ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা শুক্রবার ৩ জুলাই ২০২০ ১৯ আষাঢ় ১৪২৭
ই-পেপার শুক্রবার ৩ জুলাই ২০২০

ঈদের ছুটিতে ঘরে থাকার নির্দেশ মানছেন না কেউ
স্বপ্না চক্রবর্তী
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৮ মে, ২০২০, ৯:২৯ পিএম আপডেট: ২৮.০৫.২০২০ ৯:৩৩ পিএম | অনলাইন সংস্করণ  Count : 35

# চিড়িয়াখানা, শিশুপার্ক বন্ধ তাই হাতিরঝিলে দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড়
# নেই সুরক্ষা সামগ্রীর ব্যবহারও

এবারের ঈদটা অন্যরকম। অন্যরকম ভাবেই বিশ্বের আকাশে উঠেছে ঈদ-উল-ফিতরের চাঁদ। করোনা সংক্রমণ থেকে বাঁচতে এবার যেমন নেই শপিং মলগুলোতে চাঁদ রাতের কেনাকাটার উপচে পড়া ভিড় তেমনি নেই দর্শনীয় স্থানগুলোতে মানুষের আনাগোনা। অঘোষিত লকডাউনে বন্ধ সব।

তাই বলে কি ঈদের আনন্দ মাঠে মারা যাবে? প্রিয়জনকে নিয়ে তাই আনন্দ উদযাপনে ঈদের দিন থেকেই তাই বেরিয়েছেন ঘরের বাইরে। শিশুপার্ক বা চিড়িয়াখানা বন্ধ থাকায় ভিড় করেছেন নগরীর অন্যতম দর্শনীয় স্থান হাতিরঝিলে।

বৃহস্পতিবার ঈদের তৃতীয় দিন হাতিরঝিলের মধুবাগ অংশে স্ত্রীকে নিয়ে ঘুরতে আসেন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত নীরব জাহাঙ্গীর আলম।

তিনি বলেন, করোনার আতংকে টানা দুই মাস গৃহবন্দী জীবনযাপন করেছি সবাই। ঈদের দিনও ঘরেই কেটেছে। তাই আজ একটু মুক্ত বাতাসে শ্বাস নিতে এসেছি এখানে। কিন্তু এখানে এত মানুষের সমাগম হবে বুঝতেই পারি নি।

একই কথা বলেন ব্যাংক কর্মী জাকির মোহাম্মদও। তিনি বলেন, মাস্ক, হ্যান্ডগ্লাভসসহ সব ধরনের সুরক্ষা নিশ্চিত করেই বাসা থেকে বের হয়েছি। কিন্তু এখানে যারা ঘুরতে এসেছেন তাদের কোনো সুরক্ষা সামগ্রীর বালাই নেই।

এর আগে ঈদের দিন গত সোমবারও ঈদের দিন সকাল থেকে শত শত দর্শনার্থী ভিড় জমায় হাতিরঝিলের বিভিন্ন স্থানে। বেলা ১১টার পর ভিড় ক্রমে বাড়ে। দুপুরে রোদের প্রখরতায় অবশ্য ফাঁকা হয়ে যায়। বিকাল চারটার পর আবার ভিড় বাড়তে শুরু করে। করোনার মধ্যে এভাবে শত শত মানুষের ভিড় দেখে বিস্মিত অনেকেই।

তবে সন্ধ্যার পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতায় কেউই ওই স্থানে বেশিক্ষণ থাকতে পারেন নি। জানতে চাইলে হাতিরঝিল থানার ডিউটি অফিসার বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থলে ডিউটি করছে। সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখেই মানুষকে চলাফেরা করতে বলা হয়েছে। ভিড় ঠেকাতে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।

ঈদের পরদিন মঙ্গলবার এবং বুধবারের অবস্থাও একই ছিলো। বিকাল চারটার পর থেকে প্রাইভেট কার, সিএনজি অটোরিকশা ও রিকশায় করে শত শত মানুষ আসতে থাকে হাতিরঝিলে। এর মধ্যে তরুণ-তরুণীর সংখ্যাই বেশি। তারা হাতিরঝিলের বিভিন্ন স্পটে আড্ডা দেন। অনেকে আড্ডা দিচ্ছেন পরিবারের সদস্যদের নিয়েও। কেউ এসেছেন বন্ধু বান্ধবের সাথে।
 
সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে কয়েকজন নিজেদের ভুল স্বীকার করে নেন। তারা বলেন, ঈদের এ কদিন রাজধানীই ফাঁকা রয়েছে। তাই তারা হাতিরঝিলে একটু ঘুরতে এসেছেন। কিন্তু এখানে এতো মানুষ আসবে তা তাদের জানা ছিল না।

হাতিঝিলে কেনো এসেছেন জানতে চাইলে এক ব্যক্তি বলেন, কেনো আসছি জানি না। তবে আসার জন্য দুঃখিত।

আরেকজন বলেন, একটু দেখতে আসলাম রাস্তা-ঘাটের পরিবেশ কেমন। তবে আসাটা ঠিক হয়নি।

প্রতিবছর ঈদের দিন রাজধানীর বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে থাকতো লোকে লোকারণ্য৷ কিন্তু এবছর মহামারি করোনাভাইরাসের কারণে সেই চিত্র চোখে পড়েনি। নেই ঈদের সেই আমেজ। রাজধানীর অন্যান্য বিনোদন কেন্দ্রগুলো বন্ধ। সে কারণে বিনোদন কেন্দ্রগুলো থেকে ফিরে যাচ্ছে মানুষ।

মোহাম্মদপুরের বাসিন্দা শংকর রায় বলেন, অন্য বছর ঈদের সময় গ্রামে যাই সপরিবারে। কিন্তু এবছর করোনার কারণে ঢাকায়ই ছিলদম। বিকাল ৪টার দিকে রাজধানীর শ্যামলী শিশু মেলা বা ডিএনসিসি ওয়ান্ডারল্যান্ডে আসছিলাম বাচ্চাকে নিয়ে কিন্তু এটি বন্ধ থাকায় আবার ফিরে যাচ্ছি।

তবে শিশু মেলার গেটের সামনে কিছুক্ষণ পর পর ছিল দর্শনার্থীদের হালকা ভিড়। পরে অবশ্য হতাশ হয়ে ফেরত যেতে হচ্ছে। করোনার জন্য বন্ধ দেখে আবার চলে যাচ্ছে। আবার কিছু শিশুদের দেখা গেছে গেটের ফাঁকা দিয়ে শিশু মেলার ভেতরে দেখার চেষ্টা করছে।

রাজধানীর চন্দ্রিমা উদ্যান, শিশু মেলা, চিড়িয়াখানা, ধানমন্ডির রবীন্দ্রসরোবর ঘুরে একই রকম চিত্র দেখা গেছে।

যদিও সরকারি সিদ্ধান্ত মোতাবেক ১ জুন থেকে সব ধরনের ছুটি শেষ হচ্ছে তবুও এসময়টাতে করোনার সংক্রমণ বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে মন্তব্য করেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. এবি এম আব্দুল্লাহ।

তিনি বলেন, যারা বাইরে যাবেন অবশ্যই মাস্ক, হ্যান্ডগ্লাভসসহ যতটা সম্ভব সুরক্ষা সামগ্রীর ব্যবহার করতে হবে। বার বার সাবান দিয়ে হাত ধোয়ার পাশাপাশি পুষ্টিকর খাবার খেতে হবে।




এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]