ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা সোমবার ২৫ মে ২০২০ ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭
ই-পেপার সোমবার ২৫ মে ২০২০

ধনীর সম্পদে  গরিবের হক
মুফতি মুহাম্মাদ শোয়াইব
প্রকাশ: শুক্রবার, ২২ মে, ২০২০, ১২:০০ এএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 13

ন্যূনতম সম্মানজনক জীবনযাপন প্রতিটি মানুষের অধিকার। ইসলামী আইনে যেমন এ অধিকার স্বীকৃত, তেমনি আন্তর্জাতিকভাবেও তা সর্বজনবিধিত। মানবাধিকারের আন্তর্জাতিক ঘোষণার ৫২নং পরিচ্ছেদে বলা হয়েছে, ‘প্রতিটি মানুষের কমপক্ষে এমন পর্যায়ের জীবনযাপনের অধিকার রয়েছে, যাতে তার স্বাস্থ্যের সুরক্ষা হয়, তার ও তার পরিবারের উপযুক্ত জীবনের নিরাপত্তা দেওয়া যায়। খাদ্য, বাসস্থান, চিকিৎসা ও অন্যান্য জরুরি সামাজিক সেবার জোগান নিশ্চিত করা যায়।’ মানুষ যখন বেকারত্ব, অসুস্থতা, অক্ষমতা, বৈধব্য, বার্ধক্য ইত্যাদি সমস্যার সম্মুখীন হয়ে জীবনধারণের উপায়-উপকরণ হারা হয়ে যায়, তখন পর্যায়ক্রমে তার আত্মীয়-স্বজন ও পাড়া-প্রতিবেশীর ওপর তার জীবনের নিরাপত্তা দেওয়া অনিবার্য দায়িত্ব হয়ে দাঁড়ায়। আলী (রা.) বলেন, ‘আল্লাহ তায়ালা ধনীর সম্পদ থেকে ঠিক ততটুকুই জাকাত আদায় করা আবশ্যক করে দিয়েছেন, যাতে তা দরিদ্রদের জন্য যথেষ্ট হয়। যদি কেউ ভুখা-নাঙ্গা থাকে, তাহলে তা মূলত সম্পদশালী ব্যক্তির জাকাত আদায় না করার কারণেই।’ (আবু হাজেম)
বোঝা গেল, আল্লাহ তায়ালা বিত্তশালীর অর্থবিত্তে ততটুকুই জাকাত নির্ধারণ করেছেন, যা দরিদ্রদের জন্য যথেষ্ট হয়। আর দরিদ্রদের জন্য যা যথেষ্ট হয়, তা সম্মানজনক জীবিকার ন্যূনতম সীমা। ওমর (রা.) বলেন, ‘আমি সবসময় সচেষ্ট থাকি যে, প্রতিটি প্রয়োজনই যেন মেটাই, যতক্ষণ পর্যন্ত আমরা একে অন্যকে সাহায্য করার সামর্থ্য রাখি। আর যদি অক্ষম হয়ে পড়ি, তাহলে যেন আমাদের জীবনযাত্রায় এর প্রতিফলন ঘটাই। অল্পে তুষ্ট হয়ে শুধু যা না হলেই নয়, সে পর্যায়ে এসে সবাই সমান হয়ে যাই।’ অর্থাৎ ইসলাম সম্মানজনকভাবে জীবনযাপনের এমন একটি সুনির্দিষ্ট পর্যায় তথা সীমারেখা টেনে দিয়েছে, যেখানে সবাই একই স্তরে এসে দাঁড়ায়। তবে এখানে এটাও স্মরণ রাখতে হবে যে, প্রত্যেকের উচিত অন্যের করুণাভোগী না হয়ে নিজের পায়ে দাঁড়ানো। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘হালাল উপার্জন করা ফরজগুলোর পরে (গুরুত্বপূর্ণ) ফরজ।’ (বায়হাকি)। ইসলাম ধর্মে সম্পদকে কখনই অবজ্ঞা করা হয়নি। সম্পদ আল্লাহর বিশেষ নেয়ামত। এ নেয়ামতের কৃতজ্ঞতা আদায় হবে আল্লাহর বান্দা তথা মানুষের সেবা করার মাধ্যমে। আমর ইবনুল আস (রা.) বলেন, একবার রাসুল (সা.) আমাকে বলেন, ‘আমি তোমাকে একটি সেনাদলের দায়িত্ব দিয়ে পাঠাতে চাই। (অতঃপর তুমি যদি সেখান থেকে বিজয়ী হয়ে ফিরে আস) আর যুদ্ধলব্ধ কিছু সম্পদ যদি তোমার হস্তগত হয়, তা তুমি আল্লাহর পক্ষ থেকে নিও।’ আমর (রা.) বলেন, ‘তখন আমি নিবেদন করলাম, হে আল্লাহর রাসুল! আমি তো সম্পদের লোভে ইসলাম গ্রহণ করিনি। আমি ইসলামের সৌন্দর্যের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে তা গ্রহণ করেছি এবং এ জন্য যে আমি আপনার সঙ্গী হব।’ তখন রাসুল (সা.) বলেন, ‘হে আমর! উত্তম লোকদের জন্য পবিত্র সম্পদ একটা বড় নেয়ামত।’ (মুসনাদে আহমাদ)। এ কারণেই রাসুল (সা.)-এর জীবদ্দশায় সাহাবায়ে কেরামের একটা বিরাট দল ব্যবসা-বাণিজ্য, আমদানি-রফতানি, কৃষি ও শিল্পে নিজেদের দক্ষতার প্রমাণ করেছিলেন। সাহাবিদের কেউ কেউ রাসুল (সা.)-এর জীবদ্দশায় জান্নাতের সুসংবাদও পেয়েছিলেন। ওসমান (রা.), আবদুর রহমান ইবনে আউফ (রা.), সাদ ইবনে আবি ওয়াক্কাস (রা.) এ ধরনের অনেক সম্পদশালী সাহাবির নাম ইতিহাস সংরক্ষণ করেছে। তারপরও তারা হালাল পন্থায় সম্পদ উপার্জন করেছেন। সম্পদ উপার্জন আখেরাতের সঙ্গে বৈরী কোনো বিষয় নয়। তবে সম্পদের যদি সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত না করে তবে সেটি ভিন্ন কথা।
প্রতিটি দরিদ্র গৃহহীন পরিবারকে জাকাত বা সাধারণ দান থেকে এতটুকু পরিমাণ প্রদান করা সামর্থ্যবানদের দায়িত্ব, যাতে দরিদ্র ও গৃহহীনতার অভিধা থেকে মুক্ত হয়ে নূ্যূনতম সচ্ছলতার পর্যায়ে পৌঁছতে পারে। এ সাহায্য ব্যক্তি পর্যায়েও হতে পারে আবার প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়েও হতে পারে।
মোট কথা, গরিব সমাজের উন্নয়নের দায়িত্ব সমাজের বিত্তবান প্রতিপত্তিশালী ব্যক্তির ওপর বর্তায়। সমাজের বিত্তবানদের কাছে এটা গরিবের অধিকার। এটা কিছুতেই গরিবের প্রতি ধনীর দয়া বা অনুগ্রহ নয়। এ অধিকারের সপক্ষে ইসলামই সবচেয়ে জোরালো নির্দেশনা জারি করেছে। এরশাদ হয়েছে, ‘আর তাদের (ধনীদের) সম্পদে অধিকারবঞ্চিত দরিদ্র জনগোষ্ঠীর অধিকার রয়েছে।’ (সুরা জারিয়াত : ১৯)। এ জন্য ইসলাম ধনীর অর্জিত সম্পদে গরিবের জন্য জাকাত, সদকা, নিঃস্বার্থ ঋণদান, অধীনস্থদের ভরণপোষণ, আত্মীয়-স্বজনের অধিকার, প্রতিবেশীর অধিকারসহ বিভিন্ন বিধান প্রবর্তন করেছে। কারণ পৃথিবীর সমুদয় সম্পদের ওপর সামষ্টিকভাবে সব মানুষের অধিকার রয়েছে। আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘তিনি পৃথিবীর সব কিছু তোমাদের (সব মানুষের) কল্যাণে সৃষ্টি করেছেন।’ (সুরা বাকারা : ২৯)। তাই বিত্তবানরা সুখে-দুঃখে সমাজের কল্যাণে, দরিদ্র জনগোষ্ঠীর সেবায় এগিয়ে আসবেন এটাই ধর্ম ও মানবতার দাবি।





সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]