ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা বৃহস্পতিবার ২৮ মে ২০২০ ১৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭
ই-পেপার বৃহস্পতিবার ২৮ মে ২০২০

আম্ফানে উপড়ে পড়েছে ঐতিহাসিক যশোর রোডের ৫টি শতবর্ষী রেইনট্রি
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: শনিবার, ২৩ মে, ২০২০, ১২:০০ এএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 5

ঐতিহাসিক যশোর রোডের পাঁচটি শতবর্ষী রেইনট্রি গাছ উপড়ে পড়েছে এই অঞ্চলের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া ঘূর্ণিঝড় আম্ফানের তাণ্ডবে। ঘূর্ণিঝড়ের তাণ্ডবে আরও কিছু গাছের ডালপালা ভেঙে পড়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই রোডের দুই সহস্রাধিক রেইনট্রি গাছ মহাদুর্যোগ রক্ষায় ঢাল হয়ে বেশ বড় ভূমিকা রেখেছে। মানুষ রক্ষা করতে গিয়ে এক রাতেই প্রাণ দিল পাঁচটি বৃক্ষ; এমনই অভিমত তাদের।
জেলা পরিষদের হিসেবে, বুধবার রাতে ঘূর্ণিঝড় আম্ফানের তাণ্ডবে যশোর রোডের যশোর-বেনাপোল ৩৮ কিলোমিটার অংশে পাঁচটি শতবর্ষী রেইনট্রি গাছ উপড়ে পড়েছে রাস্তায়। এর মধ্যে ঝিকরগাছার হাজের আলী বালিখোলা এলাকায় একটি, বেনেয়ালিতে দুটি ও বাদে নাভারণে দুটি গাছ উপড়ে পড়ে। বিপুলসংখ্যক গাছের ডালপালা ভেঙে পড়েছে। ফায়ার সার্ভিস ও প্রশাসনের বিভিন্ন বিভাগের চেষ্টায় বিকালের দিকে ভেঙে পড়া গাছের ডালপালা সরিয়ে সড়কের আংশিকভাগ যানবাহন চলাচলের উপযোগী করা হয়েছে।
যশোর আবহাওয়া অফিস বলছে, ঘূর্ণিঝড় আম্ফান পশ্চিমবঙ্গের উপকূল দিয়ে স্থলভাগে প্রবেশ করে। পরে এর কেন্দ্র ভারতের ভেতরেই যশোরের পশ্চিমাংশ ছুঁয়ে ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর, মহেশপুর হয়ে উত্তরাঞ্চলে চলে যায়। বুধবার রাতে আম্ফানের তাণ্ডবে বাতাসের গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ১০৪-১৩৫ কিলোমিটার পর্যন্ত। প্রায় চার ঘণ্টা ধরে চলে এ তাণ্ডব।
জেলা পরিষদের বৃক্ষ রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বরত এমএ মঞ্জু জানান, যশোর রোডের যশোর-বেনাপোল ৩৮ কিলোমিটার অংশে পাঁচটি শতবর্ষী রেইনট্রি গাছ উপড়ে পড়ে। যশোর রোড পুনঃনির্মাণ করতে গিয়ে অনেক গাছের শেকড় কাটা পড়ে দুর্বল হয়ে গেছে। এ জন্য এসব গাছ উপড়ে পড়ে বলে স্থানীয় বাসিন্দারা মনে করছেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের এই দাবির সঙ্গে একমত যশোরের পরিবেশবাদীরাও।
পরিবেশ আন্দোলনকর্মী গ্রিন ওয়ার্ল্ড এনভায়রনমেন্ট ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক আশিক মাহামুদ সবুজ বলেন, গাছগুলো ধ্বংস করে দিতে রাস্তা নির্মাণের সময় পরিকল্পিতভাবেই শেকড় কেটে ফেলা হয়েছে। অন্যদিকে আম্ফান যশোর অতিক্রমের সময় যশোর রোডের ওই দুই সহস্রাধিক বড় বড় রেইনট্রি গাছ মানুষকে রক্ষায় ঢাল হিসেবে কাজ করেছে বলে বিশেষজ্ঞরা অভিমত প্রকাশ করেন।
যশোর সরকারি এমএম কলেজের ভূগোল ও পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ছোলজার রহমান বলেন, ‘অনেকে শুনলে হয়তো বিশ^াস করতে চাইবেন না; এ রোডের বৃক্ষগুলো মানুষকে কতটা রক্ষা করেছে। মনে হতে পারে এত ফাঁকা ফাঁকা গাছ আবার মহাদুর্যোগ রক্ষায় ঢাল হলো কীভাবে। কিন্তু বাস্তবতা হলো, এই গাছগুলো ঝড়ের সঙ্গে যুদ্ধ করে মানুষকে বাঁচিয়েছে। আমরা পরিবেশবিদরা এটা জানতাম বলেই গাছগুলো রক্ষায় বিভিন্ন সময় আন্দোলন করেছি।’
যশোর শিক্ষাবোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান কলামিস্ট অধ্যাপক আমিরুল আলম খান বলেন, যশোর রোডের গাছ আমাদের ইতিহাস, আমাদের ঐতিহ্য। সর্বোপরি এই বিপুল বিশাল মহীরুহবীথি আমাদের প্রাকৃতিক রক্ষাপ্রাচীর। সুন্দরবনের পরেই যশোর কুষ্টিয়া অঞ্চলকে এই বৃক্ষপ্রাচীর প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে আমাদের রক্ষা করে। সুপার সাইক্লোন আম্ফানের আঘাত থেকেও আমরা অনেকটা রক্ষা পেয়েছি। তাই এ বৃক্ষপ্রাচীর রক্ষা করা আমাদের নাগরিক দায়িত্ব।







সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]