ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা শুক্রবার ৫ জুন ২০২০ ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭
ই-পেপার শুক্রবার ৫ জুন ২০২০

রোজার কাজা কাফফারা ও ফিদিয়া
আলী হাসান তৈয়ব
প্রকাশ: শনিবার, ২৩ মে, ২০২০, ১২:০০ এএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 43

মহান আল্লাহ বহু কল্যাণের আঁতুড় হিসেবে বান্দাদের জন্য রমজান মাসের রোজা ফরজ করেছেন। বান্দা তা সাগ্রহে পালন করেন। যেকোনো কারণে সময়মতো রোজা রাখতে না পারলে তা কাজা আদায় করতে হয় এবং রোজা রেখে কোনো ওজর বা অসুবিধার কারণে ভেঙে ফেললে তাও পরে কাজা করতে হয়। কাজা হলো একটি রোজার পরিবর্তে একটি রোজা। আর কখনও যদি রোজা রেখে বিনা ওজরে তা ভঙ্গ করা হয়, আল্লাহ তায়ালা অত্যন্ত নাখোশ হন। এর জন্য কাজা ও কাফফারা আদায় করতে হয়।
মানুষমাত্রই ভুল করতে পারে বা সমস্যার সম্মুখীন হতে পারে। রমজানে কোনো কারণে কেউ রোজা রাখতে না পারলে বা রোজা পালন করতে গিয়ে কোনো ত্রুটি হলে অথবা রোজা রাখার পর তা ভেঙে গেলে তার প্রতিকারস্বরূপ ইসলাম যে বিধান দিয়েছে তাকে রোজার কাজা-কাফফারা-ফিদিয়া বলা হয়। কাজা মানে হলো বকেয়া। কাফফারা মানে জরিমানা। রমজানের রোজা অতি গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় তা ভঙ্গ করলে কখনও শুধু কাজা বা শুধু কাফফারা এবং কখনও কখনও কাজা ও কাফফারা উভয়টি আদায় করতে হয়।
কাজা হলো একটি রোজার পরিবর্তে একটি রোজা রাখা। আর কাফফারা হলো একটির পরিবর্তে ৬০টি রোজা রাখা। এই ৬০টি বিরামহীনভাবে রাখতে হবে। তবে রোজার কাফফারার আরেকটি বিকল্প আছে। তা হলোÑ ৬০টি রোজার পরিবর্তে ৬০ জন গরিব মানুষকে দুই বেলা খাওয়ানো। এ ছাড়া দাস মুক্তিও একটি মাধ্যম। ফকিহগণ বলেন, বর্তমানে যেহেতু দাসদাসী বা গোলামের প্রচলন নেই, সুতরাং এই মাধ্যমটির সুযোগ আর বাকি নেই।
বার্ধক্য বা জটিল কোনো রোগের কারণে যার রোজা রাখার একেবারেই সামর্থ্য নেই এবং পরে কাজা করার সামর্থ্য ফিরে পাওয়ার সম্ভাবনাও নেইÑ এমন ব্যক্তি রোজার পরিবর্তে ফিদিয়া প্রদান করবে। ফিদিয়া হলোÑ প্রত্যেক রোজার পরিবর্তে একজন মিসকিন ব্যক্তিকে দুই বেলা তৃপ্তিসহ খাবার খাওয়ানো বা এর মূল্য দেওয়া। একটি রোজার পরিবর্তে একটি ফিদিয়া ওয়াজিব হয়। (আদদুররুল মুখতার : ২/৪২৬) বুখারি ও মুসলিমে সহিহ রিওয়ায়াতে বর্ণিত হয়েছে, ‘একদা রমজানে এক লোক রাসুল (সা.)-এর কাছে এসে বললেন, ইয়া রাসুলুল্লাহ! আমি নিজেকে ধ্বংস করে ফেলেছি, আমি রোজা পালন অবস্থায় স্ত্রী সহবাস করে ফেলেছি। রাসুল (সা.) তাকে বললেন, তুমি একজন দাসকে মুক্ত করে দাও। সে বলল, এমন সক্ষমতা আমার নেই। রাসুল (সা.) বললেন, তবে এর বদলে দুই মাস (বা ৬০ দিন) রোজা রাখ। লোকটি বলল, এমন শারীরিক সক্ষমতা আমার নেই। তখন তিনি বললেন, তবে তুমি ৬০ জন মিসকিনকে খাওয়াবে। লোকটি বলল, হে আল্লাহর রাসুল! এ রকম আর্থিক সক্ষমতাও তো আমার নেই। তখন রাসুল (সা.) তাকে অপেক্ষা করতে বললেন।
এর কিছুক্ষণ পর কোনো একজন সাহাবি রাসুলকে (সা.) এক ঝুড়ি খেজুর হাদিয়া দিলেন। তখন রাসুল (সা.) ওই লোকটিকে ডেকে বললেন, এগুলো নিয়ে গিয়ে গরিবদের মধ্যে সদকা করে দাও। লোকটি বলল, ইয়া রাসুল (সা.) এই এলাকায় আমার মতো গরিব আর কে আছে? এ কথা শুনে রাসুল (সা.) স্বাভাবিকের চেয়ে একটু বেশি হাসলেন। রাসুল (সা.) বললেন, আচ্ছা, তবে খেজুরগুলো তুমিই তোমার পরিবার নিয়ে খাও।’ (বুখারি : ১৩৩৭; মুসলিম : ১১১১)
এখন জানার বিষয় হলোÑ কী কী কারণে বা কী কী ধরনের ত্রুটি হলে কাজা আদায় করতে হয়? তা হলোÑ ১. স্ত্রীকে চুম্বন বা স্পর্শ করার কারণে যদি বীর্যপাত হয়; ২. ইচ্ছাকৃত মুখ ভরে বমি করলে; ৩. পাথরের কণা, লোহার টুকরা, ফলের বিচি গিলে ফেললে; ৪. ডুশ গ্রহণ করলে; ৫. নাকে বা কানে ওষুধ দিলে (যদি তা পেটে পৌঁছে); ৬. মাথার ক্ষত স্থানে ওষুধ দেওয়ার পর তা যদি মস্তিষ্কে বা পেটে পৌঁছে; ৭. যোনিপথ ব্যতীত অন্য কোনোভাবে সহবাস করার ফলে বীর্য নির্গত হলে এবং ৮. স্ত্রী লোকের যোনিপথে ওষুধ দিলে।
উল্লেখ্য, রমজান মাস ছাড়া অন্য সময়ে রোজা ভঙ্গের কোনো কাফফারা নেই, শুধু কাজা আছে। আর নিম্নোক্ত ক্ষেত্রে রোজা ভাঙার অনুমতি আছে।
এসব রোজা পরে কাজা করতে হবে। ১. মুসাফির অবস্থায়; ২. রোগব্যাধি বৃদ্ধির বেশি আশঙ্কা থাকলে; ৩. মাতৃগর্ভে সন্তানের ক্ষতির আশঙ্কা থাকলে; ৪. এমন ক্ষুধা বা তৃষ্ণা হয়Ñ যাতে মৃত্যু আশঙ্কা থাকতে পারে; ৫. শক্তিহীন বৃদ্ধ হলে; ৬. কোনো রোজাদারকে সাপে দংশন করলে।
উল্লেখিত কারণে রমজান মাসে রোজা ভঙ্গ করা যাবে, কিন্তু পরে তা কাজা করতে হবে। মহিলাদের হায়েজ-নেফাসকালেও রোজা নেই। এসবও পরে শুধু কাজা করতে হয়।
এ ছাড়া যেসব কারণে কাজা ও কাফফারা উভয়ই আদায় করতে হয় (অর্থাৎ একটি রোজার পরিবর্তে ৬০টি রোজা রাখতে হবে, তা হলোÑ ১. রোজা অবস্থায় ইচ্ছাকৃত পানাহার করলে; ২. রোজা অবস্থায় ইচ্ছাকৃতভাবে সহবাস করলে। আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘তোমাদের মধ্যে যে অসুস্থ থাকবে অথবা সফরে থাকবে, তার জন্য অন্য সময়ে সে রোজা পূরণ করে নিতে হবে।
আর এটা যাদের জন্য অত্যন্ত কষ্টদায়ক, তারা এর পরিবর্তে একজন মিসকিনকে খাবার খাওয়াবে। যে ব্যক্তি সন্তুষ্টির সঙ্গে সৎকর্ম করবে, তা তার জন্য কল্যাণকর হয়।’ (সুরা বাকারা : ১৮৪)
লেখক : আলেম সাংবাদিক





সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]