ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা রোববার ৩১ মে ২০২০ ১৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭
ই-পেপার রোববার ৩১ মে ২০২০

যে গ্রামে পুরুষদের প্রবেশ নিষেধ
প্রকাশ: শুক্রবার, ১৫ মে, ২০২০, ১২:০০ এএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 12

তারা সম্বুরু উপজাতির মহিলা। আফ্রিকার বিস্তীর্ণ তৃণভূমিতে পিতৃতান্ত্রিকতা হার মানায় সবরকম বন্যতাকে। কয়েক যুগ ধরে সহ্য করতে করতে তাঁদের পিঠ দেওয়ালে ঠেকে গিয়েছিল। সহ্যের বাঁধ ভাঙল নব্বইয়ের দশকের গোড়ায়। যখন তারা ধর্ষণের হলেন ব্রিটিশ সেনাবাহিনীর কর্তৃক। সমাজ থেকে বেরিয়ে এলেন ১৫ জন ধর্ষণের শিকার নারী। এক খণ্ড জমিতে থাকতে শুরু করলেন। ঠিক করলেন, এ বার থেকে পুরুষবর্জিত জীবন কাটাবেন। ওই জমিতে নিষিদ্ধ হল পুরুষ-প্রবেশ। ক্রমে ওই এক খণ্ড জমিও নাম পেল। নাম রাখা হল ‘উমোজা উয়াসো’। সোয়াহিলি ভাষায় ‘উমোজা’ শব্দের অর্থ ঐক্য বা একতা। উয়াসো হল উমোজা-র পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া নদী। জীবনের প্রতীক নদীর পাশেই নিজেদের গ্রাম উমোজা উয়াসোতে অন্ধকার থেকে আলোর পথে পা রাখলেন রেবেকা লোলোসোলি। তার সঙ্গে তার মতোই আরও ১৪ জন নারী।
উত্তর কেনিয়ায় এই সম্বুরু প্রজাতির রীতিনীতি অনেকটাই মাসাই উপজাতির মতো। প্রবল পিতৃতান্ত্রিক এই সমাজে ধর্ষণ, অপ্রাপ্তবয়স্কদের বিয়ে, খাতনা, গার্হস্থ্য হিংসার সঙ্গে ছোট থেকেই পরিচিত হতে থাকে মেয়েরা। পুরুষদের একাধিক বিয়েও সম্বুরুদের মধ্যে প্রচলিত রীতি।  রেবেকা এবং তার সঙ্গিনীরা ঠিক করলেন, তাদের নতুন গ্রামে জায়গা হবে নির্যাতনের শিকার নারীদের। সেটা ১৯৯০ সালের কথা। আজও উয়াসো উমোজা গ্রামে থাকতে পারেন সেই সব নারী, যারা কোনও না কোনও ভাবে নির্যাতিত হয়েছেন। ঠাঁই পায় তাদের সন্তানরাও।
এই গ্রামে এখন থাকেন পঞ্চাশের বেশি নারী এবং তাদের দুশোর বেশি সন্তান। পুত্রসন্তানদেরও বর্জন করা হয় না। তবে প্রাপ্তবয়স্ক হয়ে গেলেই তাদের গ্রাম ছেড়ে চলে যেতে হয়। এই গ্রামে আঠেরো বছরের বেশি বয়সি কোনও পুরুষ নেই। নিজেদের অর্থব্যবস্থা নিজেরাই গড়ে তুলেছেন এই গ্রামের বাসিন্দারা। কৃষিকাজ, পশুপালনের পাশাপাশি মহিলারা রঙিন পুঁতি দিয়ে গয়না তৈরি করেন। নিজেরা পরেন, বিক্রিও করেন। তাদের তৈরি গয়না কেনেন পর্যটকরা। এই গ্রামে পর্যটকদের ঢুকতে গেলে প্রবেশমূল্য দিতে হয়। এছাড়া সম্বুরু জাতীয় অভয়ারণ্যে সাফারির ব্যবস্থাও আছে।
এই গ্রামে রয়েছে স্কুল-সহ জীবনধারণের অন্যান্য প্রয়োজনের উপকরণও। পাশাপাশি, নতুন প্রজন্মকে জীবনের সাদা-কালো দিকগুলিকেও চিনিয়ে দেন। যাতে, পরের প্রজন্মের মেয়েদের আর নির্যাতিতা হতে না হয়। উমোজা উয়াসো গ্রামের স্কুলে পড়তে আসতে পারে পড়শি গ্রামের শিশুরাও। তবে নির্যাতিতাদের নিয়ে আলাদা গ্রাম প্রতিষ্ঠার কথা ভাবার জন্য সমাজের পুরুষদের কাছে নির্বিচার প্রহার সহ্য করতে হয়েছে রেবেকাকে। সম্বুরু সমাজে বিভিন্ন সময়ে অন্তত দেড় হাজার মহিলা নিজেদের দেশের এবং বিদেশি সেনাবাহিনীর দ্বারা ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। তাদের আর ফিরিয়ে নেয়নি পরিবার। বাধ্য হয়ে উমোজা উয়াসো গ্রামে পালিয়ে আসতেন মহিলারা। নতুন জীবনের খোঁজে। প্রথমে তারা সংগ্রহ করা সবজি বিক্রি করতেন। ধাপে ধাপে তারা চাষবাদ শিখে নিয়েছেন। গ্রামের জন্য কেনা জমির দামও মিটিয়ে দিয়েছেন। নারীদের এই নতুন ঠিকানা মেনে নিতে পারেনি সম্বুরু পুরুষেরা। প্রতিরোধ এসেছে প্রতি ধাপে। প্রতিবাদী রেবেকা এবং তাঁর সঙ্গিনীদের লড়াইয়ে অবশ্য পাশে থেকেছে কেনিয়া সরকার।
উমোজা উয়াসো গ্রামের বাসিন্দারা কিন্তু বিচ্ছিন্ন দ্বীপের মতো থাকেন না। তাঁরা আশেপাশের গ্রামে যান বিভিন্ন কাজে। যেখানেই যান, স্বীকৃতি স্বরূপ আদায় করেন কুর্নিশ। শুধু নিজেদের চৌহদ্দিতে এই সম্মান সীমাবদ্ধ নয়। ২০০৫ সালে এই গ্রামের প্রতিষ্ঠাতা রেবেকা লোলোসোলি স্বীকৃতি পান জাতিসংঘেও। উমোজা উয়াসো গ্রামে মাটি আর গোবরের কুঁড়েঘরগুলো আজ নারীদের নিরাপদ আশ্রয়। সেখানে তারা আজ নিজেদের মতো করে বাঁচেন। ওয়েবসাইট




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]