ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা  বুধবার ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২০ ৮ আশ্বিন ১৪২৭
ই-পেপার  বুধবার ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২০

'স্বাস্থ্যবিধি মানতেই হবে, এর কোনো বিকল্প নাই'
সময়ের আলো অনলাইন
প্রকাশ: শুক্রবার, ৮ মে, ২০২০, ৭:২৬ পিএম আপডেট: ০৮.০৫.২০২০ ৭:৪০ পিএম | অনলাইন সংস্করণ  Count : 235

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে করোনা সচেতনতা নিয়ে সব সময় সরব উপস্থাপক ও মিডিয়া ব্যক্তিত্ব আবদুন নূর তুষার। শুক্রবার তিনি এ বিষয়ে ফেসবুকে অত্যন্ত চমৎকার একটি স্ট্যাটাস দেন।  তাতে তিনি গোঁড়া, অদৃষ্টবাদী, ধর্মান্ধ ও অসচেতন মানুষদের নিয়ে অত্যন্ত যুক্তিপূর্ণ ভাষায় একটি লেখা লেখেন। তার লেখাটি সময়ের আলোর পাঠকদের জন্য হুবহু তুলে ধরা হলো।

আবদুন নূর তুষার তার ফেসবুক স্ট্যাটাসে লেখেন :  ''কিছু অদৃষ্টবাদী মানুষ বলছেন-

১. “মৃত্যুর তারিখ নির্দিষ্ট, তাই যখন মরার তখনই মরবেন। আগেও না পরেও না।” তাই চলেন মার্কেটে যাই, জমায়েতে প্রার্থনা করি, ইফতারে জিলাপি খাই।

এটা একটা ফ্যালাশিয়াস যুক্তি।

আপনার মা আপনাকে দুধ না দিলে আপনার জন্মের পরপরই মরার কথা ছিলো। মরলেন না কারন মায়ের দুধ। এবার বলেন আপনাকে রেখে দিলেই হতো । মরার হলে মরতেন, বাঁচার হলে বাঁচতেন।

সবাই যখন মরার তখনই মরে।
কিছু লোক আত্মহত্যা করে।

তাহলে আত্মহত্যা কেন পাপ?
কারন সে নিজেই নিজের মরন ডেকে এনেছে।

কিছু লোক অন্যকে হত্যা করে?
তাহলে তাদের কেন আমরা শাস্তি দেই? যারা মরেছে তারাতো যখন মরার তখনই মরেছে।
শাস্তি দেই কারন তারা তখন মরার কথা না, কেউ তাদের জোর করে মেরেছে।

কিছু লোককে আমরা ফাঁসী দেই।
তারা কি ফাঁসী না দিলে তখন মরতো?
কেন দেই , কারন তারা বেঁচে থাকলে অন্যদের মৃত্যুর সম্ভাবনা অথবা তারা একজনের বা অনেকের মৃত্যু ঘটিয়েছেন ও মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ করেছেন।

মৃত্যুর স্বাভাবিকতা হলো আপনি কোন রোগভোগের কারনে বা স্বাস্থ্যগত কারনে মৃত্যুবরন করবেন যেটা রোধ করার সকল চেষ্টা করা হয়েছে অথবা যার বিরুদ্ধে আর কিছুই করার ছিল না। যার জন্য আপনি নিজে বা অন্য কেউ দায়ী নয়। কারো অবহেলা বা কোন অনিয়ম দায়ী নয়।

যে কারনে আমরা সড়কপথে বিপদ আছে জানি কিন্তু ব্রেক পরীক্ষা না করে গাড়ী চালাই না। ফিটনেসের কথা বলি। আমরা বিষ খাই না। বিষের বোতলে বিষ লিখে রাখি। মদের বোতলে মদ লিখি। পানির বোতলে পানি লিখি না।

তারমানে মৃত্যু যখন হবার তখন হয় একথা বলে গা ছেড়ে দেয়া যাবে না। মৃত্যুর সম্ভাবনাকে কমিয়ে আনতে হবে। যাতে বেশীদিন পৃথিবীতে থাকা যায়।

২. কেউ কেউ বলছেন এরকম মহামারী আগেও এসেছে। তাতে কি সকলে মরে গেছে? মরে নাই।

তার মানে কি এই এবার সবাই মরবে না? মরতেও পারে। ধীরে ধীরে মরবে। ৭০০ কোটি তো একসাথে মরে সাফ হবে না। আর এই যুক্তি দিয়ে কি কোন মৃত্যুকে জাস্টিফাই বা মেনে নেয়া যায়?

লঞ্চে আমরা লাইফবয় বা লাইফবোট চাই কেন? সাঁতার না জেনে কি নদীতে ঝাঁপ দেয়া যাবে। মরন যখন হবে তখনই হবে ভেবে?

মরন যখন হবার তখন হবে ভেবে ভাইরাসের সমুদ্রে ঝাঁপ দেয়া যাবে? যাবে না।

সকলেই ক্রিকেট খেলে।
শচীন বেশী সেঞ্চুরী করে।
সকলেই ক্রিকেট খেলে।
সাকিব সেরা অলরাউন্ডার হয়।

কিন্তু তারা কি আউট হয় না?
আউট হলে আপনি বলতেই পারেন, যে বলে আউট হবার সে বলেই আউট হবে, এখানে কিছু করার নাই।

এটা হলো সেই ফ্যালাশিয়াস যুক্তি।

শচীন সাকিব সেরা হয় কারন তারা প্রস্তুতি নেয়। ফিট থাকে। বুদ্ধিমত্তার সাথে বল মোকাবেলা করে। স্পিনার এর টার্ণ বোঝে। ফাস্ট বোলারের স্টেপ কাউন্ট করে। এমনকি বলের শব্দ থেকে বোঝে কতটা জোরে পিচ করেছে বল। এটার জন্য তারা প্রস্তুতি নেয়। এমনকি ভিডিও দেখতে থাকে। কোচের সাহায্য নেয়। একারনেই তাদের হয় সেঞ্চুরী আর আবুইল্যা করে শূণ্য রান।

সেরা প্যাড, সেরা হেলমেট, সেরা আর্মগার্ড, সেরা ব্যাটটা নেয়ার চেষ্টা করে। যাতে আত্মবিশ্বাস বাড়ে।

তাই শচীন, সাকিব টিকে থাকে।

আবুইল্যা যখন আউট হওয়ার তখনি হয়, শচীণও যখন আউট হওয়ার তখনি হয়। শুধু শচীন, সাকিব হয় বিশ্বসেরা আর আবুইল্যা হয় বিশ্ববলদ।

টিকে থাকাটা বুদ্ধিমত্তা ও বিজ্ঞানের বিষয়। সঠিক প্রস্তুতির বিষয়। ভাগ্য ততই দুর্বল প্রস্তুতি যতো সবল।

অতএব স্বাস্থ্য বিধি মানতেই হবে। এর কোন বিকল্প নাই।

জীবন থাকলে আবার লাভ হবে, উপার্জন হবে। জীবন থাকলে পূণ্য অর্জন করা যাবে। জীবন থাকলে আপনি পাপ মোচন করতে পারবেন।

জীবন নাই মানে কেবল বিচারের অপেক্ষা।

অদৃষ্টবাদিতার কোন জায়গা নাই এই জীবনে। প্রকৃত বিশ্বাসী বিশ্বাস করে স্রষ্টা তাঁকে জীবন দিয়েছেন রহমত হিসেবে। এই রহমত যতো বেশী পাওয়া যায় ততোই পরকালের সঞ্চয় জমা করা যায়।

যখন মরার তখনই মরবেন কিন্তু মরার জন্য চেষ্টা করা মহাপাপ।
ভাইরাসের সমুদ্রে ঝাঁপ দেওয়া অন্যায়।
সেই ভাইরাস ছড়ানো আরো অন্যায়।

বুদ্ধি খাটান।
স্বাস্থ্যবিধি মানুন।

লড়াই করুন। লড়াই এর হাতিয়ার হলো মাস্ক, সামাজিক দূরত্ব ও হাত পরিষ্কার রাখা।

হাত সাবান দিয়ে ধুয়ে, মাস্ক পরে , ৬ ফিট দুরে দাড়ান।

এরপর চিল্লায়া বলেন

ফি আমানিল্লাহ।''




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, নির্বাহী সম্পাদক : শাহনেওয়াজ দুলাল, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে
প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]