ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা রোববার ৩১ মে ২০২০ ১৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭
ই-পেপার রোববার ৩১ মে ২০২০

লকডাউনের মধ্যে ঋণ আদায়ে এবি ব্যাংকের স্বেচ্ছাচারিতা
স্বপ্না চক্রবর্তী
প্রকাশ: শনিবার, ২৩ মে, ২০২০, ১২:০০ এএম আপডেট: ২৩.০৫.২০২০ ৩:০২ এএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 9

করোনাভাইরাস প্রতিরোধে দেশ জুড়ে যখন চলছে অঘোষিত লকডাউন তখন ঋণ আদায়ে স্বেচ্ছাচারিতা শুরু করেছে এবি ব্যাংক। খোদ ব্যাংকটির কর্মকর্তাদের অভিযোগ, সরকারি লকডাউনের তোয়াক্কা না করে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ কর্মকর্তাদের চাপ দিচ্ছে সম্ভাব্য জামানতকারীদের বাড়ি বাড়ি গিয়েও ঋণ আদায়ের। শুধু তাই নয়, ডিপোজিট দেওয়ার চাপের পাশাপাশি একইভাবে বাসায় গিয়ে ডিপোজিট সংগ্রহ করার চাপ দেওয়া হচ্ছে তাদের। প্রতিদিন কাস্টমার কল রিপোর্ট দিতে বাধ্য করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করছেন তারা। কর্মকর্তাদের জন্য সরকার ঘোষিত প্রণোদনা দিতেও গড়িমসি করছে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা সময়ের আলোকে বলেন, এক মাস ইন্টেনসিভ দিয়ে বন্ধ করে দিয়েছে ব্যাংক। বাংলাদেশ ব্যাংক সার্কুলারের বাধ্যবাধকতা এড়াতে কর্মীদের স্বেচ্ছায় বোনাস না নেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছে তারা। অপারগতা থাকলে জানাতে বলা হয়েছে মানবসম্পদ বিভাগের প্রধান ডিএমডি পর্যায়ের একজন কর্মকর্তাকে। এবি ব্যাংকের এই কর্মী বলেন, স্বেচ্ছায় দিতে না চাইলেও কে সাহস করে ডিএমডি কে সে কথা বলবে? ভবিষ্যতে হয়রানির শিকার হওয়া এমনকি চাকরি যাওয়াও সম্ভব। এ অবস্থায় ভাতা স্বেচ্ছায় ত্যাগ করা ছাড়া উপায় কি?
ব্যাংকের আরেক কর্মী অভিযোগ করেন, এই কঠিন সময়েও ব্যাংক কর্তৃপক্ষ বাসায় গিয়ে ডিপোজিট সংগ্রহ করার চাপ দিচ্ছে। শুধু তাই নয়, ব্যাংক কর্তৃপক্ষ স্বেচ্ছায় কর্মীদের বেতন কমানোর কার্যক্রমে যোগ দিতে নির্দেশনা দিয়েছে যা এর মাঝেই কার্যকরও হয়ে গেছে। বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা বিভিন্ন হিসাবে বেতন কর্তন করেছে ব্যাংক। বাংলাদেশ ব্যাংক এর ঝামেলা এড়াতে এ ক্ষেত্রেও ‘স্বেচ্ছায়’ শব্দটা ব্যবহার করেছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তিনি বলেন, ব্যাংকের মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা বিভাগ কিছুদিন থেকে কর্মীদের ব্যাপারে নানা তথ্য সংগ্রহ করছে। কর্মীদের মধ্যে চাকরি হারানোর আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। তথ্য সংগ্রহের পেছনে কর্তৃপক্ষের খারাপ উদ্দেশ্য থাকার সন্দেহ করছে সাধারণ কর্মীরা।
ব্যাংকের নতুন ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের কারসাজির কথা তুলে ধরে এই কর্মকর্তা বলেন, ব্যাংকের আর্থিক অবস্থা খারাপ হওয়ার কারণে মালিকপক্ষ ব্যাংকের ব্যবস্থাপনায় ব্যাপক পরিবর্তন নিয়ে আসে। নতুন এমডিসহ পাঁচজন ডিএমডি নিয়ে সাজানো হয় নতুন ব্যবস্থাপনা। পরিবর্তন আসে চেয়ারম্যান পদেও। সাধারণ ব্যাংকারদের মাঝে খারাপ মানুষ হিসাবে পরিচিত রুমি আলীকে চেয়ারম্যান করা হয়। দায়িত্ব নিয়েই নতুন ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ কর্মীদের নানা ধরনের চাপ দিতে শুরু করে। ‘ক্যাম্পেইন’ নামের আড়ালে সাধারণ কর্মীদের নতুন ডিপোজিট আনতে বাধ্য করা হয়। এডি রেশিও কমানোর নামে এসব কার্যক্রমের মাধ্যমে ১৪০০ কোটি টাকা সংগ্রহ করে ব্যাংক। আশ্চর্যের কথা এই যে, এরপরেও এডি রেশিও খুব ভালো অবস্থায় নেই। কারণ সাধারণ কর্মীদের ঘাড়ে বন্দুক রেখে সংগ্রহ করা ১৪০০ কোটি টাকার মধ্যে পুনরায় ১০০০ কোটি টাকার লোন বিতরণ করা হয়। কর্মীদের মাঝে আলোচনা আছে যে পূর্বের মতোই এবারও মালিকপক্ষ লোনের নামে টাকা আত্মসাৎ করছে আর এতে সহায়তা করছে বর্তমান ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ। কে এত টাকার লোন নিল তা অজানা। যদিও সাধারণ ২-৪ লাখ টাকা লোন দিতে অনেক টালবাহানা করছে ব্যাংক।
তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ব্যাংকের ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর আব্দুর রহমান। সময়ের আলোকে তিনি বলেন, সরকার ঘোষিত সব ধরনের প্রণোদনা ব্যাংক কর্মীদের দেওয়া হয়েছে। ছাঁটাই বা লোন আদায়ের চাপ তো দূরের করোনাকালীন এই সময়ে ব্যাংকের কর্মীদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তার ব্যবস্থা নিশ্চিত করেছি আমরা। কেউ যদি এ রকম অভিযোগ করে থাকে তাহলে তা সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
ডিএমডির এই বক্তব্যের সঙ্গে সাধারণ কর্মীদের পাওয়া কোনো সুযোগ-সুবিধার মিল নেই দাবি করে অন্য এক কর্মকর্তা বলেন, ব্যাংকের কর্মীরা চায় কাজ করতে। কিন্তু তাদের যেভাবে কিছু হলেই চাকরি ছাঁটাইয়ের ভয় দেখানো হয় তাতে তারা আগ্রহ হারিয়ে ফেলছেন। গত ২০১৭ সালের পর থেকে এবি ব্যাংক কর্মীদের বোনাস, ইনক্রিমেন্ট ও পদোন্নতি দেওয়া কার্যত বন্ধ রেখেছে। যদিও এই পদোন্নতির জন্যও বিপুল অঙ্ক খরচ করে বই বের করে ঢাকঢোল পিটিয়ে পরীক্ষা নেওয়া হয়। কিন্তু পরীক্ষায় মেধাতালিকায় স্থান পাওয়াদের পদোন্নতি দেওয়া হয়নি। মাঝে হঠাৎ এমডির পছন্দে কয়েকজনকে পদোন্নতি দেওয়া হয়। তিনি বলেন, যে ব্যাংক মুনাফার ঘাটতিতে পড়েছে, সেই ব্যাংক কোথায় বড় খরচ কমাবে, সেখানে পাঁচজনকে ডিএমডি করে রাখা হয়েছে। মানবসম্পদ ও আইটি বিষয়েও ডিএমডি থাকা অবিশ^াস্য। বড় খরচের লাগাম টেনে ধরতে তাদের আগ্রহ নেই, ছোট অফিসারের প্রমোশন আটকানো আর বেতন কমাতেই যত আগ্রহ। ব্যাংকের মুনাফার ঘাটতি হয়েছে মালিকপক্ষ লোনের টাকা পরিশোধ না করায়। আর তাদের ঘনিষ্ঠ গ্রাহকদের অবিবেচকের মতো বড় অঙ্কের লোন দিয়ে তা আদায় না হওয়ায়। অথচ এখন সব দোষ দেওয়া হচ্ছে শাখা পর্যায়ের কর্মকর্তাদের আর ছোট ছোট খেলাপি গ্রাহকদের। তিনি বলেন, আমরা সবাই চাই এবি ব্যাংক আবার আগের মতো ভালো অবস্থানে যাক। ব্যাংকের একটা ঐতিহ্য আছে। বর্তমানের উড়ে এসে জুড়ে বসা ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের জায়গায় ব্যাংকের পুরনো পরীক্ষিত যোগ্য কর্মকর্তাদের পরিচালনার দায়িত্ব দিলে আর চলমান কর্মী অসন্তোষ নিরসনে পদোন্নতি বেতন-ভাতা বাড়িয়ে কর্মীদের আস্থা বাড়াতে পারলে ব্যাংক আবারও ভালো অবস্থায় যাবে।




এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]