ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা বৃহস্পতিবার ২৮ মে ২০২০ ১৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭
ই-পেপার বৃহস্পতিবার ২৮ মে ২০২০

ক্যানসার ইনস্টিটিউট হাসপাতাল
বাসা বরাদ্দে অনিয়মের অভিযোগ, জ্যেষ্ঠদের নাম নেই তালিকায়
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: শনিবার, ২৩ মে, ২০২০, ১২:০০ এএম আপডেট: ২৩.০৫.২০২০ ৩:০১ এএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 115

মহাখালীর ক্যানসার ইনস্টিটিউট হাসপাতালে চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের মাঝে আবাসিক ভবন বরাদ্দে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এই বাসা বরাদ্দ দেওয়ার বিষয়টি খুব গোপনে চূড়ান্ত করা হয়েছে।
আর এ তালিকায় নাম উঠেছে অল্প বয়সি কর্মচারীর। মানা হয়নি কোনো সরকারি নিয়ম বা বিধি। অথচ নিয়ম বলছে, জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে কর্মচারীরা বাসা বরাদ্দ পাবেন। এজন্য আবেদন আহ্বান করে জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে তালিকা ঝোলানো হবে। কিন্তু সেটা না করার পাশাপাশি এই তালিকায় কারা আছেন তাও প্রকাশ করা হচ্ছে না।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, গেল বছরে হাসপাতালটির কর্মচারীদের জন্য বরাদ্দ তিনটি বাসা খালি হয়েছে। বাসাগুলো কর্মচারীদের দেওয়ার জন্য আবেদন আহ্বান করা হয়। এতে প্রায় ২০ থেকে ২৫ বছর থেকে কাজ করেন এমন কর্মচারীও আবেদন করেছেন কিন্তু তারা বাসা পাচ্ছেন না। তাদের নাম নেই চূড়ান্ত তালিকায়। অথচ এই হাসপাতালে ১১ বছর কাজ করেন এমন কর্মচারীদের নাম তালিকায় উঠেছে। আর তারা হলেনÑ ওয়ার্ড বয় সোহাগ মিয়া, দ্বিতীয় শ্রেণির সিনিয়র নার্স মিতালী মিস্ত্রি, হাসপাতালের ইন্টারভিউয়ার শফিকুল ইসলাম, হাসপাতালের আয়া বিউটি বেগম ও হিসাব রক্ষক আবু রায়হান। এ নিয়ে সম্প্রতি কথা বলায় হাসপাতালের এক কর্মচারীকে আবু রায়হানসহ তার লোকজন মারধরও করেছে বলে হাসপাতালের একটি সূত্র জানায়।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এই কর্মচারীদের বাসা পাইয়ে দিতে অন্যতম ভূমিকা রেখেছেন হাসপাতালের উপ-পরিচালক শফিকুল ইসলাম। তিনি এই বাসা বরাদ্দ কমিটির একজন্য সদস্য। আরও অভিযোগ উঠেছে, উপপরিচালক শফিকুল ইসলাম চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী হাসপাতালের আয়া বিউটি বেগমের কাছ থেকে ৫০ হাজার ও তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী শফিকুল ইসলামের কাছ থেকে ৮০ হাজার টাকা নিয়ে তাদের নাম চূড়ান্ত তালিকায় তোলার ব্যবস্থা করেছেন। আর এমন কথা এখন হাসপাতালের সকল কর্মচারী ও কর্মকর্তার মুখে মুখে ঘুরছে।
আরও জানা গেছে, বাসা পেতে যাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে আবু রায়হান একটু দাপুটে। তিনি ২০১০ সালে যোগদান করেন। হাসপাতালটির সাবেক পরিচালক ওবায়দুল্লাহ বাকী নাকি তার চাচা এই পরিচয়ের দাপটে হুলস্থুল কাণ্ড ঘটান মাঝে মাঝে। হাসপাতালের একজন তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী হলেও বাসায় তিনি এসি ব্যবহার করেন। অথচ তার চাকরির বিধি বলছে তিনি ১৬ গ্রেডের কর্মচারী।
হাসপাতালের ইন্টারভিউয়ার কুমিল্লার শফিকুল ইসলাম কাজে যোগদান করেন ২০০৪ সালে। শফিকুল হাসপাতালের উপ-পরিচালকের আঞ্চলিক লোক হওয়ায় তার নাম তালিকায় উঠেছে।
অন্যদিকে ওয়ার্ড বয় সোহাগ মিয়া। যিনি ২০১০ যোগদান করেই এক রুমে বাসা নিয়ে থাকছেন। তিনি কিন্তু চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী হলেও কাজ করেন হাসপাতালের ডিসপাস শাখায়। আর এটি করেন ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে। হাসপাতালের কর্মচারীরা জানান, ওয়ার্ড বয় সোহাগ গত ১০ বছর ধরে এই শাখায় উপরি কামাইয়ের জন্য কাজ করেন। হাসপাতালটিতে ফ্রিতে কেমোথেরাপি ও রেডিওথেরাপি করার জন্য দরিদ্ররা আবেদন করলেও টাকা দেওয়া ব্যক্তির নাম তিনি তালিকা সবার আগে তোলেন। অন্যদিকে জ্যেষ্ঠ সেবিকা মিতালী মিস্ত্রি ২০১০ সালে যোগদান করলেও দ্বিতীয় শ্রেণির কর্মচারী হয়ে তৃতীয় শ্রেণির তিন রুমের একটি বাসা পাচ্ছেন। অথচ তিনি আগে থেকেই দুই রুম নিয়ে থাকছেন।
হাসপাতালটির পরিচালক অধ্যাপক কাজী মোশতাক আহমেদ সময়ের আলোকে বলেন, বাসা বরাদ্দে যে অভিযোগ উঠেছে তা যাচাই চলছে। তবে এখনও বাসা বরাদ্দ চূড়ান্ত করা হয়নি। আমি এ বিষয়ে কোনো রিপোর্ট পাইনি।
হাসপাতালটির চতুর্থ শ্রেণির সভাপতি মো. কামাল মল্লিক সময়ের আলোকে বলেন, বাসা বরাদ্দ কমিটির মিটিং হয়েছে জানি কিন্তু চূড়ান্ত হয়েছে কি না জানি না। পরিচালককে আগেই বলেছি আপনারা জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে বাসা বরাদ্দ দিলে আমাদের কোনো আপত্তি থাকবে না। কিন্তু তারপরও এমনটি হলে সেটা বিধি লঙ্ঘন ও অন্যায় মনে করি। এটা শৃঙ্খলা বিধির বাইরে।





সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]