ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা  বুধবার ৩ জুন ২০২০ ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭
ই-পেপার  বুধবার ৩ জুন ২০২০

পবিত্র ঈদুল ফিতর
সবাইকে শুভেচ্ছা, ঈদ মোবারক
প্রকাশ: শনিবার, ২৩ মে, ২০২০, ১২:০০ এএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 22

মাসব্যাপী সিয়াম সাধনার শেষে শাওয়ালের নতুন চাঁদ পরম আনন্দ ও খুশির ঈদ নিয়ে আসে। মুসলিম উম্মাহর অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতর। সারা মাস সিয়াম সাধনার পর মুসলিম উম্মাহর জন্য আনন্দের দিন। ঈদ মানেই উৎসব। ঈদ মানেই আনন্দ। প্রতিবছর নির্দিষ্ট রীতিতে এক অপার আনন্দ বিলাতে ফিরে আসে ঈদ। বাংলাদেশসহ এবার পুরো মুসলিম বিশ্বেই ঈদ পালিত হবে ভিন্ন আঙ্গিকে। প্রায় দুই মাসেরও বেশি সময় ধরে বিশ্বের মানুষ ঘরবন্দি। করোনাভাইরাসের সংক্রমণের আতঙ্ক মানুষকে অনেক আগেই ঘরে বন্দি করেছে। ভাইরাসটি যেহেতু মানুষ থেকে মানুষে ছড়ায়, তাই সংক্রমণ ঠেকাতে দেশে দেশে নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তারই অংশ হিসেবে জমায়েত কমাতে সবাইকে বাড়িতে-ঘরে বসে ইবাদত বন্দেগিতে উৎসাহিত করা হয়। মসজিদে না গিয়ে মানুষ ঘরে বসেই প্রার্থনা করেছে। পবিত্র রমজান মাসের তারাবির নামাজ মসজিদে সীমিত পরিসরে পড়েছে। রীতি অনুযায়ী ধনী-গরিব সবাই মিলে এক কাতারে শামিল হয়ে ঈদগাহে ঈদের নামাজ আদায় করা হয়। এবারে খোলা মাঠে ঈদের জামায়াতও হবে না। এক মাস কঠোর সিয়াম সাধনার পর ঈদগাহে কেউ কোলাকুলি করবে না, কারও বাড়িতে যাবে না এমন এক কঠিন অবস্থায় পালিত হবে এবারের ঈদুল ফিতর।
প্রতিবার ঈদে প্রবাসীরা দেশে ফিরতে আকুল হয়, শহরবাসী গ্রামে ফেরার মধ্যে খুঁজে পায় রোমাঞ্চ। পথের কষ্ট ভুলে মানুষ প্রিয়জনের সান্নিধ্য পেতে, একসঙ্গে ঈদের খুশি ভাগাভাগি করতে ছুটে যায়, বন্ধুদের সঙ্গে মেলার জন্য ব্যাকুল হয়। অনেক ভোগান্তি শেষে প্রিয়জনের আলিঙ্গনের সুখ উপভোগ করে। বাবা-মায়ের স্নেহের ছায়ায় ঈদের আনন্দকে উদযাপন করে। কিন্তু এবারে আমাদের সামনে সে পথ খোলা নেই। নাড়ির টান অনুভব করলেও মানুষ ঘরে ফিরতে পারেনি। এই না ফেরা নিজের নিরাপত্তার জন্য যতটা, তারচেয়েও বেশি প্রিয়জনের নিরাপত্তার কথা ভেবে। গণপরিবহন বন্ধ, সাধারণের ঘরে ফেরার পথও বন্ধ। তার মাঝেও ঝুঁকি নিয়ে অনেকেই ঘরে ফিরেছেন। ঈদ শেষে তারা কর্মস্থলেও হয়তো একইভাবে ফিরে আসবেন। শেষ মুহূর্তে ব্যক্তিগত গাড়ি চলাচলের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। যা অনেককে বাড়ি ফেরার সুযোগ করে দিয়েছে। আমরা মনে করি, পথ বন্ধ কর নয়, বরং মানুষকে সচেতন করার মধ্য দিয়েই করোনা মোকাবিলা সম্ভব। জীবন বাঁচানো যেমন প্রয়োজন তেমনি প্রয়োজন জীবন সচল করাও।
তাই আমরা প্রত্যাশা করি, ঘরে ফেরা এবং ঈদ শেষে কর্মস্থলে ফিরতে চাওয়া মানুষ যাতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে নিরাাপদে ফিরতে পারে, দায়িত্বশীলরা সেই পথ খোলা রাখবেন। কাউকেই যেন ঝুঁকি নিতে না হয়। একই সঙ্গে আমাদের সবাইকে আজকের এই কঠিন সময়ে ঈদের শিক্ষা ধরে রাখতে হবে। আমাদের নিরাপদ থাকার জন্য শারীরিক দূরত্ব মেনে চলার যে বিধান, স্বাস্থ্যবিধি মানার যে বিধানÑ পবিত্র রমজানের শিক্ষাকে কাজে লাগিয়ে তা আমাদের আত্মস্থ করতে হবে। পবিত্র রমজান মাস আমাদেরকে শিক্ষা দেয় ত্যাাগ, পবিত্রতা, পরিচ্ছন্নতা ও সংযমের। করোনাকালে আমাদেরকে প্রতিপদে রমজানের এই শিক্ষা ধরে রাখতে হবে। যাতে সংক্রমণ ব্যাধি থেকে আমরা নিজেকে নিরাপদ রাখতে পারি, সুস্থ থাকি।আমাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায়, আমাদের সচেতনতায় আমরা দ্রুত এই কঠিন সময় পেরিয়ে যাব। সুস্থ ও সুন্দর পৃথিবীতে আমরা সব রকম হিংসা-বিদ্বেষ ও হানাহানিমুক্ত হবো, প্রাণভরে শ্বাস নেব, প্রিয়জনের সান্নিধ্য উপভোগ করব, হাসি-খুশি ও আনন্দে ভরে উঠবে প্রতিটি প্রাণ এটাই হোক আমাদের এবারের ঈদের ঐকান্তিক কামনা। সেই সঙ্গে এবারে সবাই ঘরে থেকেই পরিবারের সঙ্গে ঈদুল ফিতরের আনন্দ ভাগাভাগি করে নেব, এটাই প্রত্যাশা। সবাইকে পবিত্র ঈদুল ফিতরের প্রাণঢালা শুভেচ্ছা। ঈদ মোবারক।






সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]