ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা শুক্রবার ১০ জুলাই ২০২০ ২৫ আষাঢ় ১৪২৭
ই-পেপার শুক্রবার ১০ জুলাই ২০২০

ঈদের ছুটিতে ঘরে থাকার নির্দেশ মানছে না কেউ
স্বপ্না চক্রবর্তী
প্রকাশ: শুক্রবার, ২৯ মে, ২০২০, ১২:০০ এএম আপডেট: ২৯.০৫.২০২০ ১:৫১ এএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 18

এবারের ঈদটা অন্যরকম। অন্যরকমভাবেই বিশ্বের আকাশে উঠেছে ঈদুল ফিতরের চাঁদ। করোনা সংক্রমণ থেকে বাঁচতে এবার যেমন নেই শপিংমলগুলোতে চাঁদরাতের কেনাকাটার উপচে পড়া ভিড়, তেমনি নেই দর্শনীয় স্থানগুলোতে মানুষের আনাগোনা। অঘোষিত লকডাউনে বন্ধ সব। তাই বলে কি ঈদের আনন্দ মাঠে মারা যাবে? প্রিয়জনকে নিয়ে আনন্দ উদযাপনে ঈদের দিন থেকেই তাই বেরিয়েছেন ঘরের বাইরে। শিশুপার্ক বা চিড়িয়াখানা বন্ধ থাকায় ভিড় করেছেন নগরীর অন্যতম দর্শনীয় স্থান হাতিরঝিলে।
বৃহস্পতিবার ঈদের তৃতীয় দিন হাতিরঝিলের মধুবাগ অংশে স্ত্রীকে নিয়ে ঘুরতে আসেন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত নীরব জাহাঙ্গীর আলম। তিনি বলেন, করোনার আতঙ্কে টানা দুই মাস গৃহবন্দি জীবনযাপন করেছি সবাই। ঈদের দিনও ঘরেই কেটেছে। তাই আজ একটু মুক্ত বাতাসে শ্বাস নিতে এসেছি এখানে। কিন্তু এখানে এত মানুষের সমাগম হবে বুঝতেই পারিনি। একই কথা বলেন ব্যাংক কর্মী জাকির মোহাম্মদও। তিনি বলেন, মাস্ক, হ্যান্ডগ্লাভসসহ সব ধরনের সুরক্ষা নিশ্চিত করেই বাসা থেকে বের হয়েছি। কিন্তু এখানে যারা ঘুরতে এসেছেন তাদের কোনো সুরক্ষা সামগ্রীর বালাই নেই।
এর আগে ঈদের দিন গত সোমবারও সকাল থেকে শত শত দর্শনার্থী ভিড় জমায় হাতিরঝিলের বিভিন্ন স্থানে। বেলা ১১টার পর ভিড় ক্রমে বাড়ে। দুপুরে রোদের প্রখরতায় অবশ্য ফাঁকা হয়ে যায়। বিকাল চারটার পর আবার ভিড় বাড়তে শুরু করে। করোনার মধ্যে এভাবে শত শত মানুষের ভিড় দেখে বিস্মিত অনেকেই।
তবে সন্ধ্যার পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতায় কেউই ওই স্থানে বেশিক্ষণ থাকতে পারেনি। জানতে চাইলে হাতিরঝিল থানার ডিউটি অফিসার বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থলে ডিউটি করছে। সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখেই মানুষকে চলাফেরা করতে বলা হয়েছে। ভিড় ঠেকাতে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।
ঈদের পরদিন মঙ্গলবার এবং বুধবারের অবস্থাও একই ছিল। বিকাল চারটার পর থেকে প্রাইভেটকার, সিএনজি অটোরিকশা ও রিকশায় করে শত শত মানুষ আসতে থাকে হাতিরঝিলে। এর মধ্যে তরুণ-তরুণীর সংখ্যাই বেশি। তারা হাতিরঝিলের বিভিন্ন স্পটে আড্ডা দেয়। অনেকে আড্ডা দিচ্ছে পরিবারের সদস্যদের নিয়েও। কেউ এসেছে বন্ধুবান্ধবের সাথে।
সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে কয়েকজন নিজেদের ভুল স্বীকার করে নেন। তারা জানান, ঈদের এ কদিন রাজধানীই ফাঁকা রয়েছে। তাই তারা হাতিরঝিলে একটু ঘুরতে এসেছেন। কিন্তু এখানে এত মানুষ আসবে তা তাদের জানা ছিল না।
হাতিঝিলে কেন এসেছেন জানতে চাইলে এক ব্যক্তি বলেন, কেন আসছি জানি না। তবে আসার জন্য দুঃখিত। আরেকজন বলেন, একটু দেখতে আসলাম রাস্তাঘাটের পরিবেশ কেমন। তবে আসাটা ঠিক হয়নি।
প্রতিবছর ঈদের দিন রাজধানীর বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে থাকত লোকে লোকারণ্য। কিন্তু এবছর মহামারি করোনাভাইরাসের কারণে সেই চিত্র চোখে পড়েনি। নেই ঈদের সেই আমেজ। রাজধানীর অন্যান্য বিনোদন কেন্দ্র বন্ধ। সে কারণে বিনোদন কেন্দ্রগুলো থেকে ফিরে যাচ্ছে মানুষ।
মোহাম্মদপুরের বাসিন্দা শংকর রায় বলেন, অন্য বছর ঈদের সময় গ্রামে যাই সপরিবারে। কিন্তু এবছর করোনার কারণে ঢাকায়ই ছিলদম। আজ (গতকাল) বিকাল ৪টার দিকে রাজধানীর শ্যামলী শিশু মেলা বা ডিএনসিসি ওয়ান্ডারল্যান্ডে আসছিলাম বাচ্চাকে নিয়ে কিন্তু এটি বন্ধ থাকায় আবার ফিরে যাচ্ছি।
তবে শিশু মেলার গেটের সামনে কিছুক্ষণ পর পর ছিল দর্শনার্থীদের হালকা ভিড়। পরে অবশ্য হতাশ হয়ে ফেরত যেতে হচ্ছে। করোনার জন্য বন্ধ দেখে আবার চলে যাচ্ছে। আবার কিছু শিশুদের দেখা গেছে গেটের ফাঁকা দিয়ে শিশু মেলার ভেতরে দেখার চেষ্টা করছে।
রাজধানীর চন্দ্রিমা উদ্যান, শিশু মেলা, চিড়িয়াখানা, ধানমন্ডির রবীন্দ্র সরোবর ঘুরে একই রকম চিত্র দেখা গেছে।
যদিও সরকারি সিদ্ধান্ত মোতাবেক ১ জুন থেকে সব ধরনের ছুটি শেষ হচ্ছে তবুও এ সময়টাতে করোনার সংক্রমণ বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে মন্তব্য করেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. এবিএম আব্দুল্লাহ। তিনি বলেন, যারা বাইরে যাবেন অবশ্যই মাস্ক, হ্যান্ডগ্লাভসসহ যতটা সম্ভব সুরক্ষা সামগ্রীর ব্যবহার করতে হবে। বারবার সাবান দিয়ে হাত ধোয়ার পাশাপাশি পুষ্টিকর খাবার খেতে হবে।






এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]