংপুর আঞ্চলিক কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, নবাবগঞ্জ উপজেলায় টিসিবির পণ্যসামগ্রী বিক্রির জন্য মেসার্স চৌধুরী ট্রেডার্সের সত্ত্বাধিকারী মো. নূরুজ্জামান চৌধুরী ফটিক ও মেসার্স তপু ট্রেডার্সের সত্ত্বাধিকারী মো. তফিকুল খান তপু নামের দুজন ডিলার রয়েছেন। যাদের ডিলারশীপের মেয়াদ গত ছয় বছর পূর্বে শেষ হয়েছে এবং তারা তা নবায়নও করেননি।

উপজেলার ভাদুরিয়া বাজারের ডিলার মো. তফিকুল খান তপু জানান, ২০১৩ সালের পর থেকে আমি টিসিবির পণ্য উত্তোলন করিনি। আর বর্তমানে আমার আর্থিক অবস্থা ভালো না থাকায় নগদ টাকা দিয়ে লাইসেন্স নবায়ন করাসহ টিসিবি পণ্য উত্তোলন করা সম্ভব হচ্ছে না।

দাউদপুর বাজারের ডিলার মো. নূরুজ্জামান চৌধুরী ফটিক জানান, এ বছর টিসিবি থেকে পণ্য তুলতে এখনো কোনো মেসেজ পাইনি। তবে ইউএনও স্যার আমাকে পণ্য তোলার জন্য বলেছিলেন। কিন্তু গত ছয় বছর থেকে ডিলারশীপের লাইসেন্স নবায়ন করায় এবং বর্তমানে আমার হাতে টাকা না থাকায় পণ্য তুলতে পারছি না।

উপজেলার ভুক্তভোগী ও সচেতনমহলের দাবি, রমজান মাসে বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম এমনিতেই বেড়ে যায়। তার উপরে এখনো খোলাবাজারে সরকারিভাবে টিসিবি পণ্য বিক্রি শুরু হয়নি। আর এ সুযোগে উপজেলার বিভিন্ন বাজারে খুচরা ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট করে বেপরোয়াভাবে পণ্যের দাম বাড়িয়েছেন। এতে করে নিম্ন আয়ের মানুষ অনেকটাই বিপদে পড়েছেন।

সাধারণ ক্রেতারা দাবি করেছেন, করোনা দুঃসময়ে বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম সহনীয় রাখতে প্রয়োজনে বর্তমান ডিলারদের ডিলারশীপ বাতিল করে জরুরিভিত্তিতে বিকল্পভাবে ডিলার নিয়োগ দেওয়া হোক।

টিসিবির রংপুর আঞ্চলিক কার্যালয়ের উপ-ঊর্ধ্বতন কার্যনির্বাহী সুজা উদ্দৌল্লা সরকার মুঠোফোনে জানান, খোলাবাজারে বিক্রির জন্য নবাবগঞ্জ উপজেলা থেকে এখনো কোনো ডিলার পণ্য উত্তোলন করেননি। পণ্য উত্তোলন করতে ডিলারদের সাথে যোগাযোগ করেছি। কিন্তু দুজন ডিলারেরই লাইসেন্স নবায়ন না থাকায় তারা পণ্য উত্তোলন করতে পারছেন না। তবে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ ব্যাংকে জামানত হিসেবে ১৫ হাজার টাকা জমা দিয়ে যেকেউ নতুন করে লাইসেন্স নিয়ে টিসিবির পণ্য উত্তোলন করতে পারবেন।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোছা. নাজমুন নাহার বলেন, নবাবগঞ্জ উপজেলায় টিসিবি'র দু'জন ডিলার রয়েছেন, তাদের লাইসেন্সের মেয়াদ না থাকার কারণে তারা পণ্য উত্তোলন করতে পারছেন না। ডিলাররা প্রশাসনের নিকট সময় নিয়েছেন। তারা যদি নিদিষ্ট সময়ের মধ্যে লাইসেন্স নবায়ণ করে পণ্য উত্তোলন না করেন তাহলে তাদের ডিলারশীপ  বাতিলসহ নতুন ডিলার নিয়োগের ব্যাপারে জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট সুপারিশ করা হবে।

দিনাজপুর-৬ আসনের সংসদসদস্য শিবলী সাদিক বলেন, নবাবগঞ্জ উপজেলায় টিসিবির পণ্য বিক্রির বিষয়ে ইতোমধ্যে ঊর্ধ্বতন  কর্তৃপক্ষের সাথে কথা হয়েছে। রমজান মাসে বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম স্থিতিশীল রাখতে খোলাবাজারে টিসিবি পণ্য বিক্রির কার্যক্রম চালু করতে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হবে।




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]