ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা বৃহস্পতিবার ২৮ মে ২০২০ ১৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭
ই-পেপার বৃহস্পতিবার ২৮ মে ২০২০

গরিবের ঈদও হোক আনন্দের
আমিন ইকবাল
প্রকাশ: শনিবার, ২৩ মে, ২০২০, ১২:০০ এএম আপডেট: ২৩.০৫.২০২০ ২:৫২ এএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 31

মুসলিম দুয়ারে কড়া নাড়ছে পবিত্র ঈদুল ফিতর। ঈদ আমাদের ধর্মীয় উৎসব। সাড়ে ১৪শ’ বছর পূর্বে নবী মুহাম্মদ (সা.) মক্কা থেকে হিজরত করে যখন মদিনায় এলেন, দেখলেনÑ মদিনাবাসী বছরে দুদিন আনন্দ-উৎসব করে। সেই উৎসব সম্পর্কে নবীজি (সা.) জানতে চাইলে তারা বলেন, জাহেলি যুগ থেকে আমরা এ দুদিন উৎসব পালন করে আসছি। পরে রাসুল (সা.) বললেন, ‘আল্লাহ তায়ালা তোমাদেরকে এই দুদিনের বদলে উৎসবের জন্য আরও উত্তম দুদিন দিয়েছেন, সে দুদিন হলোÑ ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা।’ (আবু দাউদ : ১/১৬১)।
‘ঈদ’ ধনী-গরিব সবার জন্যেই আসে। ঈদের মাঠে জাত-পাত-উঁচু-নিচুর পার্থক্য থাকে না। সবাই কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে নামাজ আদায় করে। নামাজ শেষে মুসাফাহা ও কোলাকুলি করে। বন্ধু বন্ধুকে, ভাই ভাইকে বাড়িতে নিয়ে সেমাই-পায়েশ খাওয়ায়। শিশুরা বড়দের সালাম করে, বড়রা আদর করে দেয় ‘ঈদ সালামি’। এভাবেই আনন্দে আনন্দে কেটে যায় একটি দিন; ঈদের দিন।
তবে আমাদের ইসলাম ধর্মের শিক্ষা হলোÑ ঈদের আনন্দ কেবল নিজে নয়; গরিবকেও করার সুযোগ করে দাও। নিজে ভালো পোশাক পরিধান করো, অসহায়কেও পরার সুযোগ করে দাও। নিজে ভালো খাবার খাও, প্রতিবেশীকেও খাওয়ার ব্যবস্থা করে দাও।
যদিও আমাদের সমাজের বাস্তবতা ভিন্ন। বিপরীত লক্ষ করা যায় সর্বত্র। ঈদ যেন কেবল বিত্তবানদের জন্যই আসে! ঈদের দিন বড়লোকের চোখেমুখে আনন্দের যেরকম ঝিলিক থাকে; গরিবের চেহারায় তা ফুটে ওঠে না। ধনির দুলালরা নতুন দামি জামা পরে যেভাবে ঘুরে বেড়ায়, গরিবের সন্তান তা ছুঁয়েও দেখতে পারে না। এটা কখনই কাম্য নয়।
ধনী-গরিবের এমন বৈষম্য ঘোচাতে ইসলাম কিছু বিধান জারি করে রেখেছে। নির্দেশ দিয়েছেÑ ধনীরা যেন সম্পদের জাকাত দেয়। ঈদের নামাজের আগেই যেন সদকাতুল ফিতর আদায় করে। এসব গরিবের হক। গরিবও যেন ঈদে নতুন জামা কিনতে পারে। ভালো খাবার খেতে পারে। অপার্থিব আনন্দের সঙ্গে একটি দিন কাটাতে পারে। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তাদের (সম্পদশালীদের) ধনসম্পদে রয়েছে অভাবগ্রস্ত ও বঞ্চিতের হক।’ (সুরা আল-জারিয়াত : ১৯)। হাদিসে হজরত ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.) সদকায়ে ফিতর নির্ধারণ করেছেন রোজাকে অনর্থক কথা ও অশ্লীল ব্যবহার থেকে পবিত্র করার এবং গরিবদের মুখে অন্ন তুলে দেওয়ার জন্য।’ (আবু দাউদ : ১৬১১)।
ঈদে অপেক্ষাকৃত গরিব আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীর খোঁজ নিতে বলা হয়েছে। তাদের হক আদায় করতে হবে। তারাও যেন ঈদ-উৎসবে শামিল হতে পারে। কোরআনে বলা হয়েছে, ‘তোমরা ইবাদত কর আল্লাহর, তার সাথে কোনো কিছুকে শরিক করো না। আর সদ্ব্যবহার কর মাতা-পিতার সাথে, নিকট আত্মীয়ের সাথে, এতিম-মিসকিন, প্রতিবেশী, অনাত্মীয় প্রতিবেশী, পার্শ্ববর্তী সাথী, মুসাফির এবং তোমাদের মালিকানাভুক্ত দাস-দাসীদের সাথে। নিশ্চয়ই আল্লাহ পছন্দ করেন না তাদেরকে, যারা দাম্ভিক, অহঙ্কারী।’ (সুরা নিসা : ৩৬)।
অতএব আসুন, ঈদের আগে আগেই গরিবদের মাঝে আমাদের জাকাত, ফেতরা সঠিকভাবে পৌঁছে দিয়ে তাদের ঈদকেও আনন্দময় করে তুলি। যাদের জন্য জাকাত বা ফিতরা দেওয়া ফরজ নয়; তারাও দান-সদকার হাত প্রসারিত করতে পারি। অন্তত একটি গরিব পরিবার বা একজন অসহায় মানুষের ঈদ আনন্দের দায়িত্ব নিতে পারি আমি। তবেই না দূর হবে ধনী-গরিবের বৈষম্য। সমাজের সর্বত্র ছড়িয়ে পড়বে ঈদুল ফিতরের অপার্থিব আনন্দ। পালিত হবে পবিত্র ঈদ উৎসব।






সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]