ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা রোববার ৩১ মে ২০২০ ১৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭
ই-পেপার রোববার ৩১ মে ২০২০

সচেতনতা ও বোধোদয় জরুরি
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২১ মে, ২০২০, ১২:০০ এএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 11

মার্চের প্রথম সপ্তাহ শেষে বাংলাদেশে প্রথম শনাক্ত হয় করোনা রোগী। এরপর দিন দিন সংখ্যাটি বাড়ছেই। সংখ্যাটি বাড়তে বাড়তে দেশে এখন করোনা সংক্রমিত রোগীর সংখ্যা ২৫ হাজারেরও বেশি। মাত্র দুই মাসের ব্যবধানে সংখ্যাটি এখানে দাঁড়িয়েছে। অথচ করোনা সংক্রমণের হার যেন না বাড়ে, মানুষ যেন সংক্রমিত না হয়, সেদিকে সরকার শুরু থেকেই সচেতন ও উদ্যোগী। মানুষের নিরাপত্তার কথা বিবেচনায় এনেই সরকার মার্চে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে। উদ্দেশ্য মানুষ যেন ঘরে থাকে, নিরাপদ থাকে। কিন্তু সরকারের উদ্যোগ, অনুরোধ, আহŸান কোনো কিছুকেই আমরা যথাযথভাবে গুরুত্ব দেইনি। আর দেইনি বলেই মানুষ ঘরে না থেকে অপ্রয়োজনে বাইরে এসেছে। সবাই স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করেনি। অনেকেই হোম কোয়ারেন্টাইন যথাযথভাবে পালন করেনি। শারীরিক দূরত্ব মেনে চলাকেও গুরুত্ব দেয়নি। ফলে সংক্রমিত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। করোনা সংক্রমণের এই ঊর্ধ্বগতি রোখার জন্য সরকার বারবার ছুটির মেয়াদ বাড়িয়েছে। ঈদ উপলক্ষে মানুষ যেন নিজের অবস্থান পরিবর্তন না করে সেজন্য আহŸান জানিয়েছে। সরকার বর্তমানে সাধারণ ছুটি বাড়িয়ে ৩০ মে পর্যন্ত করেছে। ছুটি বাড়ানোর নির্দেশনায় বলা হয়েছিল, কেউই কর্মস্থল ত্যাগ করতে পারবে না। কিন্তু সকল নির্দেশনা উপেক্ষা করেই মানুষ ছুটছে গ্রামের বাড়ির দিকে।
সরকারের আহŸান ও নির্দেশনা আমরা যথাযথভাবে অনুসরণ করছি না। ঈদের আগেই প্রিয়জনের সঙ্গে মেলার জন্য ঘরের বাইরে চলে এসেছি। গণপরিবহন বন্ধ মার্চের শেষ থেকে। এখনও গণপরিবহন খোলার নির্দেশনা সেই। তারপরও ঘরমুখী মানুষ ঢাকা ছাড়ার জন্য পথে নেমেছে। উদ্দেশ্য প্রিয়জনের সঙ্গে ঈদ উদযাপন। নিষেধাজ্ঞার মধ্যেই গ্রামের উদ্দেশে বেরিয়ে পড়া বিপুল সংখ্যক মানুষ আটকা পড়েছে ফেরিঘাটেও। ঈদে কেউ যেন নিজের অবস্থান পরিবর্তন না করে সেজন্য কড়াকড়ি ছিল এবং আছে। রাজধানীতে প্রবেশ বা বের হওয়ার ক্ষেত্রেও রয়েছে কঠোর নির্দেশনা। কিন্তু এসব নির্দেশনাকে থোড়াই কেয়ার করছে গ্রামমুখী সাধারণ মানুষ। সময়ের আলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঢাকায় করোনাভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁঁকি বেশি থাকলেও এর তোয়াক্কা না করে লোকজন ঢাকা থেকে দলে দলে গ্রামে ফিরছে। একইভাবে দল বেঁধে অবাধে ঢাকায়ও প্রবেশ করছে।
ঢাকার প্রবেশপথ কিংবা বের হওয়ার পথে পুলিশের তৎপরতা থাকলেও নানা অজুহাতে মানুষ ইচ্ছেমতো শারীরিক দূরত্ব বজায় না রেখেই যাতায়াত করছে। গণপরিবহন ছাড়া সব গাড়ি চলছে। ঢাকার বিভিন্ন সড়কে দীর্ঘ যানজটের কথাও এসেছে প্রতিবেদনে। ঢাকা ছেড়ে যাওয়া মানুষের নানান যৌক্তিক-অযৌক্তিক কারণে অসহায় অবস্থায় পড়তে হয়েছে দায়িত্ব পালনরত পুলিশ সদস্যদেরও। এমনকি গাড়ি চলাচল বন্ধে পুলিশ কঠোর হওয়ায় ঘরে ফিরতে ব্যাকুল মানুষ চেকপোস্ট হেঁটে পেরিয়ে সামনে গিয়ে পিকআপ ভ্যান, প্রাইভেটকার, মোটরসাইকেল, ট্রাকসহ অন্যান্য যানবাহনে করেও ঢাকা ছাড়ছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। এমনটি কোনোভাবেই সচেতন মানুষের কাজ হতে পারে না। প্রতিদিনই করোনা পরিস্থিতি পাল্টাচ্ছে। সংক্রমিতের সংখ্যা বাড়ছে। এ অবস্থায় আমরা সবাই যদি দল বেঁধে ঢাকার বাইরে যাওয়ার সুযোগ নেই, তবে পরিস্থিতি আরও অবনতি হওয়ার শঙ্কা রয়েছে।
এক্ষেত্রে আমাদেরকে নিজের প্রয়োজনেই সচেতন হতে হবে। আমাদের মনে রাখতে হবে, বেঁচে থাকলে আরও অনেকবার পরিবারের সঙ্গে ঈদ করা যাবে। কিন্তু মারা গেলে কিংবা পরিবারের কারও করোনা শনাক্ত হলে ঈদের আনন্দ ¤øান হয়ে যাবে। তাই বর্তমান পরিস্থিতিতে আমাদেরকে দায়িত্বশীল হতে হবে। আমাদের অসচেতনতা শুধু ব্যক্তি আমার নয়, একই সঙ্গে বাড়িয়ে তুলবে পরিবারের অন্য সদস্যদেরও বিপদ। তাই সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার বিধি অনুসরণ করতে হবে। ঘরে থাকার অভ্যাস করতে হবে, অপ্রয়োজনে বাইরে যাওয়ার ইচ্ছা বাদ দিতে হবে। সাবান দিয়ে নিয়মিত হাত ধুুতে হবে, বাইরে বের হওয়ার সময় মাস্ক ও হ্যান্ড গøাভস ব্যবহার করতে হবে। তা না হলে সামনে আমাদের জন্য হয়তো ভয়াবহ পরিণতি অপেক্ষা করছে।






সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]