ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা রোববার ৩১ মে ২০২০ ১৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭
ই-পেপার রোববার ৩১ মে ২০২০

আম্ফান বাংলাদেশ অতিক্রম করল শক্তি হারিয়ে
সতর্কতা ও সমন্বিত উদ্যোগে কমেছে ক্ষতি
প্রকাশ: শুক্রবার, ২২ মে, ২০২০, ১২:০০ এএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 8

ঘূর্ণিঝড় আম্ফানের আতঙ্কে ছিল সারা দেশ। করোনার বিপর্যয়ের মধ্যে নতুন সৃষ্ট এই প্রাকৃতিক দুর্যোগ স্বাভাবিকভাবেই মানুষকে আতঙ্কিত করেছিল। তবে বাংলাদেশের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া ঘূর্ণিঝড় আম্ফান যে সর্বগ্রাসী রূপ নিয়ে আঘাত হানার কথা ছিল, শেষ পর্যন্ত তা হয়নি। ঘূর্ণিঝড় আম্ফান ভারতের পশ্চিমবঙ্গ উপকূলে তাণ্ডব চালিয়ে কিছুটা দুর্বল হয়ে সুন্দরবন দিয়ে বাংলাদেশে আঘাত হানে। সময়ের আলোর প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ঘূর্ণিঝড় আম্ফানের তাণ্ডবে দেশের বিভিন্ন স্থানে ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। ঘূর্ণিঝড়টির প্রভাবে দক্ষিণাঞ্চলের অনেক গ্রাম প্লাবিত, ভেঙে পড়েছে বাঁধ, কাঁচা বাড়ি ও গাছপালা। ঘূর্ণিঝড়ে বাতাসের তীব্রতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নদ-নদীতে পানির উচ্চতা স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে পাঁচ থেকে ছয় ফুট বেশি হওয়ায় অনেক স্থানেই বেড়িবাঁধ ভেঙে লোকালয়ে পানি ঢুকে পড়ে। এতে বেড়িবাঁধ ও ফসলেরও ব্যাপক ক্ষতি হয়। সারা রাত তাণ্ডব চালানোর পর ঘূর্ণিঝড় আম্ফান নিম্নচাপে পরিণত হয়। ঘূর্ণিঝড়টি যে শক্তি নিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করবে ধরে প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল, আমাদের সৌভাগ্য তা হয়নি, বরং বাংলাদেশে প্রবেশের আগে থেকেই ঘূর্ণিঝড়টি শক্তি হারাতে থাকে। ফলে প্রাকৃতিক বড় বিপর্যয়ের হাত থেকে আমরা রক্ষা পেলাম। নিঃসন্দেহে এটি স্বস্তির বিষয়। আমাদের যে দুশ্চিন্তা ছিল, আপাতত সেই দুঃস্বপ্নের অবসান হয়েছে।
ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাস আমাদের দেশে নতুন কিছু নয়। প্রায় প্রতিবছরই এর আঘাতে উপকূলীয় এলাকা লন্ডভন্ড হয়ে যায়, সম্পদ ও ফসলহানি ঘটে, শত শত, হাজার হাজার মানুষের মৃত্যু হয়। এবার এমন এক সময়ে ঘূর্ণিঝড় আম্ফানের খবর আসে, যখন বৈশ্বিক মহামারি করোনা দেশের সর্বত্র দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। প্রতিদিনই আক্রান্ত ও মৃতের নতুন রেকর্ড হচ্ছে। এরূপ ঘোরতর দুঃসময়ে নতুন বিপদ হিসেবে দেখা দেয় ঘূর্ণিঝড় আম্ফান। এরকম অস্বাভাবিক পরিস্থিতির মধ্যে ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের আঘাতে কী হতে পারে তা সহজেই অনুমেয়। আমরা সৌভাগ্যবান প্রকৃতি আমাদের প্রতি তার নিষ্ঠুরতার পূর্ণমাত্রা নিয়ে আসেনি। একই সঙ্গে সরকারের আন্তরিকতাও এক্ষেত্রে প্রশংসনীয়। শুরুতেই প্রস্তুতি হিসেবে উপকূলীয় এলাকা থেকে বিপুল সংখ্যক মানুষকে সরিয়ে নিরাপদ স্থানে বা আশ্রয়কেন্দ্রে নেওয়া হয়। ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের পর মানুষকে ঘরে ফেরানো, ত্রাণ ও পুনর্বাসনের মাধ্যমে তাদের জীবনযাপন নিরাপদ ও স্বাভাবিক করার জন্যও নেওয়া হয় ব্যাপক প্রস্তুতি। সামাজিক দূরত্ব মেনে আশ্রয়কেন্দ্রে মানুষকে নিরাপদ রাখার উদ্যোগ মৃত্যুর সংখ্যা কমিয়েছে, একই সঙ্গে বিপুল সংখ্যক প্রাণীরও জীবন রক্ষা পেয়েছে।
পৃথিবীর সাজানো রূপ মুহূর্তেই পাল্টে দিতে পারে ঘূর্ণিঝড়। ঘূর্ণিঝড়ের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব না হলেও আগাম সতর্কবার্তার ফলে সতর্কতামূলক ও সচেতনতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা সম্ভব। এতে ধ্বংস, প্রাণক্ষয় এবং আর্থিক লোকসান অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব। এবারও ঘূর্ণিঝড় আম্ফানের এগিয়ে আসার খবরের শুরু থেকেই সরকার নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করে। ঘূর্ণিঝড়ের আঘাত থেকে জনসাধারণ এবং সম্পদ বাঁচাতে সরকার ও সংশ্লিষ্টরা পূর্ব সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করার সুফল আমরা পাচ্ছি। এর আগে প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড় সিডর, আইলা মোকাবিলার অভিজ্ঞতা উপকূলবাসীর ঘূর্ণিঝড়ের সঙ্গে লড়াইয়ের সক্ষমতা বাড়িয়েছে। আমরা আশা করি, সরকারের উদ্যোগের পাশাপাশি বেসরকারি পর্যায় থেকেও দুর্যোগ মোকাবিলায় সবাই এগিয়ে আসবে। তবে ঘূর্ণিঝড়ের মতো দুর্যোগ মোকাবিলায় আমাদের যে সাফল্য এবং অগ্রগতি তাতে আত্মতৃপ্ত হয়ে থেমে থাকার সুযোগ নেই। একইভাবে আমাদের মনে রাখা প্রয়োজন, উপকূলীয় সুরক্ষাবাঁধ, সবুজ বেষ্টনী ও অন্যান্য সুরক্ষা ব্যবস্থা অক্ষত-অটুট থাকলে ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের ক্ষয়ক্ষতি কম হতে পারে। সিডর ও আইলার আঘাত কীভাবে সুন্দরবন প্রতিহত করেছে, তা কারও অজানা হয়। তাই সুন্দরবনের সংরক্ষণসহ উপকূল রক্ষার সম্ভাব্য সকল ব্যবস্থা নিশ্চিত করা জরুরি। আমাদের সমন্বিত প্রচেষ্টাতেই আমরা প্রাকৃতিক বিপর্যয়গুলো মোকাবিলা করতে পারব।






সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]