ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা শুক্রবার ২ অক্টোবর ২০২০ ১৬ আশ্বিন ১৪২৭
ই-পেপার শুক্রবার ২ অক্টোবর ২০২০

গবেষণা : সিভাসু ও পাট গবেষণা ইনস্টিটিউট
করোনার জিন নকশা উন্মোচন  করল দুই প্রতিষ্ঠান
প্রকাশ: শনিবার, ২৩ মে, ২০২০, ১২:০০ এএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 32

করোনাভাইরাসের পূর্ণাঙ্গ জিন নকশা উন্মোচন করেছে চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও এনিম্যাল সাইন্সেস বিশ^বিদ্যালয়ল (সিভাসু) এবং বাংলাদেশ পাট গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিজেআরআই)। সিভাসুর উপাচার্য অধ্যাপক ড. গৌতম বুদ্ধ দাশের পৃষ্ঠপোষকতায় গবেষকরা দুই সপ্তাহ ধরে নেক্সট জেনারেশন সিকুয়েন্সিং (এনজিএস) পদ্ধতিতে বাংলাদেশ পাট গবেষণা ইনস্টিটিউটের গবেষণাগারে এই তথ্য বিন্যাস করেন। এতে আরও সহযোগিতা করেন বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ট্রপিক্যাল অ্যান্ড ইনফেকশন ডিজিজেস (বিআইটিআইডি)। গবেষক দলের সদস্যরা হলেনÑ সিভাসুর প্যাথলজি অ্যান্ড প্যারাসাইটোলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. জুনায়েদ ছিদ্দিকী, ডা. ইফতেখার আহমেদ রানা, ডা. ত্রিদিব দাস, ডা. সিরাজুল ইসলাম, বিআইটিআইডির অধ্যাপক ডা. এমএ হাসান চৌধুরী, অধ্যাপক ডা. শাকিল আহমেদ এবং বাংলাদেশ পাট গবেষণা ইনস্টিটিউটের ড. মো. শহীদুল ইসলাম, সাব্বির হোসেন প্রমুখ। এর আগে ১২ মে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান চাইল্ড হেলথ রিসার্চ ফাউন্ডেশন দেশে প্রথম করোনাভাইরাসের জিন নকশা উন্মোচন করে। এ কাজে নেতৃত্ব দেন প্রতিষ্ঠানটির অনুজীববিজ্ঞানী সেঁজুতি সাহা।
জিনোম হলো জীবের জিনগত বৈশিষ্ট্যের বিন্যাস বা নকশা। বংশগতির সব বৈশিষ্ট্যই এক বা একাধিক জিনের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত হয়। এসব বৈশিষ্ট্যের তথ্য জানার প্রাথমিক পদক্ষেপ হলো জিন নকশা উন্মোচন। এ থেকে দেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণের কৌশল সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যাবে। বাংলাদেশ পাট গবেষণা ইনস্টিটিউট বাস্তবায়নাধীন পাট বিষয়ক মৌলিক ও ফলিত গবেষণা প্রকল্পের (জুট জিনোম প্রকল্প) অধীন এবারে করোনার জিন নকশা উন্মোচিত হলো।
পাট গবেষণা ইনস্টিটিউটের পক্ষে এই গবেষণায় নেতৃত্ব দেওয়া প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, আমরা পাট নিয়ে কাজ করি। সব জেনোম একই রকমের। তাই ভাইরাসেরও করতে পারি। কিন্তু আমাদের কাছে নমুনা ছিল না। আমরা চট্টগ্রাম থেকে প্রাপ্ত নমুনা প্রক্রিয়াজাত করে সিকোয়েন্স করে বুধবাত রাত ১১টার দিকে জমা দিয়েছি। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে সংক্রমিত নভেল করোনার সাতটি নমুনা ভাইরাসের পূর্ণাঙ্গ জিনোম সিকোয়েন্সিং সম্পন্ন করেছি। উন্মোচিত জিনোম তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, সিকোয়েন্সগুলোর সঙ্গে সৌদি আরব, রাশিয়া, অস্ট্রেলিয়া এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সিকোয়েন্সের মিল রয়েছে।
এ গবেষণায় চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও অ্যানিমেল সায়েন্সেস বিশ^বিদ্যালয়ের পক্ষে নেতৃত্ব দেওয়া বিশ^বিদ্যালয়ের উপাচার্য গৌতম বুদ্ধ দাশ বলেন, সিকোয়েন্সের কাজে আমাদের নমুনা দিয়েছে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের বিশেষায়িত হাসপাতাল বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ট্রপিক্যাল অ্যান্ড ইনফেকশাস ডিজিজ (বিআইটিআইডি)। এখানে চট্টগ্রাম বিভাগের সাতজন করোনা আক্রান্ত ব্যক্তির সাতটি ভাইরাসের নমুনা নিয়ে নকশা উন্মোচন করা হয়। এরপর আমরা তা প্রক্রিয়াজাত করে নমুনাগুলো পাট গবেষণা ইনস্টিটিউটে পাঠাই। এরপর তারা কাজ করেন। অধ্যাপক গৌতম বুদ্ধ দাশ বলেন, সিঙ্গাপুরের কিছু জিনোমের ক্ষেত্রে লক্ষ্য করা গেছে। ফ্লু ভাইরাসের জিন নকশা উন্মোচন করলেই তা উন্মোচনকারীরা জিআইএসএআইডি ডেটাবেইসে আপলোড করে দেয়। এই দুই প্রতিষ্ঠানও তাদের নকশা উন্মোচনের তথ্য এই ডেটাবেইসে জমা দিয়েছে। সেখানে দেওয়ার পাশাপাশি বাংলাদেশে পাট গবেষণা ইনস্টিটিউটের ওয়েবসাইটেও এটা আপলোড করা হয়েছে। তাদের নমুনা সরবরাহ করে। ভাইরাসটি এর রূপ দ্রুত পরিবর্তন করছে। সাতজনের করোনাভাইরাসের নমুনা নিয়ে এক নকশা উন্মোচন করা হয়। গৌতম বুদ্ধ দাশ বলেন, সাতটির মধ্যে দুটি নমুনার বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে সিঙ্গাপুরের কিছু জিনোমের মিল লক্ষ্য করা গেছে। অর্থাৎ বাংলাদেশে যার দেহে পাওয়া গেছে, তিনি সিঙ্গাপুর থেকে এসেছিলেন বা সিঙ্গাপুরের ভাইরাসের সংস্পর্শে ছিলেন। উন্মোচিত জিন নকশার সঙ্গে একটি জিনোমের সাতটি স্থানে, দুটিতে পাঁচটি স্থানে এবং চারটিতে চার স্থানে মিউটেশন বা পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে বলে জানানো হয়। গত বছরের ডিসেম্বরে চীনের হুবেই প্রদেশের উহান শহরে করোনাভাইরাসে মানুষ আক্রান্ত হতে থাকে। একপর্যায়ে সারা বিশে^ ভাইরাসটি ছড়িয়ে পড়ে।
ষ শিক্ষার আলো প্রতিবেদন





সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, নির্বাহী সম্পাদক : শাহনেওয়াজ দুলাল, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে
প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]