ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা শুক্রবার ৩ জুলাই ২০২০ ১৯ আষাঢ় ১৪২৭
ই-পেপার শুক্রবার ৩ জুলাই ২০২০

রমজানের শিক্ষা ভুলে না যাই
মাওলানা ফজলে রাব্বি
প্রকাশ: শুক্রবার, ২৯ মে, ২০২০, ১২:০০ এএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 34

মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে মুমিনের জন্য অনন্য নিয়ামত ছিল পবিত্র মাহে রমজান। মহান প্রভুর রহমতের বারিধারায় সিক্ত ইবাদতের অনন্য মৌসুম, মুমিনের বহুল আকাক্সিক্ষত এক মাস। আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের অনুপম সুযোগ ও মর্যাদায় ভরপুর ছিল মাহে রমজান।
এক মাস সিয়াম সাধনা করে মহিমান্বিত এই মাসকে ইতোমধ্যে আমরা বিদায় জানিয়েছি। মাসব্যাপী সিয়াম সাধনার পর খুশির দিন ঈদুল ফিতরকেও বিদায় জানিয়েছি। ইসলামে নির্ধারিত দুটি খুশির দিনের অন্যতম একটি ‘ঈদুল ফিতর’। ম্যাসব্যাপী সিয়াম সাধনার মাধ্যমে যে ব্যাপক ইবাদতমুখিতা গড়ে উঠেছিল, রমজান সমাপ্তির সাথে সাথে তার অনেকটা ভাটা পড়ে যায়। মূলত রমজানে তাকওয়া ও খোদাভীতির যে অভ্যাস গড়ে ওঠে তা পুরো বছর চলার পাথেয়। এক মাসের অনুশীলন সারা বছর আমাদেরকে ত্যাগ ও সংযমের জন্য সহায়ক হয়। তাই রমজানের শিক্ষা যেন ভুলে না যাই। বরং বছরজুড়ে এর চর্চা কীভাবে আমরা অব্যাহত রাখবো জেনে নেওয়া যাক।

রমজানের শিক্ষা ধরে রাখা
রমজান আমাদের মাঝে এসেছিল বহু ফজিলত ও অপূর্ব সুযোগ হিসেবে। রমজান নিঃসন্দেহে মুমিনের ইবাদতের বসন্ত মৌসুম। এই মাস পেয়েও যে ব্যক্তি নিজের গুনাহ ও পাপ মার্জনা করে নিতে পারল না, তার মতো হতভাগ্য কেউ নেই। রমজান আমাদেরকে ত্যাগ, সংযম, খোদাভীতি, সুন্নাহর পথ অনুসরণ, সালাত ও নফল ইবাদত, হালাল হারাম মেনে চলা ইত্যাদি শিক্ষা দেয়। তাই রমজানের মাসব্যাপী সিয়াম সাধনার পরবর্তী এগারোটি মাস সে শিক্ষা ও অনুশীলন অনুযায়ী জীবন পরিচালনা করতে হবে। তবেই দুনিয়া ও আখেরাতের জীবনের সফলতা।

পাপাচার বর্জন করা
রমজান ক্ষমা লাভের মাস। এ মাস পাওয়ার পরও যারা তাদের আমলনামাকে পাপ-পঙ্কিলতামুক্ত করতে পারেনি রাসূল (সা.) তাদেরকে ধিক্কার দিয়ে বলেছেন, ‘ওই ব্যক্তির নাক ধুলোয় ধুসরিত হোক, যে রমজান পেল অথচ তার পাপগুলো ক্ষমা
করিয়ে নিতে পারল না।’ (তিরমিজি : ৩৫৪৫)। অতএব, রমজান পরবর্তী সময় আমাদেরকে সব ধরনের গুনাহ ও পাপমুক্ত জীবন যাপন করতে হবে। সামনের এগারোটি মাস গুনাহ ও পাপাচার মুক্ত থেকে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনে সচেষ্ট থাকতে হবে।

মিথ্যা ও অসততা পরিহার করা
রমজানের অন্যতম উদ্দেশ্য হলো, ত্যাগ ও সংযমের মাধ্যমে নিজেকে পরিশুদ্ধ করা তথা খোদাভীতি অর্জন। রোজা অবস্থায় আমরা মিথ্যা কথা, গীবত, চোখলখুরি, মূর্খতা ও অসৎ কাজ থেকে বিরত ছিলাম। তেমনি রমজানের পরেও আমাদেরকে সেগুলো বর্জন করে চলতে হবে। রাসূল (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি মিথ্যা কথা ও কাজ এবং মূর্খতা পরিত্যাগ করতে পারল না, তার এই পানাহার বর্জন করা বা রোজা রাখায় আল্লাহর কোনো প্রয়োজন নেই।’ (বুখারি : ১৯০৩)। অর্থাৎ, রোজা রেখে যেমন মিথ্যা কথা, অসৎ কাজ ও মূর্খতা পরিহার করতে হয়, তেমনি রমজানের পরেও এই চর্চা আমাদের অব্যাহত রাখতে হবে।

অতিলোভ থেকে বিরত থাকা
পুরো রমজান আমরা ত্যাগ ও সংযমের অনুশীলন করেছি। সংযম ও ত্যাগের বিপরীত হলো লোভ। অতিলোভ করা দুনিয়া ও আখেরাতের জন্য ক্ষতির কারণ। দুনিয়ার প্রতি অতিমাত্রায় লোভ আল্লাহকে ভুলিয়ে দেয়। হাদিসে এসেছে, ‘দুনিয়ার প্রতি লোভ ও ভালোবাসা সকল গুনাহের মূল।’ (বাইহাকি)। তাই আমাদেরকে সকল প্রকার লোভ, কৃপ্রবৃত্তি, অধিক সম্পদ অর্জনে আকৃষ্ট হওয়া ইত্যাদি পরিহার করে রমজানের পরের সময়গুলোতেও সংযমের অনুশীলন করতে হবে।

কৃপণতা থেকে মুক্ত থাকা
কৃপণতা একটি আত্মিক ব্যাধি। মাহে রমজান আমাদেরকে ত্যাগী ও সংযমী হতে শেখায়। কিছু মানুষ আছে যারা অর্জিত সম্পদ কুক্ষিগত করে রাখে। আল্লাহর পথেও খরচ করে না, নিজের জন্যও খরচ করে না।
রমজান আমাদেরকে সম্পদ দানের দিকে উৎসাহিত করেছে, নিবেদিত হতে শিখিয়েছে। এ মাসে আমরা অধিক পরিমাণ দান সদকা, জাকাত, ঈদের দিন সদাকাতুল ফিতরসহ ইত্যাদি নানাভাবে দানের চেষ্টা করে থাকি। কিন্তু রমজানের পরেও এগারোটি মাস আমাদেরকে সব ধরনের কৃপণতা পরিহার করে আল্লাহর দেওয়া সম্পদ থেকে সামর্থ অনুযায়ী বেশি বেশি দান সদকা করা এবং গরিব-দুঃখীদের পাশে দাঁড়ানো। মহান আল্লাহ বলেন, ‘আর যাদেরকে অন্তরের কার্পণ্য থেকে রক্ষা করা হয়, তারাই মূলত সফলকাম।’ (সুরা তাগাবুন : ১৬)। হজরত জাবের (রা.) থেকে সহিহ মুসলিমে বর্ণিত, রাসূল (সা.) বলেন, ‘তোমরা কার্পণ্য থেকে দূরে থাক, এ কার্পণ্যই তোমাদের পূর্ব পুরুষদের ধ্বংস করেছে। এর কারণে তারা আপসে ঝগড়া বিবাদে লিপ্ত হয়েছে, হারাম কাজকে বৈধ বানিয়েছে।’ (মুসলিম)

হালাল হারাম মেনে চলা
একজন মুমিন সর্বদাই আল্লাহর আদেশ নিষেধ মেনে চলবে এমনটাই স্বাভাবিক। শুধু রমজানের জন্যই নয়, একজন মুসলিমের জন্য সর্বাবস্থায় হারাম ভক্ষণ করা কবিরা গুনাহ।
হাদিসে এসেছে, রাসূল (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘যে শরীর হারাম খাবার দ্বারা গঠিত তা জান্নাতে প্রবেশ করবে না।’ (তিরমিজি : ৬১৪)। পবিত্র রমজানের সিয়াম সাধনা ইসলামের অন্যতম ভিত্তি ও মহান আল্লাহর ফরজকৃত একটি বিধান ছিল। আমরা তা যথাযথভাবে আদায় করার চেষ্টা করেছি। এভাবেই প্রতিটি ক্ষেত্রে আমাদেরকে কুরআন ও সুন্নাহর বিধানগুলো মেনে চলতে হবে।
ইসলামের বিধি নিষেধের ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে। আল্লাহ তায়ালা যেসব হালাল করেছেন ও আদেশ করেছেন তা পালনে সচেষ্ট হতে হবে এবং যা থেকে নিষেধ করেছেন তা পরিহার করতে হবে। এটাই ঈমানের দাবি।

নামাজের ব্যাপারে যত্নবান হওয়া
ঈমান আনার পর প্রথম ফরজ বিধান হলো, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ সময়মত আদায় করা। রমজানে আমরা নামাজের ব্যাপারে অনেকটা যত্নবান হলেও রমজানের পর মসজিদে এই উপস্থিতি লক্ষ করা যায় না। কিন্তু নামাজ সর্বাবস্থায় একটি ফরজ বিধান। প্রাপ্তবয়স্ক হবার পর থেকে প্রত্যেক মুসলিম ব্যক্তির জন্য মৃত্যু পর্যন্ত পালনীয় বিধান। হাদিসে এসেছে, ‘কেয়ামতের দিন বান্দাকে সর্বপ্রথম নামাজের হিসাব গ্রহণ করা হবে। যদি তা সঠিক হয় তবে তার সকল আমলই
সঠিক হবে, আর যদি তা বাতিল হয় তবে তার সকল আমলই বাতিল হয়ে যাবে।’ (মুজামুল আওসাত : ১৮৫৬)।
তাই নামাজের ব্যাপারে আমাদের খুব যত্নবান হতে হবে। বাসা-বাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বা কর্মস্থলে সর্বাবস্থায় সবখানে পুরুষের জন্য পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ফরজ। সুতরাং রমজানের পরেও নামাজ আদায়ের ব্যাপারে কঠোর সচেতনতা অবলম্বন করতে হবে।

জীবনভর তাকওয়ার পথ অবলম্বন
রমজানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা ও তাৎপর্য হলো ‘তাকওয়া’ অর্জন। রমজানের রোজা পালনের অন্যতম উদ্দেশ্য সুরা বাকারায় আল্লাহ তায়ালা উল্লেখ করে বলেন, ‘যেন তোমরা তাকওয়া অর্জন করতে পারো।’ মুমিন জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ‘তাকওয়া’ বা ‘আল্লাহভীতি’। আমার প্রতিটি কাজে, প্রতিটি পদক্ষেপে মহান আল্লাহ সর্বদা দেখছেন।
প্রতিটি কর্মের জন্য তার কাছে জবাবদিহিতা করতে হবে এই অনুভূতি সর্বদা মনে দৃঢ়ভাবে জাগ্রত রাখা ও মহান রবের সকল প্রকার আদেশ নিষেধগুলো মেনে চলাই হলো তাকওয়া। মহান আল্লাহর কাছে সেই ব্যক্তিই সবচেয়ে দামি যে তাকওয়াবান। মহান আল্লাহ ইরশাদ করেন, ‘তোমাদের মধ্যে সে ব্যক্তিই আল্লাহর কাছে অধিক সম্মানী যে অধিক মুত্তাকি (আল্লহভীরু)। (সুরা হুজুরাত : ১৩)। আল্লাহ তায়ালা আমাদের সবাইকে রমজানের শিক্ষা সারা বছর অটুট রাখার তাওফিক দিন; বাকি এগারোটি মাস রমজানের এসব শিক্ষার ওপর যেন চলতে পারি ও আমল করতে পারি।


নামাজে টুপি খুলে পড়লে


নামাজে টুপি পরিধান করা সুন্নত। অবহেলা করে টুপি পরিধান না করে নামাজ পড়া মাকরুহ; যদিও নামাজ আদায় হয়ে যাবে। অনেক সময় নামাজ পড়া অবস্থায় রুকু বা সেজদায় যাওয়ার সময় টুপি মাথা থেকে পড়ে যায়। এমন হলে আবার মাথায় উঠিয়ে নেওয়া উত্তম। তবে নিয়ম হলো, টুপি মাথায় উঠাতে এক হাত ব্যবহার করা। তাহলে নামাজে কোনো সমস্যা হবে না। কিন্তু টুপি ওঠাতে দুই হাত ব্যবহার করলে আমলে কাসির হয়ে যাবে। তাতে নামাজ ভেঙে যাবে। (ফতোয়ায়ে কাজিখান : ১/১৩৫, রদ্দুল মুহতার : ১/৬৪০, ফতোয়ায়ে তাতারখানিয়া : ১/৫৬৫; আহসানুল ফতোয়া : ৩/৪২০)
ইসলামের আলো ডেস্ক





সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]