ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা বৃহস্পতিবার ৯ জুলাই ২০২০ ২৫ আষাঢ় ১৪২৭
ই-পেপার বৃহস্পতিবার ৯ জুলাই ২০২০

মোহাম্মদ হোসেনের দুটো অনুগল্প
প্রকাশ: শুক্রবার, ২৯ মে, ২০২০, ১২:০০ এএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 17

সম্পর্ক
ঢাকার এক বড়ো নামকরা গার্মেন্টস ফ্যাক্টরির ছোট কর্মকর্তা সফদার মিয়া ভয়ানক শকে থ মেরে গেলেন। করোনার উপসর্গ দেখা দেওয়ায় আপন পরিবারে তার জায়গা হচ্ছে না! যে স্ত্রী ছেলেমেয়ের জন্য সারা জীবন করেছেন হাড়ভাঙা পরিশ্রম তারাই এখন পর হয়ে গেল! ‘ইয়া নাফসি, ইয়া নাফসি’ জপতে জপতে রাতদুপুরে মুখের উপর দরজা বন্ধ করে দিল ধড়াম করে! হায় হায়, এ কী হলো! ডাকের কথাই কি ঠিক তবে, ‘ধন জন পরিবার, কেউ নয় আপনার’?
চোখে অবিশ্বাস নিয়ে তিনি হাঁ করে চেয়ে থাকলেন দরজার দিকে। তিনি আবার ডাকলেন, ‘মামণি, রাফিয়া আম্মু, দরজা খোল মা।’
কোনো সাড়াশব্দ নেই। অন্য সময়ের মতো উচ্ছল রাফিয়া দরজা খুলে বাবা বলে ডাকে না। হাত ধরে নিয়ে যায় না ঘরে। তোয়ালে এগিয়ে দিয়ে বলে না, বাবা তুমি হাতমুখ ধুয়ে এসো। আমি ভাত বাড়ছি।
বাড়ি কাছে, কিন্তু দোর মনে হচ্ছে দূর বহুদূর। ভয়ানক কষ্টে হাড়গোড় ভেঙে যাচ্ছে সফদার মিয়ার। দুই চোখের দুই মণি এখন তাকে শনি ভাবছে। দীর্ঘ বিশ বছরের অম্লমধুর দাম্পত্য সম্পর্ক যার সাথে সেও করছে দূর দূর। চোখের পানি আর ধরে রাখতে পারলেন না তিনি। দরদর করে গড়িয়ে পড়তে লাগল কপোল বেয়ে।
একটু পর মানিব্যাগে রাখা গ্রুপ ছবিটা বের করলেন সফদার মিয়া। সজল চোখে কিছুক্ষণ চেয়ে থাকলেন। তারপর ছিঁড়ে কুটি কুটি করে ফেলে দিলেন রাস্তায়।
‘ভালো থাকিস তোরা’ বলে চললেন অজানার পথে সফদার মিয়া।

কাকতাড়ুয়া
সায়রা বেগম তার বড়ো ছেলের কথায় তাজ্জব বনে গেলেন। মাথায় সত্যি সত্যি আকাশ ভেঙে পড়লেও বোধ করি এতটা অবাক হতেন না তিনি। ‘আমি নাকি মা হয়েছি প্রাকৃতিক কারণে’, বিলাপ করতে লাগলেন তিনি। কথাটির গভীরে প্রবেশ করতেই গা রি রি করে উঠল তার। এমন আস্পর্ধা সে কোথায় পেয়েছে? বোধ ও বোধনে শোধন আসেনি কেন এখনও? তিনি সারা জীবন সন্তানের দেখভাল করে এসেছেন পরম মমতায়, কাকতাড়ুয়ার মতো তাড়িয়ে এসেছেন তাদের দিকে ধেয়ে আসা সকল দুঃখ-কষ্ট বালা-মুসিবত। নিজে রোদে পুড়ে ঘাম ঝরিয়েছেন, বৃষ্টির পানিতে ভিজে অসুখে পড়েছেন, তীব্র শীতের কামড়ে হয়েছেন পর্যুদস্ত। তবুও তাদের গায়ে আঁচড় লাগতে দেননি এতটুকু। অথচ এখন দেখছেন, যতনের মধু পিঁপড়ায় খাচ্ছে।
 ‘এত এত ত্যাগের জবাব কী তবে, হে পুত্র আমার?’ বলে কাঁদতে কাঁদতে জ্ঞান হারালেন সায়রা বেগম।




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]