ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা সোমবার ৬ জুলাই ২০২০ ২২ আষাঢ় ১৪২৭
ই-পেপার সোমবার ৬ জুলাই ২০২০

সরকারের পদক্ষেপগুলো মেনে চলতে হবে
প্রকাশ: শুক্রবার, ২৯ মে, ২০২০, ১২:০০ এএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 16

অভিনেতা আজিজুল হাকিম। এবারের ঈদ ঘরে থেকে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কাটিয়েছেন। বর্তমান পরিস্থিতি ও অন্যান্য বিষয় নিয়ে কথা বলেছেন তিনি। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন মোহাম্মদ তারেক

ঈদ কেমন কাটালেন?
ঘরে থেকে পরিবারকে নিয়ে ঈদ পালন করলাম। ঈদ বলতে যা বোঝায় নতুন জামাকাপড় কেনা, নতুন জামা পরা এসব করিনি। সারা দেশের করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে সংযত ছিলাম। পরিচিতজনসহ অনেকে স্বজন হারাচ্ছেন। সে জায়গা থেকে আনন্দ বলতে যা বোঝায় তা হয়নি। সকালে গোসল করে আমি ও আমার ছেলে একসাথে ঘরে নামাজ পড়েছি। যদিও আমার ছেলে জামাতে নামাজ পড়তে না পেরে মন খারাপ করেছে, কিন্তু পরিস্থিতি বিবেচনায় মেনে নিয়েছে। আত্মীয়-স্বজনের সাথে ফোনে শুভেচ্ছা বিনিময় করেছি। আমরা কারও বাসায় যাইনি, তাদের আসতেও নিরুৎসাহিত করেছি। এ সময়ে সচেতন থাকা জরুরি, আমরা ব্যক্তিগতভাবে তা থাকতে সচেষ্ট থেকেছি।
করোনা পরিস্থিতিতে একটি নাটকের কাজ করলেন। অভিজ্ঞতা কেমন ছিল?
২২ মার্চ থেকে আমাদের সকল শুটিং বন্ধ। মাঝে কয়েকদিন শিথিল করা হয়। সেই শিথিলতার সময়ে হানিফ সংকেতের ঈদের নাটক ‘দূরত্বের গুরুত্ব’ করেছি। তারপর আবার শুটিং বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায়। আর হানিফ সংকেতের নাটক যেখানে করেছি সেখানে এত স্বাস্থ্যকর পরিবেশে কাজ করেছি যে আমাদের শুটিং বাড়িতেও এত স্বাস্থ্যবিধি মানা হয় না। স্বাস্থ্য সুরক্ষার জায়গাগুলোতে নিশ্চিত হয়ে কাজ করেছি।
ইন্ডাস্ট্রি ক্ষতির মুখে পড়ল...
এ পরিস্থিতিতে হতাশ হলে চলবে না, ধৈর্য ধরতে হবে। আমরা যারা সামর্থ্যবান আছি তাদের উচিত আশপাশে যারা আছে তাদের আর্থিক সহায়তা করা। খাদ্য দিয়ে সহায়তা করার চেয়েও এটা জরুরি কারণ অর্থ তার অন্য কোনো কাজে লাগতে পারে। আমাদের কাজ বন্ধ মানে রুটিরুজিও নেই। আমি একজন পেশাদার অভিনেতা, আমি বিষয়টি মেনে নিয়েছি। আমাকে কোনোভাবে এ সময়টা পার করতে হবে। আমি মানসিকভাবে প্রস্তুতিও নিয়েছি। চ্যানেলগুলোতে বিভিন্ন সচেতনতামূলক শোতে অংশ নিয়েছি নিরাপদ পরিবেশে।
করোনাপরবর্তী সময়ে শুটিং কেমন হবে?
সময়ের আবর্তে আমরা অনেককিছু শিখছি। এক সময় গ্রামের মানুষ স্যান্ডেল পরতেন না, পরে শিখেছেন। এখন গ্রামে পাকা টয়লেটের ব্যবস্থাও হয়েছে। বিভিন্ন সময় নানান মহামারি আসে। কলেরা এসেছিল, এটা সাথে নিয়েই সামনে এগুতে হচ্ছে। মশাবাহিত রোগগুলো নিয়েও আমরা চলছি। করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিন এখনও আসেনি, এই ভাইরাস সংক্রমণ রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েই আমাদের কাজ করতে হবে। নাটকের শুটিং শুরু হলে ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়গুলো খেয়াল রাখব, শুটিং হাউসগুলোকে স্যানিটাইজ করব, যারা অসুস্থ আছেন তাদের সুচিকিৎসার মধ্যে নিয়ে আসব, অসুস্থ থাকলে অবশ্যই সত্য কথাটা প্রকাশ করব। এ বিষয়গুলো খেয়াল রাখতে হবে।
ইদানীং ঘরে বসে শুটিং হচ্ছে। সেরকম কাজ আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশও পেয়েছে। আপনি বিষয়টা কীভাবে দেখেন?
আমার কাছে খারাপ লাগছে না। আমরা কিন্তু প্রতিদিন টেলিফোনে, ফেসবুকে, হোয়াটসঅ্যাপে ভিডিওকলে কথা বলছি। সামাজিক দূরত্ব রেখে, সেরকম গল্প সাজিয়ে, ভালো রেজুল্যশনে ধারণ করে, বিশ্বাসযোগ্য সম্পাদনা করে নির্মাণ হতেই পারে। আমি এমন কাজকে সাধুবাদ জানাই। জীবন যখন যেমন সেভাবেই আমাদের আচরণ করতে হবে, এগিয়ে যেতে হবে।
গত ১৫ মে ছিল আপনার জন্মদিন । দিনটি কেমন গিয়েছে?
গত ১৫ মে ছিল আমার জন্মদিন, ২২ মে ছিল আমার স্ত্রীর। বিষাদের সময় বেঁচে থাকার অনুষঙ্গ এগুলোই আবেগ, অনুভূতি, ভালোবাসা। আমার শুভাকাক্সক্ষী, বন্ধুবান্ধব ফোনে, ফেসবুকে শুভেচ্ছা জানিয়েছে। আমার মেয়ে কেক তৈরি করে নিয়ে এসেছে রাত ১২টা ১ মিনিটে। বোনের মেয়ে তার মামার জন্য কেক নিয়ে এসেছে। ছেলে বাবাকে সারপ্রাইজ দিতে চেয়েছে। পরিবারের সদস্যদের নিয়ে জন্মদিন কেটেছে।
ঘরবন্দি সময় কাটছে কেমন?
এখন তো অফুরন্ত সময়। বই পড়ছি, গান শুনছি, নিউজ দেখছি, ছেলের লেখাপড়ায় সহযোগিতা করছি, পরিবারের সাথে সময় কাটাচ্ছি। আমি তিনতলায় থাকি, উপরতলায় আমার শাশুড়ির বাসায় চলে এসেছি। এ সময়ে উনাকে দেখেশুনে রাখাটাও আমাদের দায়িত্ব। আমরা তো বাবা-মাকে সময় দিতে চাই না ব্যস্ততার অজুহাতে। করোনাভাইরাস আমাদেরকে তাদের সময় দেওয়ার সুযোগ করে দিয়েছে। তিনি প্রায়ই অসুস্থ হয়ে পড়তেন। এখন আমরা সবাই তার পাশে আছি, তিনি দিব্যি হাঁটাচলা করছেন।
দর্শকের জন্য কী বার্তা দিতে চান?
বড় বিষয় হচ্ছে এখন আমাদের সবার হাতে প্রচারমাধ্যম। কোনো গুজব যাতে আমরা প্রচার না করি। কোনো গুজব না ছড়িয়ে সরকার যেসব পদক্ষেপ গ্রহণ করছে আমাদের প্রত্যেকের সচেতনভাবে সেসব পদক্ষেপ মেনে চলা উচিত। সরকার যে পদক্ষেপ নিচ্ছে তা জনসাধারণের মঙ্গলের জন্যই নিচ্ছে। বিভিন্ন কাজের ক্ষেত্রে প্রণোদনার ব্যবস্থা করছে। কেউ যাতে না খেয়ে মারা না যায় সে বিষয়গুলো সুচিন্তিতভাবে দেখভাল করছে। সরকারের পদক্ষেপগুলোকে সমালোচনা না করে যদি প্রশংসা করি তাহলে আমরা সুন্দর ভবিষ্যৎ, সুন্দর দেশের কল্পনা করতে পারি। 




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]