ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা সোমবার ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২০ ১৩ আশ্বিন ১৪২৭
ই-পেপার সোমবার ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২০

হালদা নদীতে ডিম সংগ্রহে ১৪ বছরের রেকর্ড ভঙ্গ
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: শনিবার, ২৩ মে, ২০২০, ১২:০০ এএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 68

হালদা নদী দক্ষিণ এশিয়ার রুই জাতীয় মাছের প্রাকৃতিক প্রজনন ক্ষেত্র। এ নদীতে ডিম সংগ্রহে ১৪ বছরের রেকর্ড ভঙ্গ হয়েছে। এ বছর হালদা থেকে সংগৃহীত ডিমের পরিমাণ ২৫ হাজার ৫৩৬ কেজি, যা এক দশকের বেশি সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ। গত বছর ডিম সংগ্রহের পরিমাণ ছিল সাত হাজার কেজি। ২০০৬ সালে ৩২ হাজার কেজি ডিম সংগ্রহ করা হয়েছিল, যা ছিল তখনকার সর্বোচ্চ।
শুক্রবার সকাল থেকে হালদা নদীতে ডিম পাওয়া শুরু হয়। প্রথমে অল্প পরিমাণে ডিম মিললেও জোয়ার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ডিমের পরিমাণও বাড়তে থাকে। এবার দীর্ঘ সময় ধরে হালদায় ডিম সংগ্রহ করেছেন সংগ্রহকারীরা।
মোহাম্মদ ইলিয়াস হাটহাজারী উপজেলার রামদাশমুন্সির হাট এলাকার অভিজ্ঞ ডিম সংগ্রহকারী। তিনি বলেন, রাতে বৃষ্টির পর থেকে আমরা হালদাতে অবস্থান নিই। শেষরাতের দিকে একবার নমুনা ডিম পেলেও সকাল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়েছে। সকাল থেকে অল্প পরিমাণে ডিম পেতে থাকি। জোয়ার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ডিমের পরিমাণ বাড়তে থাকে। শেষ পর্যন্ত যে পরিমাণ ডিম পেয়েছি তাতে আমি খুশি। হালদা নদী আমাদের আশা পূর্ণ করেছে।
বিশিষ্ট হালদা বিশেষজ্ঞ ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. মঞ্জুরুল কিবরিয়া বলেন, রেকর্ডসংখ্যক ডিম সংগ্রহে চারটি বিষয় ভূমিকা রেখেছে। প্রথমত, তামাক চাষ বন্ধ করা, হালদা দূষণকারী এশিয়ান পেপার মিল ও হাটহাজারী ১০০ মেগাওয়াট পিকিং পাওয়ার প্ল্যান্ট বন্ধ করা, হাটহাজারী উপজেলা প্রশাসন ও জেলা মৎস্য অফিসের তৎপরতা ও হালদাপাড়ের মানুষদের সচেতন করার কাজে নিয়োজিত আইডিএফের (ইন্টেগ্রেটেড ডেভেলাপমেন্ট সার্ভিস) তৎপরতা। ভারী বর্ষার সঙ্গে তীব্র পাহাড়ি ঢল নামলে ডিম সংগ্রহের পরিমাণ হয়তো সর্বকালের রেকর্ড ভঙ্গ করত।
চট্টগ্রাম জেলা মৎস্য কর্মকর্তা ফারহানা লাভলি বলেন, ৬১৬ জন ডিম সংগ্রহকারী ২৮০ নৌকা নিয়ে প্রায় ২৫ হাজার ৫৩৬ কেজি ডিম সংগ্রহ করেছে যা গত ১৪ বছরের মধ্যে রেকর্ড। এ রকম সুফল পেতে চাইলে হালদাকে তার নিজস্ব রূপে থাকতে দিতে হবে ।
হাটহাজারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুহুল আমিন অবৈধ জাল, মাছ, বালু উত্তোলন বন্ধ করতে গত দেড় বছরে হালদা নদীতে শতাধিক অভিযান পরিচালনা করেছেন। তিনি বলেন, আমরা গত দেড় বছর হালদাকে রক্ষায় সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি। এক লাখ মিটার কারেন্ট জাল, সমপরিমাণ বালু উত্তোলনের পাইপ জব্দ করেছি গত দেড় বছরে। মা মাছ ধরা বন্ধেও তৎপর ছিলাম স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে। সব শেষে তৃপ্তি পেয়েছি যে হালদা তার প্রতিদান দিয়েছে।





সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, নির্বাহী সম্পাদক : শাহনেওয়াজ দুলাল, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে
প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]