ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা রোববার ৩১ মে ২০২০ ১৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭
ই-পেপার রোববার ৩১ মে ২০২০

সংক্রমণের বড় ধরনের ঝুঁকির মধ্যে রাজশাহী!
রাজশাহী জেলা প্রতিনিধি
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৪ মে, ২০২০, ৮:০৪ পিএম | অনলাইন সংস্করণ  Count : 175

আসছে ঈদ-উল-ফিতর! এই ঈদকে কেন্দ্র করে রাজশাহী অঞ্চলের বাইরে লকডাউনে থাকা মানুষগুলো প্রতিনিয়তই বিভিন্ন পরিবহণে করে ফিরছে রাজশাহী। যারা প্রবেশ করছেন তাদের সম্পর্কে কোনো তথ্য পাচ্ছেন না পুলিশ কিংবা প্রশাসন। এমনকি তারা মানছেন না স্বাস্থ্য বিধি।

অনেকে রাজশাহী ফিরে দিব্যি ঘুরে বেড়াচ্ছেন রাস্তা-ঘাট, হাট-বাজারে যার কারণে রাজশাহী অঞ্চলে প্রতিনিয়তই বেড়ে চলেছে করোনাক্রান্তের সংখ্যা, ঝুঁকির মধ্যে রাজশাহী।

এছাড়াও মাঠ পর্যায়ে কর্মীদের নমুন সংগ্রহে গাফিলতি বা ত্রুটির কারণে প্রতিদিন কাঙ্খিত সংখ্যক নমুনা পরীক্ষা করা সম্ভব হচ্ছে না রাজশাহী মেডিকেল কলেজের (রামেক) করোনা পরীক্ষা ল্যাবে।

এতে নষ্ট হচ্ছে কিট, নষ্ট হচ্ছে সময়। সন্দেহভাজনরাও থেকে যাচ্ছেন পরীক্ষার বাইরে। এছাড়াও স্বাস্থ্যবিধি না মেনে লোকজনের বাজারে অবাধ চলাচলেও এ অঞ্চলে ঝুঁকি বাড়ছে করোনা সংক্রমণের।

সূত্র মতে, রামেকের করোনা পরীক্ষার ল্যাবে প্রতি সিফটে ৯৪ জনের নমুনা পরীক্ষ করা সম্ভব। অথচ প্রতিদিন এই ল্যাবে নতুন নমুনা আসছে ১৫০ থেকে ২০০ জনের। ল্যাবটিতে টেকনোলজিস্টের অভাবে এক সিফটের বেশি নমুনা পরীক্ষা করা সম্ভব হচ্ছে না। তবে বিদ্যমান জনবল নিয়েই ল্যাব সংশ্লিষ্টরা প্রায়ই দুই সিফটে নমুনা পরীক্ষার কাজ করছেন; তবে তা অনিয়মিত।

এদিকে, লাবে আসা নমুনাগুলোর মধ্যে পরীক্ষার পর উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নমুনার ফল পাওয়া যাচ্ছে না বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ল্যাব সংশ্লিষ্টদের দাবি নমুনগুলো যথাযথ নিয়ম মেনে সংগ্রহ না করায় পরীক্ষার বাইরেই থেকে যাচ্ছে সংক্রমণের সন্দেহে থাকা ওই সকল নমুনা। এতে করে ল্যাবে সময় নষ্ট হচ্ছে একই সাথে নষ্ট হচ্ছে কিট।

মঙ্গলবার রামেক হাসপাতালের করোনা পরীক্ষা ল্যাবে ৯৪ জনেন নমুনা পরীক্ষার জন্য পিসিআর মেশিনে তোলা হয়। তবে এর মধ্যে ফল পাওয়া গেছে মাত্র ৪২ জনের। বুধবার ৯৪ জনের মধ্যে ফল পাওয়া গেছে ৫২ জনের। এর আগে রোববার দুই সিফটে ১৮৮ জনের নমুনা পরীক্ষার জন্য দেয়া হলেও ফল পাওয়া গেছে ১৭০ জনের। ল্যাবে নমুনা পরীক্ষার এ চিত্র প্রায় প্রতিদিনের।

মাঠ পর্যায়ে থেকে নমুনা সংগ্রহ করে তা ল্যাব পর্যন্ত নিয়ম মেনে না পাঠানোর কারণে সবগুলো নমুনার ফল পাওয়া যাচ্ছে না বলে নিশ্চিত করেছেন ল্যাব সংশ্লিষ্টরা। ৯৪ জনরে নমুনার মধ্যে গড়ে প্রতিদিন ১৫ থেকে ২৫ শতাংশ নমুনা পরীক্ষা করা সম্ভভ হচ্ছে না নমুনাগুলোতে ত্রুটি থাকার কারণে। আর নমুনার ফল সময়মতো না পাওয়া যাওয়ায় একদিকে যেমন সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ছে তেমনি নষ্ট হচ্ছে মূল্যবান কিট (রিএজেন্ট) ও ল্যাবের সময়।

করোনা পরীক্ষা ল্যাব সংশ্লিষ্টদরে দেয়া তথ্য মতে, একটি নমুনা সংগ্রহ করে তা ল্যাব পর্যন্ত আনতে কয়েকটি ধাপ পা করতে হয়। ধাপগুলোর মধ্যে রয়েছে, প্রথমত যে বস্তুর সাহায্যে নমুনা সংগ্রহ করা হচ্ছে তা কতটুকু সঠিক? দ্বিতীয়ত কোনো পন্থায় সংরক্ষণ করে ও তা কত সময় পর ল্যাবে আনা হচ্ছে।

রাজশাহীতে গোপনে অনুপ্রবেশ, বাড়ছে করোনাক্রান্তের ঝুঁকি
জেলা সিভিল সার্জন ও উপজেলা পর্যায়ের স্থাস্থ্য কর্মীদের থেকে পাওয়া তথ্য মতে, উপজেলা পর্যায়ের পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের হেলথ ওয়ার্কার (ইপিআই) দিয়ে সন্দেহভাজন রোগীদের নমুনা পরীক্ষা করা হচ্ছে। যদিও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডাবলুএইচও) থেকে নির্দেশনা দেয়া আছে নমুনা সংগ্রহে মেডিকেল টেকনোলজিস্টদের সম্পৃক্ত করতে। তবে বহুদিন থেকেই বাংলাদেশে মেডিকেল টেকনোলজিস্ট পদে নিয়োগ বন্ধ থাকায় এই বিভাগে জনবল সংকট প্রকোট আকার ধারণ করেছে।

রাজশাহী মেডিকেল কলেজের ভাইস প্রিন্সিপাল অধ্যাপক ডা. বুলবুল হাসান জানান, প্রযুক্তি নির্ভর যে কোন বিষয়ের ক্ষেত্রেই ১০ থেকে ২০ শতাংশ ত্রুটি স্বাভাবিক হিসেবে ধরা হয়। তবে এ ক্ষেত্রে কোনো নমুনা ফেলা দেয়া হচ্ছে না।

যে নমুনার ফল পাওয়া যাচ্ছে না তা দ্বিতীয় দিন আবারো পরীক্ষা করা হচ্ছে। করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলায় আমদের সকল স্তরের স্বাস্থ্য কর্মীরাই আন্তরিকতার সাথে কাজ করছে। এদিকে নমুনা সংগ্রতে ত্রুটির বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে চাননি রাজশাহী অঞ্চলের স্বাস্থ বিভাগের পরিচালক ডা. গোপেন্দ্রনাথ আচার্য।

এদিকে, রাজশাহী বিভাগে প্রতিদিন জ্যামিতিক হারে করোনা আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। বুধবার আক্রান্ত বৃদ্ধি পেয়েছে ১২ জন।

বুধবার স্বাস্থ্য বিভাগের দেয়া তথ্য মতে রাজশাহী বিভাগে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ২৬১ জন। এদের মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ৮৫ এবং করোনা আক্রান্ত হয়ে এপর্যন্ত মারা গেছেন দুইজন।

আক্রান্তের দিক থেকে সবচাইতে বেশি রোগী জয়পুরহাটে ৭১ জন, এর পর নওগাঁয় ৭০ জন আক্রান্ত রোগী চিহ্নিত হয়েছে। রাজশাহী জেলায় ১৭ জন আক্রান্ত হলেও, আশার কথা এপর্যন্ত রাজশাহী নগরীতে কেউ আক্রান্ত হয়নি।




এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]