ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা বৃহস্পতিবার ৯ জুলাই ২০২০ ২৫ আষাঢ় ১৪২৭
ই-পেপার বৃহস্পতিবার ৯ জুলাই ২০২০

তরুণদের নেশা থেকে ফিরাতে হবে
আফতাব চৌধুরী
প্রকাশ: শুক্রবার, ২৯ মে, ২০২০, ১২:০০ এএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 15

নিঃসঙ্গতা মানুষের জীবনের চরম দুর্ভাগ্যজনক অবস্থা। আত্মীয়-স্বজন, পরিবার-পরিজন বিচ্ছিন্ন মানুষ একাকিত্বের হাত থেকে বাঁচতে নেশাকে অবলম্বন করে। ক্রমে ক্রমে নেশার দাসে পরিণত হয়। নেশার মতো সামাজিক ব্যাধিকে বর্জন করতে বিভিন্ন সভা-সমাবেশে পণ্ডিতকুল নানা দাওয়াই বাতলে সমাজকে নেশামুক্ত করার আনুকূল্যে মত প্রকাশ করে থাকেন বটে, এতে সমাজের হিতে আদৌ কোনো কাজ হয় কি না তা নিয়ে সমীক্ষা চালানো যেতেই পারে। বিভিন্ন সংস্থা, সংগঠন বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে নেশাবিরোধী দিবস পালন করে। পত্রপত্রিকায় নাম প্রকাশ হয়। সমাজসেবী হিসাবে নামডাক হয়। কখনও কখনও সরকারি তরফে বিপুল অর্থ ব্যয় করে প্রচারপত্র বিলিয়ে অনুষ্ঠান করে দায়িত্ব সম্পন্ন করা হয়। কিন্তু লক্ষণীয় বিষয় হচ্ছে, নেশা করার পেছনে অন্যতম মৌলিক কারণ যে একাকিত্ব, তা নিয়ে কোনো সামাজিক সংস্থা, সরকারি দফতর বা সমাজসেবী ব্যক্তিবর্গ খুব একটা চিন্তা-চর্চা করছেন বলে নজরে আসে না। নেশার ক্ষতিকর দিকগুলো নিয়ে প্রচার চালানোর ফলে সমাজের একাংশ নেশাকারী নেশা ত্যাগ করতেই পারেন, এ-নিয়ে দ্বিমত থাকার প্রশ্ন নেই। কিন্তু সমাজে থেকেও সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন নিঃসঙ্গ মানুষ নেশার কুফল জানার পরও নেশামুক্ত হতে পেরেছেনÑ এ ধরনের দৃষ্টান্ত অবশ্যই বিরল। মানুষ সমাজবদ্ধ জীব। সমাজের ভালো-মন্দ বিচারে সবকিছু নিয়েই চিন্তা করার প্রয়োজন রয়েছে। তথাকথিত সমাজসেবীরা মানুষের সেই ভয়ঙ্কর দুঃস্বপ্নের একাকিত্ব নিয়েও কিছু চিন্তা করুন, বিশ্বায়নের যুগে এটা খুবই জরুরি। বর্তমানে বিভিন্ন ধরনের নেশাদ্রব্যের প্রচলন এবং প্রাপ্তি থাকলেও সাধারণভাবে যা সহজলভ্য এবং সামাজিক-আর্থিক ও মানসিক দিক দিয়ে ক্ষতিকারক তা হচ্ছে তামাকজাতীয় নেশাদ্রব্য এর মধ্যে প্রতিবন্ধকহীন, প্রকাশ্যে বিক্রীত বিড়ি এবং সিগারেট ইত্যাদিই প্রধানতম স্থানটি দখল করে রয়েছে। বিড়ি সিগারেটের মূল উৎস তামাকপাতা। পুরনো দিনগুলোতে সমাজে বয়স্কদের মধ্যে হুক্কার প্রচলন ছিল। তামাক তৈরি করে তা হুক্কায় ব্যবহার করে নল দিয়ে ধোঁয়া টেনে নেওয়া হতো। আজকাল সে চল নেই বললেই চলে। কিছুদিন আগেও গ্রামাঞ্চলে হুক্কা দেখা যেত। হুক্কার বিশেষত্ব ছিল, তামাকের ধোঁয়া পানিপূর্ণ এলাকা পার হয়ে সেবনকারীর গলাধঃকরণ হতো। ফলে ক্ষতিকর নিকোটিন নামের পদার্থের বেশ বড়সড় অংশই পানিতে দ্রবীভূত হতো। কিন্তু বিড়ি-সিগারেটের ধোঁয়া সরাসরি উদরস্থ হয়, ফলে ক্ষতিকর নিকোটিনের প্রভাবে নানা রোগের সৃষ্টি হচ্ছে।
বিজ্ঞানীরা জানাচ্ছেন, সিগারেটের ধোঁয়ায় প্রায় হাজার রকমের মৌল রাসায়নিক যৌগ রয়েছে যার মধ্যে অন্যতম নিকোটিন। নিকোটিন ক্যানসার সৃষ্টিকারী বলে পরিগণিত। দেখা যাচ্ছে, মদ খান না কিন্তু সিগারেট না-হলে চলে না এমন মানুষের সংখ্যাই সমাজে অধিক। ছেলেদের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে আজকাল মেয়েরাও সিগারেট সেবনে ক্রমশ আসক্ত হয়ে পড়ছে। ছেলেমেয়েরা নিজেদের স্মার্টনেস প্রমাণ করতেও ধূমপান করে থাকে। অনেকের ধারণা ধূমপান ক্লান্তি দূর করে, মস্তিষ্ক হালকা রাখে। বিশ্বে দরিদ্র দেশগুলোতেই ধূমপায়ীর সংখ্যা বেশি। এর মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম। বিশ্ব স্বাস্থ্য তামাকের নেশামুক্ত সমাজ গঠনের লক্ষ্যে বছরের নির্ধারিত দিনে তামাকবিরোধী, ধূমপানবিরোধী, নেশাবিরোধী নানা দিবস পালনের প্রথা প্রচলন করেছে। ১৯৯৮ সালে তামাকমুক্ত বিশ্ব সৃষ্টির উদ্দেশ্যে বিশ্বব্যাপী তামাকের ক্ষতিকর দিকটি নিয়ে জনমত গড়ে তোলার উপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করে। ২০০৮ সালে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা তামাকবিরোধী দিবসের তাৎপর্যকে সামনে রেখে তামাক সংক্রান্ত বিজ্ঞাপন প্রচার, আর্থিক সহযোগিতা ইত্যাদি নিষিদ্ধ করার আবেদন জানায়।
তামাকের ছাইদানি তাজা গোলাপপূর্ণ হোকÑ এই মহৎ চিন্তাকে সামনে রেখে তাজা গোলাপপূর্ণ ছাইদানিই তামাকবিরোধী দিবসের প্রতীক। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বিভিন্ন বছর বিভিন্ন স্লোগানকে সামনে রেখেছে, সচেতনতা বাড়াতে এবং তামাকবিরোধী আন্দোলনে ঢেউ তুলতে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ডাকে সাড়া দিয়ে আমাদের দেশেও সরকারিভাবে প্রকাশ্য ও জনবহুল এলাকায়, বাসে-ট্রেনে, সিগারেট খাওয়া নিষিদ্ধ ঘোষিত হয়েছে। প্রত্যক্ষ ধূমপানের চেয়ে পরোক্ষ ধূমপান অধিক ক্ষতিকর। ফলে বিড়ি-সিগারেট সেবনকারীর চেয়ে আশপাশে থাকা লোকজন বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হন। তবে এত কিছুর পরও ধূমপায়ীর সংখ্যা কিন্তু দিনকে দিন বাড়ছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, ধূমপানে মৃত্যুর সংখ্যা আগের চেয়ে বেড়ে চলেছে। এক হিসাবে প্রতি সেকেন্ডে মৃত্যু হচ্ছে একজন ধূমপায়ীর। বিশ্বব্যাপী ধূমপায়ীদের সংখ্যা একশো কোটিরও বেশি। এর মধ্যে অনুন্নত ও উন্নয়নশীল দেশগুলোতেই রয়েছে আশি কোটির মতো। চীন দেশে ধূমপায়ীর সংখ্যা ত্রিশ কোটিরও বেশি। আমাদের অনেকেরই অজানা একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হচ্ছে হিরোসিমা-নাগাসাকির পারমাণবিক ধ্বংসযজ্ঞে মৃত মানুষজনের সংখ্যার চেয়েও ধূমপানের রোগগ্রস্ত হয়ে মারা যাওয়া লোকজনের সংখ্যা অধিক। লক্ষ করার বিষয় হলো, ধনবান দেশ থেকেই মৃত্যুদূত সিগারেট এখন ছড়াচ্ছে বিশ্বজুড়ে। সচেতনতার ফলে ধনবান দেশগুলোতে সিগারেটের বাজার ক্রমশ সঙ্কুচিত হচ্ছে। বৃহৎ বহুজাতিক সিগারেট কোম্পানিগুলো নিজেদের মুনাফা ধরে রাখতে উন্নয়নশীল দেশগুলোর জনগোষ্ঠীকে নিকোটিন আসক্তির সহজ কায়দাটি রপ্ত করাচ্ছে। আমেরিকায় সিগারেট বিক্রি যতই কমছে, বিশ্বের অন্যান্য দেশে আমেরিকার সিগারেটের বিক্রি ততই বাড়ছে। দিনকে দিন আমেরিকার সিগারেট বাণিজ্য বাড়ছে। বাড়ছে রফতানি, তৈরি হচ্ছে নতুন কারখানা। সংঘর্ষহীনভাবেই বাড়ছে বাজার। সারা বিশ্বের সিগারেট বাজারের তিরিশ ভাগেরও বেশি চীনের বাজার। চেষ্টা চলছে চীনা ধূমপায়ীদের আমেরিকার দখলে আনার। মার্কিনিরা শুধুই সমরাস্ত্র সরবরাহ করে যুদ্ধ বাধিয়ে গণহত্যা করছে না, দুনিয়া জুড়ে তামাকদ্রব্য সরবরাহ করে নেশা ধরিয়ে জনগোষ্ঠীকে দেশে দেশে ব্যাপকভাবে হত্যা করছে।

ষ বৃক্ষ রোপণে জাতীয় স্বর্ণপদকপ্রাপ্ত




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]