ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা বৃহস্পতিবার ২৮ মে ২০২০ ১৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭
ই-পেপার বৃহস্পতিবার ২৮ মে ২০২০

স্থগিত হচ্ছে টি-টোয়েন্টি বিশ^কাপ!
ক্রীড়া ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ২৩ মে, ২০২০, ১২:০০ এএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 9

বৈশি^ক মহামারি করোনাভাইরাসের কারণে দুই মাসেরও বেশি সময় ধরে স্থগিত সব ধরনের ক্রিকেট। এবার স্থগিত হতে যাচ্ছে ২০২০ টি-টোয়েন্টি বিশ^কাপও। অক্টোবর-নভেম্বরে অস্ট্রেলিয়ায় হওয়ার সময়সূচি ছিল এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ^কাপ। তবে করোনার সঙ্কট চিন্তা করে তা স্থগিত রাখার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। এ ব্যাপারে আগামী সপ্তাহে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) এবং আয়োজক ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া (সিএ) এই মুহূর্তে একটাই প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে। আর তা হলো, কবে হবে এই টি-টোয়েন্টি বিশ^কাপ? এমনটাই জানিয়েছে টাইম অব ইন্ডিয়া।
শুক্রবার ভারতীয় গণমাধ্যমটির এমন শঙ্কা প্রকাশের দিন বিশ^কাপ নিয়ে হতাশার কথা শুনিয়েছেন গ্রায়েম স্মিথও। দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেট বোর্ডের পরিচালক ও সাবেক অধিনায়কের ধারণা, আগামী বছরে চলে যেতে পারে সংক্ষিপ্ত ফরম্যাটের এই বিশ্বকাপ। জুলাইয়ে উইন্ডিজ সফর করার কথা প্রোটিয়াদের। সেখানে খেলার কথা ৫ টি-টোয়েন্টি। আগস্টে ভারতের মাটিতে তিনটি টি-টোয়েন্টি খেলার কথা রয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার। কিন্তু করোনা পরিস্থিতির জন্য অনিশ্চিত অবস্থায় পড়ে গেছে সেসব। এই অবস্থায় পরিপূর্ণ প্রস্তুতি একেবারেই সম্ভব নয়।
স্মিথের তাই আশঙ্কা, ‘টি-টোয়েন্টি বিশ^কাপের আগে আমরা আশা করেছিলাম ১৪টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলতে পারব। কিন্তু এই পরিস্থিতিতে সেটা আর সম্ভব হচ্ছে না। তাই টি-টোয়েন্টি বিশ^কাপ পরের বছরের শুরুর দিকে চলে যাওয়ার একটা ভালো সম্ভাবনা রয়েছে। তাই আমাদের পরিস্থিতিটা ধারাবাহিকভাবে মূল্যায়ন করতে হবে। অনেক কিছুই আলোচনা হচ্ছে, কিন্তু মূল লক্ষ্যই হচ্ছে প্রস্তুত থাকা। আমরা সফরগুলোর জন্য বিভিন্ন কৌশল অনুসরণের দিকে মনোযোগ দিচ্ছি। বিশেষ করে ভবিষ্যৎ সফর সূচি কেমন দাঁড়াবে, পরবর্তী সময়ে আমাদের মূল লক্ষ্য কী হবে, এসব বিষয় ভেবে দেখা হচ্ছে।’
এদিকে লম্বা সময় ধরেই শোনা যাচ্ছে এমন গুঞ্জনÑ আইপিএল আয়োজন করতেই নাকি টি-টোয়েন্টি বিশ^কাপ পিছিয়ে দিতে চাপ দিচ্ছে ভারত। তবে সেটিকে গুজব বলে উড়িয়ে দিয়েছে ভারতের ক্রিকেট বোর্ড অব কন্ট্রোল (বিসিসিআই)। বোর্ডের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা রয়টার্সকে বলেছেন, বিশ^কাপ পিছিয়ে দেওয়ার জন্য তারা কোনোরকম চাপ প্রয়োগ করবে না। তবে যদি আসর পিছিয়ে যায়, তাহলে অক্টোবর-নভেম্বরে আইপিএল আয়োজনের ভাবনা বিসিসিআইয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। এবারের আইপিএল থেকে বোর্ডের প্রায় ৫৩ কোটি মার্কিন ডলার আয় হওয়ার সম্ভাবনা আছে।
সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়ার কয়েকটি গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে ইঙ্গিত মিলেছে, বিসিসিআই হয়তো আইপিএল আয়োজনের জন্য টি-টোয়েন্টি বিশ^কাপ পিছিয়ে দেওয়ার চেষ্টার করতে পারে। আইসিসিতে ও বিশ^ ক্রিকেটে ভারতীয় বোর্ডের যা প্রভাব, তারা জোর করে কিছু চাইলে সেটির বাস্তবায়ন খুবই সম্ভব। তবে বিসিসিআইয়ের কোষাধ্যক্ষ অরুণ ধামাল রয়টার্সের সঙ্গে ফোনালাপে জোর দিয়ে জানান, বিশ^কাপ পিছিয়ে দেওয়ার চেষ্টা তারা করবে না, ‘ভারত টি-টোয়েন্টি বিশ^কাপ পিছিয়ে দেওয়ার চেষ্টা কেন করবে? আমরা মিটিংয়ে এ বিষয়ে আলোচনা করব এবং যেটি ঠিক হয়, আইসিসি সিদ্ধান্ত নেবে।’
এই কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘বর্তমান পরিস্থিতিতে অস্ট্রেলিয়া সরকার যদি টুর্নামেন্টটি আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেয় এবং সবকিছু সামলানোর ব্যাপারে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া যদি আত্মবিশ^াসী হয়, তাহলে এটা তাদের সিদ্ধান্ত। বিসিসিআই কোনো সুপারিশ করবে না।’ এরই মধ্যে টাইমস অব ইন্ডিয়ার খবর, টি-টোয়েন্টি বিশ^কাপ অবশ্য এমনিতেই পিছিয়ে যেতে পারে। অস্ট্রেলিয়ায় যদিও করোনাভাইরাস পরিস্থিতি এখন যথেষ্ট নিয়ন্ত্রিত। ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা ও সামাজিক দূরত্ব মেনে চলার কড়াকড়ি শিথিল করা হচ্ছে। তার পরও ১৬ দলের বিশ্বকাপের মতো বিশাল কর্মযজ্ঞ ভিন্ন ব্যাপার। তবে সবটাই নিশ্চিত হওয়া যাবে এই মাসের শেষদিকে আইসিসির সভা শেষে।
টুর্নামেন্ট সূচি অনুযায়ী মাঠে গড়ালেও হয়তো দর্শকশূন্য মাঠে খেলা হতে হবে। বিশ^কাপের মতো জনপ্রিয় ও এত বড়মাপের কোনো প্রতিযোগিতা শূন্য গ্যালারিতে আয়োজন করা ঠিক হবে কি না, সেটি অস্ট্রেলিয়ান সরকারের হাতে ছেড়ে দিলেন ধামাল, ‘সবকিছুই নির্ভর করছে অস্ট্রেলিয়ার সরকারের সিদ্ধান্তের ওপরÑ এতগুলো দলকে তাদের দেশে এসে খেলার অনুমতি দেবে কি না, সেটাও তাদের ব্যাপার। দর্শকশূন্য মাঠে খেলা কি যৌক্তিক হবে? এভাবে এমন একটি টুর্নামেন্ট ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার আয়োজন করা কি উচিত হবে? সিদ্ধান্তটা তাদের।’
ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার প্রধান নির্বাহী কেভিন রবার্টস অবশ্য শুক্রবার জানান, নির্ধারিত সময়ে বিশ^কাপ আয়োজনের সম্ভাবনা এখনই উড়িয়ে দিচ্ছে না তারা, ‘এখনই এ বিষয়ে আমাদের পরিষ্কার কোনো ধারণা নেই। তবে পরিস্থিতির যেভাবে উন্নতি হচ্ছে, তাতে কে জানে, সম্ভব হতেও পারে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত অবশ্য আইসিসির।’ বিশ^ ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রণ সংস্থা আইসিসি অবশ্য আগেই জানিয়েছিল, টি-টোয়েন্টি বিশ^কাপের ভাগ্য নিয়ে আগস্টের আগে কোনো সিদ্ধান্তে আসতে চায় না তারা। তবে টুর্নামেন্টটি স্থগিত ধরে নিয়ে কয়েকটি দেশের ক্রিকেট বোর্ড, ওই সময় নিজেদের মতো করে ব্যবহারের পরিকল্পনা করছে।
বিশ^কাপ না হলেও এই অস্ট্রেলিয়ান গ্রীষ্মে দেশটিতে ক্রিকেট হওয়ার সম্ভাবনা আছে প্রবলভাবেই। আগামী ডিসেম্বর-জানুয়ারিতে ভারতের অস্ট্রেলিয়ায় সফরে যাওয়ার বিষয়টি এখন অনেকটাই নিশ্চিত বলে জানিয়েছেন ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার প্রধান নির্বাহী কেভিন রবার্টস। তবে কোনো দ্বিপাক্ষিক সিরিজ আর ১৬ দলের টুর্নামেন্ট আয়োজন করার মধ্যে আকাশ-পাতাল পার্থক্য। কার্যত এ কারণেই এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ^কাপ পিছিয়ে যাওয়ার শঙ্কা জেগেছে।







সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]