ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা বৃহস্পতিবার ২৬ নভেম্বর ২০২০ ১১ অগ্রহায়ণ ১৪২৭
ই-পেপার বৃহস্পতিবার ২৬ নভেম্বর ২০২০

মহামারি ঠেকাতে আরও  কঠোর হতে হবে
অধ্যাপক ড. মো. আমানুল্লাহ
প্রকাশ: শনিবার, ২৩ মে, ২০২০, ১২:০০ এএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 46

বিশ^ব্যাপী আতঙ্ক ছড়ানো করোনাভাইরাসে বাংলাদেশে সংক্রমণের হার ও মৃত্যুর সংখ্যা প্রতিদিনই বাড়ছে। এপ্রিলের শেষ সপ্তাহ পর্যন্ত যেখানে প্রতিদিন করোনায় শনাক্তের সংখ্যা ৫শ থেকে সাড়ে ৫শ জনে ওঠানামা করছিল। মে মাসের শুরু থেকেই তা লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে। প্রতিদিনই আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যায় রেকর্ড হচ্ছে। দেশের করোনা শনাক্ত রোগীর অর্ধেকেরও বেশি ঢাকার। ঢাকায় প্রতিদিনই আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। সরকারের নানা পদক্ষেপের পরেও করোনাভাইরাসের ঝুঁকির মধ্যেই বহু মানুষ ঈদ উপলক্ষে এক জেলা থেকে আরেক জেলায় ছুটছে। কেনাকাটা করার জন্য শপিং সেন্টারে ভিড় করছে। যাতে করে লকডাউন কার্যকর থাকা নিয়ে যেমন প্রশ্ন উঠেছে, তেমনি সামাজিক দূরত্ব কতটা বজায় আছে সেটা নিয়ে সংশয় রয়েছে। এই অবস্থায় ঈদের পর আরও ভয়ঙ্কর হতে পারে দেশের করোনা পরিস্থিতি এমনটাই বলছে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।
বিদেশ থেকে যারা আসছেন তাদের  অধিকাংশ ছিলেন ঢাকাতে। গ্রাম থেকে চিকিৎসা নিতে অনেকে ঢাকায় চলে আসেন। সিদ্ধান্তহীনতার মধ্যে পোশাক কারখানা খুলে দিয়ে প্রথমে পোশাক শ্রমিকদের ঢাকায় নিয়ে আসা হয়। পরে আবারও তাদের নিজ নিজ এলাকায় ফেরত পাঠানো হয়। আবার যারা গ্রামে থাকতেন তারা সামাজিক নিগ্রহের ভয়ে ঢাকায় চলে আসেন। এসব কারণে ঢাকায় আক্রান্তের সংখ্যা দিন দিন বাড়তে থাকে। ঢাকা করোনাভাইরাসের হটস্পটে পরিণত হয়। এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে করোনার হটস্পট ঢাকাকে প্রয়োজনে রেড জোন ঘোষণা করতে হবে। ঈদে গ্রামের বাড়িতে যাওয়া ঠেকানো যায়নি। কিন্তু করোনাভাইরাসের প্রকোপে মহামারি ঠেকাতে ঢাকায় প্রবেশে আরও কঠোর হতে হবে। ঈদের পর ঢাকামুখি মানুষের জনস্রোত ঠেকাতে হবে। তা না হলে কোনোভাবেই ঢাকাতে তীব্র সংক্রমণ ঠেকানো সম্ভব হবে না। ঈদের পর ঢাকায় প্রবেশে কঠোর হতে না পারলে করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলা করা আমাদের জন্য কঠিন হবে।
প্রথম দিকে ঢাকার আক্রান্ত এলাকা ক্লাস্টার করে সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর) চিহ্নিত করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী লকডাউন করে দিত। সেটা এখন আর হচ্ছে না। এখন স্বাস্থ্য অধিদফতর নমুনা সংগ্রহের দায়িত্ব নিয়েছে। এখন ঢাকা শহরের বিভিন্ন মহল্লার ম্যাপ বা চিত্র করে ঘনবসতি এলাকা চিহ্নিত করা এবং সেই এলাকার মধ্যে ছোট ছোট ভাগ করতে হবে। সেখানকার মানুষকে সম্পৃক্ত করতে হবে। টোলারবাগের মডেল ঢাকা শহরের করোনা মোকাবিলার কাজে নামতে হবে। তাহলে ঢাকা শহরের করোনা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।
দেশের বর্তমান করোনা পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১০ মে থেকে ২০ মে পর্যন্ত যে হারে সংক্রমণ বৃদ্ধি পেয়েছে, ২০ মে থেকে ৩১ পর্যন্ত একই হারে তা বৃদ্ধি পাবে। যদি একই হারে ২১ থেকে ৩১ মে পর্যন্ত সংক্রমণ বৃদ্ধি পায় তাহলে মে মাস শেষে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়াবে ৩৮ থেকে ৪০ হাজারে। মৃত্যু হতে পারে ৫শ’র বেশি মানুষের। এর আগে দেশের জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা পূর্বাভাস দিয়েছিলেন, মে মাসের শেষ নাগাদ দেশে শনাক্তের সংখ্যা আনুমানিক ৪৮ থেকে ৫০ হাজারে দাঁড়াবে। সব মিলিয়ে মৃত্যু হতে পারে ৮০০ থেকে ১০০০ জনের। বিশেষজ্ঞরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনে কারফিউ দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। তবে কারফিউ দিয়ে রাস্তায় বের হতে না দেওয়ার চেয়ে ঢাকায় প্রবেশে কঠোর হলে আরও ভালো ফল পাওয়া যেতে পারে। সরকারের নিষেধ উপেক্ষা করে যারা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ঢাকা ছেড়েছেন তাদের আগামী এক মাসে ঢাকায় ঢোকার প্রয়োজনীয়তা নেই বলেই ধরে নিতে হবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ রয়েছে। তাই বাচ্চাদের লেখাপড়ার অজুহাতও দেখাতে পারবেন না কেউ। ঢাকায় প্রবেশে কঠোর হলে সরকারের জন্য আরেকটি প্লাস পয়েন্ট হতে পারে যারা ঢাকা ছেড়েছেন তাদের কৃষিকাজে সম্পৃক্ত করা।
ইতালিসহ ইউরোপের বেশিরভাগ উন্নত দেশ যেমনটি করেছে। এক্ষেত্রে তারা অবৈধ অভিবাসীদেরও বৈধতা দিয়েছে। বাংলাদেশে করোনার মহামারি এবং আম্ফানের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগে খাদ্য ঘাটতি রোধে কৃষির কোনও বিকল্প আর নেই। কৃষিকাজের জন্য লোকবলের প্রচুর ঘাটতি রয়েছে। পর্যাপ্ত লোক পাওয়া না যাওয়ায় ধানের বাম্পার ফলন হওয়া পরেও ঘরে ফসল তোলা সম্ভব হয় না। ঢাকামুখী মানুষের স্রোত ঠেকানো গেলে একসঙ্গে অনেকগুলো সমস্যার সমাধান সরকারের পক্ষে করা সম্ভব। কৃষি কাজে সম্পৃক্ততার মাধ্যমে কর্মহীন মানুষকে কর্মসংস্থানের জোগান দেওয়া যাবে। অন্যদিকে ঢাকায় চাপ কমবে।
করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলায় আগামী দিনগুলোতে করণীয় রোডম্যাপ তৈরিতে অবশ্যই ভিয়েতনাম, লাওস, কম্বোডিয়ার অনুসৃত পদক্ষেপগুলো বিবেচনায় আনতে হবে। উল্লেখ্য, থাইল্যান্ডও খুব সংক্ষিপ্ত সময়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে এসেছে। জীবন বাঁচলে মানবিকতা, জীবন বাঁচলে জীবিকা কথাগুলো মনে রেখে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যদি বাস্তবভিত্তিক কঠিন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন তাহলে আমাদের জনসাধারণ সেটা মেনে বলে আমি বিশ^াস করি। এই মুহূর্তে প্রত্যেকটি রাজনৈতিক দলের উচিত দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দিয়ে জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করার মাধ্যমে সরকারকে সর্বাত্মকভাবে সহযোগিতা করা তাহলেই দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে, ইনশাল্লাহ। আর বাস্তবধর্মী এই রোডম্যাপ দেশের আতঙ্কগ্রস্থ মানুষকে নিরাপদ ও সুস্থ জীবন আবার ফিরিয়ে দিবে। মানুষ আশায় বুক বাঁধে। সব প্রতিকূলতার মধ্যে লড়াই করে ঠিকে থাকার প্রবল শক্তি রয়েছে সৃষ্টির সেরা জীব মানুষের। করোনাভাইরাসের সঙ্গে এই যুদ্ধেও মানুষ জিতবে। জয়ী হবে মানুষ, জয়ী হবে মানবিকতা, ইনশাল্লাহ।

ষ সাবেক উপাচার্য (ইনচার্জ), আহছানউল্লাহ
       বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ^বিদ্যালয়




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, নির্বাহী সম্পাদক : শাহনেওয়াজ দুলাল, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে
প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]