ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা বৃহস্পতিবার ৯ জুলাই ২০২০ ২৫ আষাঢ় ১৪২৭
ই-পেপার বৃহস্পতিবার ৯ জুলাই ২০২০

নজরুলের গল্পের বিষয়-আশয়
রাকিবুল রকি
প্রকাশ: শুক্রবার, ২৯ মে, ২০২০, ১২:০০ এএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 70

ধূমকেতুর মতো বিস্ময় নিয়ে বাংলার সাহিত্যাকাশে উদিত হন কাজী নজরুল ইসলাম (১৮৯৯-১৯৭৬)। মাত্র বাইশ বছরের সাহিত্য জীবনে নটরাজের মতো দাপিয়ে বেড়িয়েছেন সাহিত্যের প্রতিটি শাখা। মেতেছিলেন ‘সৃষ্টি সুখের উল্লাসে’। গান, কবিতা, প্রবন্ধ, গল্প, উপন্যাস, নাটক প্রতিটি শাখায় পড়েছে তার প্রতিভার ছাপ। হয়তো সব শাখায় সমানভাবে নিজের সামর্থ্যরে স্বাক্ষর রাখতে পারেননি, তবু সব মিলিয়ে তিনি আমাদের কাছে বিপুল বিস্ময়। বাংলা সাহিত্যে তিনি ‘উজ্জ্বল আলোকস্তম্ভ’। ক্ষণজন্মা প্রবাদপুরুষ।
কাজী নজরুল ইসলাম ‘কবি’ পরিচয়ে সমধিক পরিচিত হলেও তার প্রথম প্রকাশিত রচনা গল্প। তার প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ গল্পের। কবির বাল্যবন্ধু বিশিষ্ট সাহিত্যিক, চলচ্চিত্রকার শৈলজানন্দ মুখোপাধ্যায়ের (১৯০১-১৯৭৬) বরাতে আমরা জানতে পারি, কিশোরাবস্থা থেকে নজরুলেন গদ্যচর্চা শুরু। কৌতূহলোদ্দীপক ব্যাপার হলো শৈলজানন্দ মুখোপাধ্যায় প্রথমে চর্চা করতেন কবিতার। কিন্তু পরবর্তী সময়ে তিনি বেছে নেন কথাসাহিত্যের ভুবনকে। কাজী নজরুল ইসলাম গল্পের ভুবন থেকে চলে আসেন কবিতার জগতে। এবং কবি হিসেবেই তার নামে ‘জয়ধ্বনি’ ওঠে।
নজরুল যে বছর বাংলা সাহিত্যে আত্মপ্রকাশ করেন, ওই বছর তার কবিতার তুলনায় গদ্যই বেশি প্রকাশিত হয়েছে। এই গদ্যের তালিকায় গল্প তো ছিলই, ছিল একটি প্রবন্ধও। আত্মপ্রকাশের বছর কাজী নজরুল ইসলামের গল্প প্রকাশিত হয় ছয়টি (বাউণ্ডেলের আত্মকাহিনী, স্বামীহারা, হেনা, ব্যথার দান, মেহের নেগার, ঘুমের ঘোরে); একটি প্রবন্ধ (তুর্ক মহিলার ঘোমটা খোলা); কবিতা তিনটি (মুক্তি, কবিতা-সমাধি, আশায় [হাফিজের গজল])।
১ মার্চ ১৯২২ সালে প্রকাশিত হয় কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম গল্পগ্রন্থ, একই সাথে যা প্রথম গ্রন্থও ‘ব্যথার দান’। এ গন্থের তার গল্পের সংখ্যা ছয়টি: ‘ব্যথার দান’, ‘হেনা’, ‘বাদল বরিষণে’, ‘ঘুমের ঘোরে’, ‘অতৃপ্ত কামনা’, ‘রাজবন্দীর চিঠি’।
‘ব্যথার দান’ গল্প দারা, বেদৌরা এবং সয়ফুল মুলকের জবানীতে ব্যক্ত হয়েছে। দারা ভালোবাসতো বেদৌরাকে। বেদৌরা ক্ষণিকের মোহে সয়ফুল মুলকের কাছে দেহের পবিত্রতা হারায়। দারা বেদৌরার এই অপরাধ ক্ষমা করতে পারেনি। তাই সে যুদ্ধে চলে যায়। নিজের অন্তরের আগুনকে বাইরের আগুনে পুরিয়ে দিতে চায়। যুদ্ধে গিয়ে সে অন্ধ এবং বধির হয়। এই অন্ধত্ব এবং বধিরতা সে ইতিবাচক হিসেবেই গ্রহণ করে। সয়ফুল মুলককে সে ক্ষমা করে দেয়। কামনা-বাসনার ঊর্ধ্বে উঠে বেদৌরাকেও ক্ষমা করে দেয়। বিরহের মাঝেই প্রেমের সুখকে খুঁজে নেয়।
‘হেনা’ গল্পে আফগান নায়ক সোহরাব ভালোবাসে হেনাকে কিন্তু সোহরাবের পরদেশীয় জীবনযাপনের কারণে হেনা সোহরাবকে ভালোবাসলেও তা স্বীকার করেনি, সে চাচ্ছিল সোহরাব যেন দেশের পায়ে নিজের জীবন উৎসর্গ করে। পরবর্তী সময়ে স্বদেশের স্বাধীনতা রক্ষার জন্য আমীরের হয়ে সোহরাব যুদ্ধক্ষেত্রে যাত্রা করলে হেনা স্বীকার করে, সে ভালোবাসে সোহরাবকে।
‘বাদল-বরিষণে’ শ্রাবণের বৃষ্টির ঝম্-ঝমানি শুনতে শুনতে গল্প কথক মেলে ধরেছেন স্মৃতির নকশী-কাঁথা। তিন বছর আগে শ্রাবণের শুক্লা পঞ্চমীতে দেখা হয়েছিল কাজরিয়ার সাথে। কাজরিয়ার কাছে সে ছিল ‘র্পদেশী জোয়ান।’ কাজরিয়ার গায়ের রঙ কালো বলেই সবাই তাকে কাজরিয়া বলত। গল্পকথক যখন তাকে ভালোবাসার কথা জানায়, কাজরী তখন কেঁদে ওঠে। চলে যায় সেখান থেকে। যেতে যেতে বলে, ‘ওগো সুন্দর বিদেশী, আমি কালো।’ পরের বছরও দেখা হয় গল্পকথকের সাথে কাজরিয়ার। গল্পকথকের কোলে মাথা রেখেই সে মারা যায়। তার বিশ^াস ছিল, কালো রূপের জন্য কেউ তাকে ভালোবাসবে না। কেউ যদি ভালোবাসার কথা বলে, সেটা বিশ^াস হয় না। তাই কাজরিয়া গল্পকথকের ভালোবাসার কথা শুনে মৃত্যুকে বরণ করে নেয়। হয়তো কাছে পেতে চাইলে হারাতে হতো, তাই দূরে গিয়ে চিরজীবনের জন্য পেয়ে গেল। এই গল্পে প্রকৃতি-প্রেম মিশেমিশে একাকার হয়ে গেছে।
‘ঘুমের ঘোরে’ গল্পেও দেখি নায়ক আজহার যুদ্ধে চলে যান। আজহার ভালোবাসতো পরীকে। আজহারের মনে হয়েছিল, ভালোবাসায় যখন শরীর প্রধান হয়ে ওঠে তখন সেটা ভালোবাসা থাকে না, হয়ে ওঠে মোহ বা কামনা। ফলে আজহারের অনুরোধে তার এক বন্ধু বিয়ে করে পরীকে। পরীকে হারানোর ব্যথা নিয়ে আজহার যুদ্ধে চলে যায়। পরী ভুলতে পারে না আজহারকে। পরীর স্বামী সব জেনেও বুকে টেনে নেয় পরীকে। পরীকেও বলে, ভুলে যেতে বলে। বলে, ‘মনে কর, যা হ’য়ে গেছে, তা শুধু ঘুমের ঘোরে।’ কিন্তু পরী মানতে পারে না, যা ঘটে গেছে, তা ঘুমের ঘোরে। কেননা, নারীর ভালোবাসা এত ছোট নয়।
‘অতৃপ্ত কামনা’ গল্পে নায়ক শৈশবের খেলার সাথী মোতিকে ভালোবাসে। মোতিও তাকে প্রচণ্ডভাবে ভালোবাসে। তবে মোতিকে লাভ করার সৎসাহস নায়কের নেই। মস্ত বড় জমিদারের বিএ পাস করার ছেলের সাথে বিয়ে ঠিক হয় মোতির। নায়ক মোতির সুখের জন্য নিজের ভালোবাসাকে বিসর্জন দেয়। মোতিকে জানায় সে মোতিকে ভালোবাসে না।
‘রাজবন্দীর চিঠি’ একটি পত্রগল্প। মানসীর কাছে লেখা যক্ষ্মাআক্রান্ত অভিমানী রাজবন্দীর চিঠি এটি। চিঠির ছত্রে ছত্রে বেজে উঠেছে অতীত স্মৃতিচারণ আর অভিমান। মানসীর প্রতি তার বুকভরা অভিমান। এ অভিমানের কারণ অনেকটাই অজানা। হয়তো এ অভিমানের কারণেই ক্ষয়রোগে আক্রান্ত নায়ক মৃত্যুকে বেছে নিয়েছে। চিঠির শেষে নায়ক একটি আশীর্বাদ চেয়েছেন, পরজন্মে যেন মানসীর ভালোবাসার মানুষ হয়ে জন্ম গ্রহণ করতে পারেন।
‘ব্যথার দান’ গল্পের অনেকগুলো গল্পই যুদ্ধের পটভূমিতে বিস্তার লাভ করেছে। যুদ্ধের ভয়াবহতা হয়তো তার গল্পে তেমনভাবে উঠে আসেনি, তবে বাংলাসাহিত্যে বিশ^যুদ্ধের পটভূমিকায় প্রথম গল্প লেখার শিরোপা নজরুলের শিরেই শোভা পাবে। ‘ব্যথার দান’ গ্রন্থের গল্পের পটভূমি যা-ই হোক, এর মূল সুর বিরহ। বিরহের মাঝেই লেখক প্রেমের সার্থকতা খুঁজেছেন।
‘রিক্তের বেদন’ কাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় গল্পগ্রন্থ, প্রকাশিত ১৯২৫ সালের ১২ জানুয়ারি। এ বইতে মোট সাতটি গল্প এবং একটি কথিকা রয়েছে। গ্রল্পগুলো হলোÑ ‘রিক্তের বেদন’, ‘বাউণ্ডেলের আত্মকাহিনী’, ‘মেহের-নেগার’, ‘সাঁঝের তারা’, ‘রাক্ষুসী’, ‘সালেক’, ‘স্বামীহারা’ এবং কথিকা ‘দুরন্ত পথিক’।
‘রিক্তের বেদন’ গল্পটিও যুদ্ধের পটভূমিতে লেখা প্রেমের গল্প। যুদ্ধের দামামা গল্পের নায়ক হাসিনের রক্তে নেচে ওঠে। সে যুদ্ধে যোগ দেয়। যুদ্ধে যাবার আগে হাসিনের মা বলে, শহীদার সাথে দেখা করে যেতে। শহীদাকে কৈশোরেই ভালোবেসেছিল হাসিন। তবু কী এক খেয়ালে সে দেখা করে না শহীদার সাথে। যুদ্ধে এসে শুনতে পারে শহীদার বিয়ে হয়ে গেছে। গুল নামের এক বেদুইন কন্যা হাসিনকে ভালোবেসে বিয়ে করতে চায় কিন্তু হাসিন কিছুতেই রাজি হয় না। ঘটনাক্রমে, হাসিনের গুলিতে মারা যায় গুল।
‘বাউণ্ডেলের আত্মকাহিনী’ বাঙালি পল্টনের এক বওয়াটে যুবকের কাহিনী। একদিন নেশার ঘোরে সহযোদ্ধার কাছে বলে সে ফেলে আসা দিনের কথা। বর্তমান স্কুলে পড়ুয়া থার্ড ক্লাসের ছাত্রকে বাবা-মা তের বছর বয়সি কিশোরী রাবেয়ার সাথে বিয়ে দেয়। পরীক্ষা চলে এলে সে রাবেয়াকে রেখে বর্তমান চলে যায়। দুই মাস পরে রাবেয়া মারা যায়। এ শোক তাকে বাউণ্ডেলে করে তোলে। এক পর্যায়ে সে রাণীগঞ্জের সিয়ারসোলের রাজ স্কুলে ভর্তি হয়। এমন সময় তার সাথে সখিনার বিয়ে হয়। কিন্তু এতেও তার বাউণ্ডেলেপনা শেষ হয় না। ম্যাট্রিক টেস্টে উত্তীর্ণ না হতে পারায় বাবা তার খরচ বন্ধ করে দেয়। এমন সময় সখিনা মারা যায়। ছয় মাস পর মারা যায় তার মা। তখন সে পল্টনে যোগ দেয়।
‘মেহের নেগার’ গল্পে নায়ক নায়ক য়ুসোফ পাঠান, নায়িকা গুলশান পাঞ্জাবী। য়ুসোফ তার স্বপ্নের প্রেয়সী মেহের নেগারকে খুঁজতে গিয়ে ঝিলাম নদীর তীরে দেখা পায় গুলশানের। গুলশানকে সে মেহের নেগার ভেবে ভ্রম করে। তাদের মধ্যে ভালোবাসা জন্ম নেয়। কিন্তু সেই সম্পর্কের মধ্যে বাধা হয়ে দাঁড়ায় গুলশানের পরিচয়, সে একজন বাইজির কন্যা। য়ুসোফ যুদ্ধে যাবার আগে গুলশানের সাথে দেখা করতে এলে দেখতে পায় গুলশানের কবর। সেখানে য়ুসোফকে উদ্দেশ করে লেখা, ‘অপবিত্র জঠরে জন্ম নিলেও ওগো পথিক, আমায় ঘৃণা করো না!...’
‘সাঁঝের তারা’ গল্পে কবি সন্ধ্যাতারার মধ্যে তার মানস-প্রিয়ার সন্ধান করেছেন। এ গল্পে প্রকৃতির প্রাধান্য লক্ষণীয়।
‘রাক্ষুসী’ গল্পে দেখতে পাই পাঁচুর মা বিন্দি স্বামীকে পরকীয়া প্রেমের পাপ থেকে বাঁচানোর জন্য নিজেই স্বামীকে হত্যা করে। তার ধারণা সে ভালো ছাড়া মন্দ কিছু করেনি। তার সাত বছর কারাদণ্ড হয়। জেল থেকে ফিরে এলে সমাজের মানুষের কাছে সে রাক্ষুসী বলে চিহ্নিত হয়। তাকে একঘরে করে ফেলা হয়। সমাজের নিষ্ঠুরতা এ গল্পে উঠে এসেছে। ‘স্বামীহারা’ গল্পেও দেখি নিষ্ঠুর সমাজের চিত্র। গরির ঘরের রূপবতী মেয়ে বেগমকে উঁচু ঘরের শিক্ষিত ছেলে আজিজ বিয়ে করে। কলেরা রোগীদের সেবা করতে গিয়ে সংক্রামিত হয়ে আজিজ মারা যায়। আজিজের মৃত্যু শোকাতুর মা ইন্তেকাল করেন। তখন আজিজদের এক আত্মীয় বেগমের চুল ধরে বলে, ‘যা শয়তানি, বেরো ঘর থেকে এখুনি! তখনি বলেছিলুম, বুনিয়াদি খানদানের উপর নাক চড়ানো, এ সইবে কেন? তোকে ঘরে এনে শেষে বংশে বাতি দিতে লোক পর্যন্ত রইল না কেউ।’
সমাজের নিষ্ঠুরতার পাশাপাশি এ গল্পে প্রেমের এক হৃদয়স্পর্শী আখ্যান ফুটে উঠেছে।
সুফীতত্ত্বের ‘মরার আগে মরতে পারলেই মোক্ষ লাভ করা যায়’ এই বাণী মূর্ত হয়ে উঠেছে ‘সালেক’ গল্পে। কাজী নজরুল ইসলামের তৃতীয় এবং শেষ গল্পগ্রন্থ ‘শিউলী মালা’ প্রকাশিত হয় ১৬ অক্টোবর ১৯৩১ সালে। পূর্বের দুটো গল্পের বইয়ের তুলনায় ‘শিউলী মালা’র গল্প অনেক পরিণত। আঙ্গিকে, বর্ণনায় অনবদ্য।
‘শিউলী মালা’ বইয়ের প্রথম গল্প ‘পদ্ম-গোখরা’। গল্পের কেন্দ্রীয় চরিত্র সন্তানহারা জোহরা দুটো সাপের প্রতি যে মমতা দেখিয়েছেন, গোখরা সাপের প্রতি তার যে অপত্য স্নেহ, সত্যি তা বিরল। জোহরা চরিত্র নির্মাণে কাজী নজরুল ইসলাম যথেষ্ট মৌলিকত্বের পরিচয় দিয়েছেন। ইতরবাচক প্রাণীর সাথে মানুষের সম্পর্ক নিয়ে লেখা এমন গল্প বাংলা সাহিত্যে খুব কমই রচিত হয়েছে।
‘জিনের বাদশা’ আরও একটি চমৎকার গল্প। গ্রামের ডানপিটে যুবক আল্লারাখা। তার দুরন্তপনায় বাবা-মাসহ সবাই অস্থির। আল্লারাখা ভালোবাসে চানভানুকে। চানভানুর অন্যত্র বিয়ে ঠিক হলে আল্লারাখা জিনের বাদশা সেজে অনেক চেষ্টা করে সে বিয়ে ভাঙার। কিন্তু কিছুতেই কিছু হয় না। চানভানুর বিয়ে হয় যায়। চানভানুর বিয়ের পরই আল্লারাখা আমূল বদলে যায়। গল্পটি শুরু থেকে পরতে পরতে জড়িয়ে ছিল ব্যঙ্গরস। সেই ব্যঙ্গরস শেষের দিকে এসে করুণরসে রূপান্তরিত হয়, যা মনে দ্যোতনা তোলে।
‘অগ্নিগিরি’ গল্পের নায়ক সবুর ‘জিনের বাদশা’ গল্পের নায়ক আল্লারাখার ঠিক বিপরীত। সবুর শান্তশিষ্ট। গোবেচারা। নূরজাহানদের বাড়িতে জায়গীর থাকে। রোস্তমের দল তাকে প্রতিদিন নানাভাবে নাজেহাল করে। সে মুখ বুজেই সব সহ্য করে। একদিন নূরজাহানের ভর্ৎসনায় তার পৌরুষ জেগে ওঠে। পরেরদিন সবুরকে রুস্তমের দল ক্ষ্যাপাতে এলে, সবুর প্রতিবাদ করে। একপর্যাসে সবুরের হাতে খুন হয় আমীর। সবুরের সাত বছর কারাদণ্ড হয়। নূরজাহান বাবামাকে নিয়ে জেলে সবুরকে দেখতে গেলে সবুর নূরজাহানকে বলে, ‘আল্লায় যদি এই দুনিয়ায় দেখবার না দেয়, যে দুনিয়াতেই তুমি যাও আমি খুঁইজ্যা লইবাম।’
‘শিউলী-মালা’ গল্পে দেখি তরুণ ব্যারিস্টার আজহারের সাথে দাবা খেলার সূত্রে পরিচয় হয় শিউলীর। আজহার যতটুকু গান জানত, সবটুকু তুলে দেয় শিউলীর গলায়। তারা ভালোবেসেছিল পরস্পরকে কিন্তু মিলনের কথা তাদের মনে আসেনি। আজহার শিউলীর স্মৃতিটুকু মনে ধারণ করে প্রতি বছর পহেলা আশি^নে নদীর জলে শিউলী ফুলের মালা ভাসিয়ে দেয়। ঢাকাস্থ উমা মৈত্র ওরফে নোটনের সাথে নজরুলের সম্পর্কই এ গল্পের আঁতুড়ঘর। শুধু ‘শিউলী মালা’ গল্পেই নয়, অন্যান্য গল্পের নায়কদের মাঝে, ঘটনায় নজরুলের ছায়া কোথাও না কোথাও পড়েছে। জীবনানন্দ দাশের গল্প-উপন্যাস যেমন তার আত্মজীবনী, তেম্নি নজরুলের গল্পের নায়কেরা তার আত্মপ্রতিকৃতি না হলেও চিন্তা- চেতনায়, মানসিকতায়, ভাবনায় তার কাছে অনেকটাই ।
ষ কবি ও প্রাবন্ধিক





সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]