ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা বৃহস্পতিবার ৯ জুলাই ২০২০ ২৫ আষাঢ় ১৪২৭
ই-পেপার বৃহস্পতিবার ৯ জুলাই ২০২০

মুসলিম ঐতিহ্যের নিদর্শন বড় সোনা মসজিদ
মোস্তফা কামাল গাজী
প্রকাশ: শুক্রবার, ২৯ মে, ২০২০, ১২:০০ এএম | প্রিন্ট সংস্করণ  Count : 74

প্রাচীন পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী গৌড়ে মুসলিম ঐতিহ্যের অনন্য নিদর্শনগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো বড় সোনা মসজিদ। কালের সাক্ষী হয়ে সগর্বে দাঁড়িয়ে থাকা স্থাপত্যটি ভারতের গৌড়ের পুরনো স্থাপত্যগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড়। এর গম্বুজগুলোর ওপর সোনালি রঙের আস্তরণ থাকায় সোনা মসজিদ নামে প্রসিদ্ধি লাভ করে।
মসজিদটি নির্মাণ করা হয়েছে আলাউদ্দিন হোসেন শাহের শাসনামলের স্থাপত্যরীতিতে। মসজিদে প্রবেশ করতে হলে বিশালাকৃতির গেটের আশ্রয় নিতে হয়। তাজমহল ও আগ্রা ফোর্টের গেটের মতো বিশাল গেটটিতে রয়েছে অপূর্ব কারুকার্যের ছাপ। দেয়াল খোদাই করে আঁকা হয়েছে সুন্দর শিল্পকর্ম। গেটের কিছু অংশ ধসে পড়েছে ইতোমধ্যে। সংস্কার না করায় আস্তে আস্তে খসে পড়েছে আস্তরণ। গেটের আশপাশে কোনো সীমানা প্রাচীর নেই। খালি প্রান্তরে কেবল গেটটি মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে। গেট দিয়ে প্রবেশ করতেই চোখ জুড়িয়ে যায় সবুজের সমারোহ দেখে। মনে হয় যেন নৈসর্গিক নিকুঞ্জ। যত্ন করে ছোট্ট রাস্তার দুপাশে লাগানো হয়েছে ছোট্ট ছোট্ট গাছের সারি। গড়ে তোলা হয়েছে অপরূপ ফুলের বাগান। দেখলেই চোখ জুড়িয়ে যায়।
মসজিদটি এখন ধ্বংসাবশেষে পরিণত হয়েছে। একসময় এখানে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ হলেও এখন বিরান পড়ে আছে। দেয়াল ফুঁড়ে বেরিয়ে এসেছে লতাগুল্ম। মসজিদের ভেতরের ফ্লোরে গজিয়ে উঠেছে সবুজ গাছ। ভেঙে পড়েছে দেওয়াল। মসজিদের গম্বুজগুলোর ওপর সোনালি রঙের আস্তরণ ছিল বলে মসজিদের নাম হয় সোনা মসজিদ। গৌড় নগরীর উপকণ্ঠে ফিরোজপুর গ্রামে সোনালি রঙের আস্তরণযুক্ত আরেকটি সোনা মসজিদ ছিল।
সেটি ছিল আকারে ছোট। তাই এ মসজিদটিকে বলা হতো বড় সোনা মসজিদ, আর ফিরোজপুরেরটিকে বলা হতো ছোট সোনা মসজিদ। স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছে মসজিদটি ‘বারোদুয়ারি’ বলে পরিচিত। ‘বারদুয়ারি’ অর্থ হলো, ‘শ্রোতাদের মিলনায়তন’। মসজিদের সামনের ভাগের বিস্তৃত অঙ্গনই মসজিদের এ নামকরণের কারণ।
মসজিদের দেওয়াল ইটের গাঁথুনির ওপর পাথরের আস্তরণে নির্মিত। চার কোণে অষ্টভুজ বুরুজসহ আয়তাকার এ মসজিদের দৈর্ঘ্য ৫১.২ মিটার এবং প্রস্থ ২৩.১৫ মিটার। মসজিদের সম্মুখভাগে রয়েছে উত্তর-দক্ষিণ দিকে বিস্তৃত বারান্দা। সেখানে নির্মিত হয়েছে ১১টি খিলানযুক্ত প্রবেশপথ। উত্তর ও দক্ষিণ দিকে রয়েছে একটি করে প্রবেশপথ। মসজিদটি তিন কাতারবিশিষ্ট।
আয়তাকার পুরু স্তম্ভের ওপর স্থাপিত পেন্ডেন্টিভের ওপর বসানো আছে মোট ৪৪টি গম্বুজ। বর্তমানে কেবল বারান্দার ওপরের এবং মসজিদের দেওয়ালের ওপরের গম্বুজগুলো টিকে আছে। উত্তর-পশ্চিম কোণে একসময় একটি রাজকীয় গ্যালারি ছিল। ওপরে ছিল চারটি গম্বুজ। অন্যান্য মসজিদের মতো গ্যালারির প্রবেশপথগুলো ছিল বাইরের দিকে। মসজিদের ১১টি প্রবেশপথ বরাবর নির্মিত হয়েছে এগারোটি মিহরাব। কালের আবর্তে সবই এখন প্রায় ধ্বংসপ্রাপ্ত। মসজিদের পূর্ব ও উত্তর দিকের দুটো দরোজা এখনো অবশিষ্ট আছে। মাঝখান বরাবর খিলানপথ বিশিষ্ট দরোজা দুটো একই ধরনের।
মসজিদটি পাথর দ্বারা নির্মিত চতুষ্কোণ স্তম্ভ দ্বারা উত্তর-দক্ষিণে তিনটি আইলে ও পূর্ব-পশ্চিমে এগারটি সারিতে বিভক্ত। তিনটি আইলের উভয় দিকে তিনটি করে দরোজা আছে। একেবারে উত্তর দিকের তিনটি সারির উপর জেনানা মহল অবস্থিত। এতে চড়ার জন্য উত্তর দিকে সিঁড়িও আছে।
আলাউদ্দিন হোসেন শাহের রাজত্বকালের প্রথমদিকে তার কোনো বংশধরের বানানো ছোট সোনা মসজিদের সঙ্গে এই মসজিদের যথেষ্ট মিল রয়েছে।
এ দুই মসজিদের সাদৃশ্য এবং মসজিদ থেকে প্রাপ্ত শিলালিপিতে ১৫২৩ খ্রিস্টাব্দের উল্লেখ থেকে ধারণা করা হয়, আলাউদ্দিন হোসেন শাহের রাজত্বের শেষদিকে মসজিদটি নির্মিত হয়েছিল। আলাউদ্দিন হোসেন শাহ তার রাজত্বের শেষদিকে রামকেলির কাছাকাছি মূল শহরের উত্তর ও উত্তর-পশ্চিম দিকে বুজুর্গ হুসাইনাবাদ নামে একটি নগর প্রতিষ্ঠা করেন। অসম্পূর্ণ এ নগর বর্তমানে প্রায় বিলুপ্ত। কিন্তু নগরের অন্যতম নিদর্শন হিসেবে মসজিদটির ধ্বংসাবশেষ টিকে আছে এখনও। দেশ-বিদেশের হাজারো পর্যটক প্রতিদিন ভিড়
করে থাকেন পুরনো আমলের ঐতিহাসিক এই স্থাপনাটি দেখার জন্য।




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড-এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]