ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা সোমবার ২৫ মে ২০২০ ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭
ই-পেপার সোমবার ২৫ মে ২০২০

রেমিট্যান্সের পালে হাওয়া : ২১ দিনে প্রবাসীরা পাঠিয়েছেন ১১২ কোটি ডলার
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: শুক্রবার, ২২ মে, ২০২০, ৪:৫৫ পিএম | অনলাইন সংস্করণ  Count : 16

করোনায় বিপর্যস্ত বিশ্ব অর্থনীতি। অনেক দেশ লকডাউননের পাশাপাশি রেমিট্যান্স হাউসও বন্ধ। এত কিছুর মধ্যেও ঈদকে সামনে রেখে রেকর্ড পরিমাণ রেমিটেন্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা।

চলতি মাসের প্রথম ২১ দিনে ১১২ কোটি ১০ লাখ ডলার পাঠিয়েছেন তারা। গত এপ্রিলে ১০৮ কোটি ১০ লাখ ডলারের রেমিটেন্স পাঠিয়েছিলেন প্রবাসীরা। রেমিটেন্সের এ ঊর্ধ্বগতিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দুই সপ্তাহের ব্যবধানে ফের ৩৩ বিলিয়ন ডলার অতিক্রম করেছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, করোনার প্রভাবে বিশ্ব এখন সংকটে। স্বাভাবিকভাবেই এর প্রভাব পড়ে রেমিটেন্সেও। আশঙ্কা ছিল, আমদানি ও রফতানি আয়ের মতো অর্থনীতির অন্যতম প্রধান সূচক রেমিটেন্সও তলানিতে নামবে কিন্তু তা হয়নি। গত মার্চ থেকেই রেমিটেন্স কমে আসছিল।

আশাবাদী ছিলেন না অর্থনীতিবিদ ও ব্যাংকাররাও। অতীতে অন্য ঈদের মাসের চেয়ে চলতি মাসে রেমিটেন্স প্রবাহ বাড়ায় কিছুটা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা।

প্রতি বছরের মতো গত বছরও রোজার ঈদের আগে মে মাসে ১৭৪ কোটি ৮২ লাখ ডলারের রেকর্ড রেমিটেন্স এসেছিল। এবার করোনার মহামারীর মধ্যে অনেক প্রবাসী শ্রমিকের দেশে ফিরে আসা এবং যারা এখনও রয়েছেন তারাও তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছেন।

এসব রেমিটেন্স নিয়ে আশাবাদী না হওয়ারই ইঙ্গিত দিচ্ছিল। গত মার্চে ১২৮ কোটি ৬৮ লাখ ডলারের রেমিটেন্স এসেছিল, যা গত বছরের মার্চ মাসের চেয়ে ১৩ দশমিক ৩৪ শতাংশ কম। পরের মাস এপ্রিলে রেমিটেন্স আরও কমে ১০৮ কোটি ১০ লাখ ডলারে আসে, তাও গত বছরের এপ্রিলের চেয়ে ২৪ দশমিক ৬১ শতাংশ কম।

কিন্তু মে মাসে চিত্র পাল্টাতে থাকে। প্রথম ১১ দিনে ৫১ কোটি ২০ লাখ ডলার রেমিটেন্স আসে, ১৩ মে পর্যন্ত আসে ৬৮ কোটি ৮০ লাখ ডলার। ১৪ মে পর্যন্ত আসে ৮০ কোটি ডলার। ২১ মে তা ১১২ কোটি ১০ লাখ ডলারে পৌঁছে। মহামারীর প্রভাব শুরুর আগে রেমিটেন্সে প্রবৃদ্ধি ২০ শতাংশের উপরে ছিল।

প্রসঙ্গত , করোনার প্রভাবে রেমিট্যান্স আহরণের প্রধান দেশগুলোতে গত তিন মাস ধরে অচলাবস্থা। ১ কোটিরও বেশি বাংলাদেশি এখন বিদেশে কাজ করছেন। যার মধ্যে ৭৫ শতাংশেই আছেন মধ্যপ্রাচ্যে।

গতবছর এই প্রবাসী বাংলাদেশিরা ব্যাংকিং চ্যানেলে ১৮ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলারের প্রবাসী আয় পাঠিয়েছেন। কিন্তু করোনার এই সংকটকালীন সময়ে তারাও নানা সংকটে আছেন। অনেকের বেতন কমে গেছে। অনেকের কাজ নেই। অনেককে দেশে ফিরতে হচ্ছে। সবমিলিয়ে অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ।

তবে এরপরেও প্রবাসীরা দেশে পরিবারের জন্য টাকা পাঠানো পুরোপুরি বন্ধ করে দেননি। বরং ধারদেনা করে হলেও এখনো চেষ্টা করছেন টাকা পাঠাতে। আর সামনে ঈদের কারণে মে মাসে প্রবাসী আয় বাড়তির দিকে।

আর তাই করোনা সংকটময় সময়ে অর্থনীতিতে স্বস্তি জোগাচ্ছে প্রবাসীদের কষ্টের অর্থ রেমিট্যান্স। শত সংকটেও ঈদ সামনে রেখে দেশে আত্মীয়-স্বজনদের জন্য টাকা পাঠানোর প্রবণতা বাড়িয়ে দিয়েছেন প্রবাসীরা।




এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]