ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা সোমবার ২৫ মে ২০২০ ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭
ই-পেপার সোমবার ২৫ মে ২০২০

ইসলামের প্রথম মসজিদ ‘কুবা’
মোস্তফা কামাল গাজী
প্রকাশ: শুক্রবার, ২২ মে, ২০২০, ১২:০০ এএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 11

মসজিদে কুবা সৌদি আরবের মদিনায় অবস্থিত। এটি ইসলামের প্রথম মসজিদ। এ মসজিদে তিনি বেশ কিছুদিন অবস্থান করেছিলেন। মসজিদটি মদিনা শরিফের দক্ষিণ-পশ্চিম কোণে অবস্থিত। এর দূরত্ব মসজিদে নববী থেকে পাঁচ কিলোমিটারের মতো। ‘কুবা’ একটি কূপের নাম। এই কূপকে কেন্দ্র করে যে বসতি গড়ে উঠেছে, তাকে কুবা মহল্লা বলা হয়। তাই মসজিদের নামকরণও হয় মসজিদে কুবা।
রাসুলুল্লাহ (সা.) মদিনায় হিজরতের প্রথম দিন কুবায় অবস্থানকালে এ মসজিদের ভিত্তি স্থাপন করেন। এর নির্মাণকাজে সাহাবাদের সঙ্গে তিনিও অংশগ্রহণ করেন। তিনি যখন এর ভিত্তি স্থাপন করেন, তখন কেবলার দিকের প্রথম পাথরটি নিজ হাতে স্থাপন করেছিলেন।
নবুওয়তের পর এটিই ছিল উম্মতে মোহাম্মদির প্রথম মসজিদ। মসজিদে হারাম, মসজিদে নববি এবং মসজিদে আকসার পরই মসজিদে কুবার সম্মান ও ফজিলত। পবিত্র কোরআনে এ মসজিদের আলোচনা এবং মসজিদ সংলগ্ন অধিবাসীদের একটি বিশেষ গুণের প্রশংসা করা হয়েছে। ইরশাদ হয়েছে, ‘যে মসজিদ প্রথম দিন থেকেই প্রতিষ্ঠিত হয়েছে তাকওয়ার ওপর (মসজিদে কুবা) তাই বেশি হকদার যে, তুমি সেখানে নামাজ কায়েম করতে দাঁড়াবে। সেখানে এমন লোক আছে, যারা উত্তমরূপে পবিত্রতা অর্জন করতে ভালোবাসে। আর আল্লাহ পবিত্রতা অর্জনকারীদের ভালোবাসেন।’ (সুরা তওবা : ১০৮)
কুবা মসজিদের জায়গাটি ছিল হজরত কুলসুম ইবনুল হিদম (রা.)-এর খেজুর শুকানোর পতিত জমি। তিনি ছিলেন আমর ইবনে আওফের গোত্রপতি। রাসুলুল্লাহ (সা.) ১৪ দিন (কেউ বলেন ১০ দিন) অবস্থান করে তার আতিথ্য গ্রহণ করেন।
মসজিদে কুবা শুরু থেকে এ পর্যন্ত কয়েকবার সংস্কার ও পুনর্নির্মাণ করা হয়। রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর পর ইসলামের তৃতীয় খলিফা হজরত উসমান (রা.) মসজিদে কুবার সংস্কার ও পুনর্নির্মাণ করেন। এরপর বিভিন্ন সময়ে আরও বেশ কয়েকবার এই মসজিদের পুনর্নির্মাণ ও সংস্কার করা হয়। সর্বশেষ ১৯৮৬ সালে মসজিদটি পুনর্নির্মাণ করা হয়। এই মসজিদ নির্মাণে পুরো মসজিদে এক ধরনের সাদা পাথর ব্যবহার করা হয়, যা অন্য কোনো মসজিদে সাধারণত দেখা যায় না।
মসজিদে চারটি মিনার, ছাদে ১টি বড় গম্বুজ এবং ৫টি অপেক্ষাকৃত ছোট গম্বুজ রয়েছে। এছাড়া ছাদের অন্য অংশে রয়েছে গম্বুজের মতো ছোটো ছোটো অনেক অবয়ব। মসজিদটি দেখতে প্রতিদিন পর্যটকরা ভিড় জমান। মসজিদে নারী ও পুরুষদের নামাজের জায়গা ও প্রবেশপথ আলাদা। অজুর জায়গাও ভিন্ন। সম্পূর্ণ শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত মসজিদের ভেতরের কারুকাজও বেশ মনোমুগ্ধকর। মূল মসজিদ ভবনের মাঝে একটি খালি জায়গা আছে, সেখানেও নামাজের ব্যবস্থা রয়েছে। দামি কার্পেট বিছানো মেঝেতে মুসল্লিরা নামাজ আদায় করেন। রয়েছে জমজম পানির সুব্যবস্থা।
মদিনায় রাসুলুল্লাহ (সা.) ১০ বছর কাটিয়েছেন। এ সময়ে তিনি পায়ে হেঁটে, উট কিংবা ঘোড়ায় আরোহণ করে কুবা মসজিদে যেতেন। এরপর তিনি সেখানে দুরাকাত নামাজ আদায় করতেন। হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, ‘মসজিদে কুবায় নামাজ আদায় করার সওয়াব একটি ওমরার সমপরিমাণ।’ (তিরমিজি : ১৭২২)
রাসুলুল্লাহ (সা.) আরও ইরশাদ করেন, যে ব্যক্তি নিজের ঘরে ভালোভাবে পবিত্রতা অর্জন করে (সুন্নত মোতাবেক অজু করে) মসজিদে কুবায় আগমন করে নামাজ আদায় করে তাকে এক ওমরার সমপরিমাণ সওয়াব দান করা হবে।’ (ইবনে মাজা : ৫৬২)
হাদিসের এমন বর্ণনার পরিপ্রেক্ষিতে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর যুগ থেকেই প্রতি শনিবার মসজিদে কুবায় নামাজ আদায়ের জন্য গমন করা মদিনাবাসীর অভ্যাসে পরিণত হয়েছিল। এখনও তাদের এই আমল অব্যাহত রয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর অনুসরণে কুবা মসজিদে আসা ও দুরাকাত নামাজ আদায় করা মুস্তাহাব। হজ পালন শেষে মদিনায় অবস্থানরত হাজিরাও মসজিদে কুবায় গিয়ে নামাজ আদায় করেন।




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]