ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা সোমবার ২৫ মে ২০২০ ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭
ই-পেপার সোমবার ২৫ মে ২০২০

খলিফার সন্তানের ঈদ!
আবু তালহা তারীফ
প্রকাশ: শুক্রবার, ২২ মে, ২০২০, ১২:০০ এএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 33

মুমিনদের আমির তিনি, শাসন করেন অর্ধ পৃথিবী। তার শাসনামলে নেই কেউ অনাহারে, শান্তিতে বসবাস করে সবাই। এমনকি অশান্তিতে নেই বনের জন্তুগুলোও। সেই ব্যক্তি ইসলামের জন্য দিয়েছেন তার সম্পত্তি কোরবান। দিয়েছেন নিজে না খেয়ে অনাহারের মুখে খাবার, সেই শাসক আর অন্য কেউ নয়, তিনি হলেন অর্ধ পৃথিবীর শাসক খলিফা হজরত ওমর (রা.)।  
হজরত ওমর (রা.)-এর খেলাফতের প্রথম দিকে কোনো এক ঈদের আগের দিনে খলিফার স্ত্রী খলিফা তাকে বললেন, আগামীকাল ঈদ অথচ আমাদের ঘরে কোনো নতুন পোশাক নেই! আমাদের নতুন পোশাক নেই তাতে অসুবিধা নেই, কিন্তু আমাদের আদরের ছোট সন্তানটি নতুন পোশাকের জন্য কান্না করছে। হে অর্ধ পৃথিবীর খলিফা, আমি আপনার স্ত্রী হয়ে এবারের ঈদে আমার কোনো চাওয়া নেই আপনি শুধু আমাদের সন্তানটির কান্না বন্ধ করে দেওয়ার জন্য ঈদে একটি নতুন পোশাকের ব্যবস্থা করে দিন।
হজরত ওমর (রা.) সন্তানের চোখে কান্না দেখে তিনি চোখে পানি ধরে রাখতে পারলেন না। কিন্তু ঈদে সন্তানের জন্য একটি পোশাক ক্রয় করার সামার্থ্য নেই তার। পরে রাষ্ট্রের অর্থবিভাগের প্রধান হজরত আবু উবায়দার নিকট ঈদে সন্তানের জন্য পোশাক ক্রয় করতে হবে বিধায় এক মাসের অগ্রিম বেতন দেওয়ার জন্য চিঠিতে উল্লেখ করে বেতন চাইলেন। শাসক ওমর (রা.) হাতের চিঠি পেয়ে হজরত আবু উবায়দা পাঠ করে চোখে পানি ধরে রাখতে পারলেন না। অর্ধ পৃথিবীর শাসকের সন্তান নতুন পোশাকের জন্য ঈদ করতে পারছে না কিন্তু হজরত আবু উবায়দা (রা.) চিঠির বাহককে পোশাক ক্রয়ের অর্থ না দিয়ে চিঠির উত্তরে লিখলেন, হে অর্ধ পৃথিবীর শাসক! আপনি অগ্রিম বেতন চেয়েছেন কিন্তু অগ্রিম বেতন বরাদ্দের জন্য দুটি বিষয়ে আপনাকে ফয়সালা দিতে হবে। প্রথমত হলো আগামী মাসের জন্য অগ্রিম বেতন চাচ্ছেন আপনি কি আগামী মাস পর্যন্ত বেঁচে থাকবেন? আর দ্বিতীয়ত আপনি বেঁচে থাকলেও আগামী মাস পর্যন্ত এই দায়িত্বে থাকার নিশ্চয়তা কী?
হজরত ওমর (রা.) চিঠি পড়ে কোনো উত্তর দিলেন না বরং তার চোখের পানিতে দাড়ি ভিজে গেল আর দুটি হাত প্রভুর দরবারে তুলে দোয়া করলেনÑ ‘হে আল্লাহ, হজরত আবু উবায়দার ওপর রহম কর, তাকে হায়াত দাও।’ দোয়া করলেন হজরত আবু উবায়দার জন্য। কিন্তু ঈদে অর্ধ পৃথিবীর শাসকের সন্তানের জন্য পোশাক ক্রয় করা হলো না। (আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া, ইবনে কাসীর)। এই ঘটনায় আমাদের জন্য অনেক শিক্ষা রয়েছে, বিবেকমান ব্যক্তিরা তা অনুধান করবেন। আমাদের চারপাশে অনেক অসহায়-গরিব রয়েছেÑ সামর্থ্যবানরা তাদেরকে ঈদের পোশাক দিয়ে ধনী-গরিব সবার ঈদকে আনন্দময় করবার শিক্ষা দেয় ইসলাম। আর যারা ঈদের শপিং করছেন, তারা পোশাক ক্রয় করার সময় কোনো প্রকার অপচয় এবং পোশাক নিয়ে অহঙ্কার করা যাবে না। রাসুল (সা.) বলেন, ‘হালাল খাবার যা খুশি খাও। পোশাক যা খুশি পরিধান কর, তবে দুটি জিনিস হতে বিরত থাকবে। তা হচ্ছে অপচয় এবং অহঙ্কার।’ (বুখারি ও মুসলিম)






সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]