ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা বৃহস্পতিবার ৯ জুলাই ২০২০ ২৪ আষাঢ় ১৪২৭
ই-পেপার বৃহস্পতিবার ৯ জুলাই ২০২০

ছুটি বাড়ছে না, সীমিত পরিসরে খুলছে অফিস
ব্যক্তিগত সচেতনতার বিকল্প নেই
প্রকাশ: শুক্রবার, ২৯ মে, ২০২০, ১২:০০ এএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 15

পুরো বিশ্বেই দীর্ঘদিন ঘরে বন্দি মানুষ। বাংলাদেশেও দুই মাসের বেশি সময় পেরিয়েছে। মানুষ যাপন করছে ঘরবন্দি জীবন। চীনের উহান থেকে ছড়িয়ে পড়া করোনাভাইরাসের সংক্রমণের আতঙ্ক মানুষকে ঘরে আটকে রাখে। মানুষ থেকে মানুষে ছড়ায় ভাইরাসটি, তাই সংক্রমণ ঠেকাতে নানা উদ্যোগ নেওয়া হয় দেশে দেশে। তারই অংশ হিসেবে বাংলাদেশেও নেওয়া হয় নানা উদ্যোগ। মানুষ যেন নিরাপদ থাকে, সংক্রমণ ঝুঁকি এড়িয়ে চলতে পারে এজন্য সরকার মার্চ মাসের শেষ সপ্তাহেই ছুটি ঘোষণা করে। মানুষকে ঘরে থাকার অনুরোধ জানানোর পাশাপাশি ঘরবন্দি মানুষের জীবন যেন থমকে না যায়, সেজন্যও সরকার নানা উদ্যোগ নেয়। দিন এনে দিন খাওয়া মানুষের খাদ্য নিরাপত্তার পাশাপাশি বিভিন্ন সেক্টরে দেওয়া হয় প্রণোদনা। মাঝে পেরিয়ে যায় দুই মাসেরও বেশি সময়।
সরকার বিভিন্ন মেয়াদে পর্যায়ক্রমে ছুটি বাড়িয়ে মার্চের শেষ সপ্তাহ থেকে ৩০ মে পর্যন্ত নিয়ে আসে। দীর্ঘদিন ঘরে বন্দি থাকায় ক্রমশ অচল হয়ে উঠছে স্বাভাবিক জীবন। থমকে গেছে জীবনের স্বাভাবিক স্পন্দন। এই অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসা প্রয়োজন। অর্থনীতির চাকাও সচল করা প্রয়োজন। করোনাভাইরাস যেভাবে ছড়িয়ে পড়ছে, তা নিয়ন্ত্রণের জন্য শারীরিক দূরত্ব মেনে চলার বাইরে এখনও আমরা খুব বেশি এগুতে পারিনি। এখনও পর্যন্ত এর বিরুদ্ধে লড়াই করার মতো প্রতিষেধক আবিষ্কৃত হয়নি, কার্যকর ওষুধেরও সন্ধান মেলেনি।
সবকিছু এখনও পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর্যায়েই রয়েছে। বিভিন্ন সংস্থার পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, প্রতিষেধক আসার আগে করোনা সংক্রমণের ঝুঁকির মাঝেই জীবন-জীবিকা স্বাভাবিক করতে হবে। করোনাভাইরাস সহসা আমাদের ছেড়ে যাবে, এমন আশার আলোও নেই কোথাও। তাই পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে পর্যায়ক্রমে তুলে নেওয়া হচ্ছে লকডাউন। তুলে নেওয়া হচ্ছে কারফিউ। জীবন-জীবিকা সচল করতে নেওয়া হচ্ছে নানা উদ্যোগ। জীবন বাঁচানো যেমন প্রয়োজন তেমনি প্রয়োজন জীবন সচল করাও। সেই তাগিদ থেকেই বাংলাদেশেও নানা উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার। ইতোমধ্যে সাধারণ ছুটি আর না বাড়ানোর সিদ্ধান্ত ঘোষিত হয়েছে। সীমিত আকারে অফিস খোলার সিদ্ধান্ত হয়েছে। একই সঙ্গে স্বাস্থ্যবিধি মেনে সীমিত পরিসরে গণপরিবহন খোলার বিষয়েও মত এসেছে।
আমরা মনে করি, এক্ষেত্রে সরকারের সিদ্ধান্ত সঠিক পথেই রয়েছে। আমাদের মতো উন্নয়নশীল দেশের পক্ষে দীর্ঘদিন মানুষকে ঘরে রেখে কোনো সমস্যার সমাধান দেওয়া সম্ভব না। সীমিত সম্পদের যথাযথ ব্যবহারের লক্ষ্যে আমাদেরকে বাস্তবধর্মী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হবে। পুরো পৃথিবী করোনা মোকাবিলায় হিমশিম খাচ্ছে। লকডাউন, কারফিউ সাময়িক সুবিধা দিলেও করোনার অপ্রতিরোধ্য গতি থামাতে পারেনি। প্রতিষেধক আসার আগ পর্যন্ত করোনাকে সঙ্গী করেই আমাদের জীবন ও জীবিকা নির্বাহ করতে হবে। দীর্ঘদিন ঘরে থাকায় অর্থনীতিতে যে স্থবিরতা নেমে এসেছে, তা কাটিয়ে ওঠা যেকোনো
দেশের জন্যই কঠিন। করোনা সংক্রমণ থেকে বাঁচা যেমন প্রয়োজন তেমনি জীবনও সচল করা প্রয়োজন। সেই প্রয়োজনের বাস্তবায়ন করতে হলে আমাদেরকে ব্যক্তি পর্যায়ে সচেতন হতে হবে। দীর্ঘদিন ঘরে থেকে করোনার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে আমরা শারীরিক দূরত্ব মেনে চলাসহ যেসব স্বাস্থ্যবিধি রপ্ত করেছি, সেগুলোকে যথাযথভাবে কাজে লাগাতে হবে। আমরা প্রত্যাশা করি, প্রতিটি মানুষ সচেতন থেকে যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলবে। আমাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টাই পারে এই দুর্যোগ মোকাবিলার মাধ্যমে স্বাভাবিক জীবন ফিরিয়ে দিতে। সরকারের উদ্যোগের সঙ্গে সঙ্গে আমরা প্রত্যেকেই যদি নিজেদের অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল আচরণ করি, তাহলে খুব শিগগিরই আমরা ফিরতে পারব সুস্থ ও সুন্দর পৃথিবীতে। যেখানে আমরা প্রাণভরে শ্বাস নেব, প্রিয়জনের সান্নিধ্য উপভোগ করব। এক্ষেত্রে আমাদের দায়িত্বশীলতার বিকল্প নেই, ব্যক্তিসচেতনতার বিকল্প নেই।





সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]